নরমাংসভোজী উৎসবেও লিপ্ত হতো জেফরি এপস্টাইন
- আপডেট সময় : ১২:৩৪:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৫৪১ বার পড়া হয়েছে
কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন মামলার নতুন করে ফাঁস হওয়া নথিতে (Epstein Files) উঠে এসেছে স্তম্ভিত করে দেওয়ার মতো নৃশংস সব তথ্য। ২০২৬ সালের লাখ লাখ পৃষ্ঠার নথি, হাজার হাজার ফটো ও ভিডিওর মাধ্যমে ফাঁস করা তথ্যে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের প্রভাবশালী ধনকুবের এবং এলিট শ্রেণির ব্যক্তিরা এপস্টাইনের প্রমোদতরী ও পার্টিগুলোতে কেবল শিশুদের যৌন নিপীড়নই করতো না, বরং শিশুদের মাংস খাওয়ার মতো জঘন্য ‘নরমাংসভোজী’ উৎসবেও লিপ্ত হতো।
নথিতে অন্তর্ভুক্ত একজন সাক্ষীর জবানবন্দি থেকে জানা যায় এক নারকীয় অভিজ্ঞতার কথা। ওই সাক্ষী দাবি করেন, তিনি একটি ব্যক্তিগত ইয়টে (বিলাসবহুল নৌযান) অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের শিশুদের শরীর টুকরো টুকরো করে তার মাংস খেতে দেখেছেন। শুধু তাই নয়, নৃশংসতার সীমা ছাড়িয়ে তিনি সেখানে উপস্থিত কিছু ব্যক্তিকে শিশুদের নাড়িভুঁড়ি ও মল ভক্ষণ করতেও দেখেছেন বলে দাবি করেন।
আরও চাঞ্চল্যকরভাবে, ওই সাক্ষী সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ (জর্জ বুশ সিনিয়র)-এর বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন।
মডেল গ্যাব্রিয়েলা রিকোর সেই রহস্যময় অন্তর্ধান
এই ভয়াবহ তথ্যের সঙ্গে ২০০৯ সালের একটি ঘটনার যোগসূত্র এখন নতুন করে আলোচনায়। ২১ বছর বয়সী কার্কিন তরুণী মডেল গ্যাব্রিয়েলা রিকো জিমেনেজ ধনকুবেরদের একটি পার্টি থেকে ফিরে এসে আতঙ্কে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে জনসম্মুখে চিৎকার করে বলেছিলেন, ‘‘তারা মানুষ খেয়েছে, তারা নরমাংস খেয়েছে! আমি এসব খুনের ব্যাপারে কিছুই জানতাম না’’। তখন চিৎকার করে তিনি সব বললেও মানুষ তখন তা বিশ্বাস করেনি।
ভিডিওতে ধারণকৃত সেই আর্তনাদই ছিল গ্যাব্রিয়েলার শেষ প্রকাশ্য উপস্থিতি। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং রহস্যজনকভাবে তিনি চিরতরে গুম হয়ে যান। প্রায় দুই যুগ পার হতে চললেও আজ পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ মেলেনি। ২০২৬ সালের এই নতুন ফাইল লিক হওয়ার পর গ্যাব্রিয়েলার সেই দাবিগুলো এখন ধ্রুব সত্য হিসেবে সামনে আসছে।
এপস্টাইন ফাইলের একটি ছবিতে দেখা গেছে, খাবার পাত্রে দুটো মুরগির রোস্টের সঙ্গে একটি মানুষের (শিশুর) পায়ের অংশ (লেগপিস) সাজানো রয়েছে—যা এই বীভৎসতাকে আরও জোরালোভাবে ফুটিয়ে তোলে।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা এবং অর্থের দাপটে পর্দার আড়ালে মানবতার বিরুদ্ধে যে কতটা নৃশংস অপরাধ সংঘটিত হতে পারে, এপস্টাইন ফাইল তার একটি হিমশৈলের চূড়া মাত্র। দুই দশক আগের সেই ঘটনাগুলো আজও বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, অন্ধকার জগতের এই পৈশাচিকতা হয়তো আজও পুরোপুরি থেমে নেই।


























































