ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ঢাকা-৮ এ পরাজয়ের পর নাসির উদ্দীন পাটওয়ারীর সংসদে যাওয়ার সম্ভাবনা Logo নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে (ইসি) Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা Logo বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই সঙ্গে আজ গণভোট ও নির্বাচন Logo ভোট দিলেন ৫ লাখ ১৫ হাজার প্রবাসী পোস্টাল ব্যালটে Logo ডিজিটালে জামায়াত, রাজপথে দৃশ্যমান বিএনপি: শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ভিন্ন কৌশল Logo বিশ্বের প্রথম ‘জেন-জি প্রভাবিত নির্বাচন Logo নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা প্রতিহতে যৌথ বাহিনীর মহড়া অনুষ্ঠিত Logo ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধের বিষয়টি প্রত্যাহার করছে ইসি Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

উপস্থাপক হওয়ার প্রথম শর্ত একটাই শুরু করা: নাদিম শেখ আদর

নাদিম শেখ আদর
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৭:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৬৫৪ বার পড়া হয়েছে

সাংবাদিক নাদিম শেখ আদর

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সংবাদ উপস্থাপক হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা আসলে ক্যামেরা না, মাইক্রোফোন না, এমনকি কণ্ঠও না। বাধাটা আসে নিজের মনে।

অনেকে নিজেকে প্রশ্ন করে

  • আমি কি পারবো?
  • আমার কণ্ঠ তো ভালো না।
  • আমি তো খুব আত্মবিশ্বাসী না।
  • আমার উচ্চারণে ভুল হয়।

এই প্রশ্নগুলো নতুনদের প্রায় সবার মাথায় আসে। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এখানেই একটা সত্য পরিষ্কার করা দরকার। সংবাদ উপস্থাপক জন্মগত কেউ হয় না। সংবাদ উপস্থাপক তৈরি হয়।

অনেকেই মনে করে, “ভালো কণ্ঠ না হলে নিউজ রিডার হওয়া যায় না।” এটা অর্ধেক সত্য, অর্ধেক ভুল। ভারী কণ্ঠ অবশ্যই একটা প্লাস পয়েন্ট, কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়। সংবাদ উপস্থাপনায় সবচেয়ে জরুরি হলো পরিষ্কার উচ্চারণ, শব্দের উপর নিয়ন্ত্রণ আর বার্তা বোঝাতে পারা। এগুলো অনুশীলনের মাধ্যমে আসে।

আজ যাদের কণ্ঠ শুনে আপনি মুগ্ধ হন, তারাও একদিন নিজের কণ্ঠ শুনে বিরক্ত হয়েছেন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে খবর পড়তে গিয়ে আটকে গেছেন। রেকর্ড করা নিজের ভয়েস শুনে লজ্জা পেয়েছেন। পার্থক্য একটাই, তারা থেমে যাননি।

আরেকটা বড় ভয় হলো আত্মবিশ্বাস। ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে ভয় লাগে, জড়তা আসে। মনে রাখবেন, আত্মবিশ্বাস কোনো জাদু না যে একদিনে চলে আসবে। আত্মবিশ্বাস আসে প্রস্তুতি থেকে। আপনি যত বেশি পড়বেন, যত বেশি প্র্যাকটিস করবেন, ভয় তত কমবে।

উচ্চারণ ভুল হয়?

খুব ভালো। কারণ ভুল না হলে শেখাও হয় না। “শুদ্ধ উচ্চারণ” জন্মগত নয়, এটা শেখার বিষয়। আজ যারা নিখুঁত উচ্চারণ করেন, তারা একদিন “সংবাদ” শব্দটাই ঠিকভাবে বলতে পারতেন না।

সংবাদ উপস্থাপক হওয়ার জন্য সবচেয়ে দরকারি তিনটি জিনিস হলো:

  • শেখার ইচ্ছা
  • নিয়মিত অনুশীলন
  • এবং ধৈর্য

আপনি যদি শেখার জন্য প্রস্তুত থাকেন, তাহলে আপনার কণ্ঠকে ট্রেইন করা যাবে। আপনার উপস্থাপনাকে গুছানো যাবে। আপনার ভয়কে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

নিজেকে এই প্রশ্নটা করুন-

আমি কি চেষ্টা না করেই হাল ছেড়ে দিচ্ছি?

সংবাদ উপস্থাপনা শুধু সুন্দর কণ্ঠের খেলা নয়। এটা দায়িত্বের কাজ। সত্যটা স্পষ্টভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ। আপনি যদি দায়িত্বটা বুঝতে পারেন, তাহলে ধীরে ধীরে কণ্ঠ, ভঙ্গি, আত্মবিশ্বাস সবই আপনার আয়ত্তে আসবে।

আজ শুরু করলে আপনি এখনই সেরা হবেন না। কিন্তু শুরু না করলে কখনোই হবেন না।

তাই নিজেকে বলুন

  • আমি পারবো, কারণ আমি শিখতে চাই।
  • আমি পারবো, কারণ আমি চেষ্টা চালিয়ে যাবো।
  • আমি পারবো, কারণ কেউ জন্মগত পারফেক্ট না।

সংবাদ উপস্থাপক হওয়ার প্রথম শর্ত একটাই শুরু করা। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার সংবাদ উপস্থাপক হওয়ার যাত্রা আরো মসৃন হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

উপস্থাপক হওয়ার প্রথম শর্ত একটাই শুরু করা: নাদিম শেখ আদর

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

সংবাদ উপস্থাপক হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা আসলে ক্যামেরা না, মাইক্রোফোন না, এমনকি কণ্ঠও না। বাধাটা আসে নিজের মনে।

অনেকে নিজেকে প্রশ্ন করে

  • আমি কি পারবো?
  • আমার কণ্ঠ তো ভালো না।
  • আমি তো খুব আত্মবিশ্বাসী না।
  • আমার উচ্চারণে ভুল হয়।

এই প্রশ্নগুলো নতুনদের প্রায় সবার মাথায় আসে। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এখানেই একটা সত্য পরিষ্কার করা দরকার। সংবাদ উপস্থাপক জন্মগত কেউ হয় না। সংবাদ উপস্থাপক তৈরি হয়।

অনেকেই মনে করে, “ভালো কণ্ঠ না হলে নিউজ রিডার হওয়া যায় না।” এটা অর্ধেক সত্য, অর্ধেক ভুল। ভারী কণ্ঠ অবশ্যই একটা প্লাস পয়েন্ট, কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়। সংবাদ উপস্থাপনায় সবচেয়ে জরুরি হলো পরিষ্কার উচ্চারণ, শব্দের উপর নিয়ন্ত্রণ আর বার্তা বোঝাতে পারা। এগুলো অনুশীলনের মাধ্যমে আসে।

আজ যাদের কণ্ঠ শুনে আপনি মুগ্ধ হন, তারাও একদিন নিজের কণ্ঠ শুনে বিরক্ত হয়েছেন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে খবর পড়তে গিয়ে আটকে গেছেন। রেকর্ড করা নিজের ভয়েস শুনে লজ্জা পেয়েছেন। পার্থক্য একটাই, তারা থেমে যাননি।

আরেকটা বড় ভয় হলো আত্মবিশ্বাস। ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে ভয় লাগে, জড়তা আসে। মনে রাখবেন, আত্মবিশ্বাস কোনো জাদু না যে একদিনে চলে আসবে। আত্মবিশ্বাস আসে প্রস্তুতি থেকে। আপনি যত বেশি পড়বেন, যত বেশি প্র্যাকটিস করবেন, ভয় তত কমবে।

উচ্চারণ ভুল হয়?

খুব ভালো। কারণ ভুল না হলে শেখাও হয় না। “শুদ্ধ উচ্চারণ” জন্মগত নয়, এটা শেখার বিষয়। আজ যারা নিখুঁত উচ্চারণ করেন, তারা একদিন “সংবাদ” শব্দটাই ঠিকভাবে বলতে পারতেন না।

সংবাদ উপস্থাপক হওয়ার জন্য সবচেয়ে দরকারি তিনটি জিনিস হলো:

  • শেখার ইচ্ছা
  • নিয়মিত অনুশীলন
  • এবং ধৈর্য

আপনি যদি শেখার জন্য প্রস্তুত থাকেন, তাহলে আপনার কণ্ঠকে ট্রেইন করা যাবে। আপনার উপস্থাপনাকে গুছানো যাবে। আপনার ভয়কে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

নিজেকে এই প্রশ্নটা করুন-

আমি কি চেষ্টা না করেই হাল ছেড়ে দিচ্ছি?

সংবাদ উপস্থাপনা শুধু সুন্দর কণ্ঠের খেলা নয়। এটা দায়িত্বের কাজ। সত্যটা স্পষ্টভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ। আপনি যদি দায়িত্বটা বুঝতে পারেন, তাহলে ধীরে ধীরে কণ্ঠ, ভঙ্গি, আত্মবিশ্বাস সবই আপনার আয়ত্তে আসবে।

আজ শুরু করলে আপনি এখনই সেরা হবেন না। কিন্তু শুরু না করলে কখনোই হবেন না।

তাই নিজেকে বলুন

  • আমি পারবো, কারণ আমি শিখতে চাই।
  • আমি পারবো, কারণ আমি চেষ্টা চালিয়ে যাবো।
  • আমি পারবো, কারণ কেউ জন্মগত পারফেক্ট না।

সংবাদ উপস্থাপক হওয়ার প্রথম শর্ত একটাই শুরু করা। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার সংবাদ উপস্থাপক হওয়ার যাত্রা আরো মসৃন হোক।