দুর্ভিক্ষের মুখে দক্ষিণ সুদান, মৃত্যুর ঝুঁকিতে ৭ লাখ শিশু
জাতিগত দাঙ্গা আর সংঘাতের ফলে দুর্ভিক্ষের মুখে দক্ষিণ সুদান। দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে ৭ লাখ শিশু। এই মানবিক বিপর্যয় উদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
জাতিগত দাঙ্গা আর সংঘাতের ফলে দুর্ভিক্ষের মুখে দক্ষিণ সুদান। দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে ৭ লাখ শিশু। এই মানবিক বিপর্যয় উদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
২০১১ সালের গণভোটের পর সুদান থেকে আলাদা হয়ে গঠন হয় দক্ষিণ সুদান। তবে জাতিগত সংঘাত আর জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের দরিদ্রতম রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে দেশটি।
বেসরকারি সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেইজ ক্লাসিফিকেশন, আইপিসি এর তথ্যমতে, তীব্র অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছে দক্ষিণ সুদানের প্রায় ৮০ লাখ মানুষ। জুলাইয়ের মধ্যে এ সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ সুদানের কান্ট্রি ডিরেক্টর আধাম এফেন্দি বলেন, ‘দেশব্যাপী সংঘাতে নারী ও শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাই জরুরি সহায়তা ছাড়া সবার ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়বে।’
দক্ষিণ সুদানের মোট জনসংখ্যার ৫৫ শতাংশ মৌলিক খাদ্য চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। এর মধ্যে অনাহার, তীব্র অপুষ্টি ও মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ৭৩ হাজার মানুষ।
পর্যাপ্ত পুষ্টি ও চিকিৎসার অভাবে রয়েছ প্রায় ১২ লাখ মা, গর্ভবতী নারী ও অন্তত ২২ লাখ শিশু। এদের প্রায় সবার বয়স পাঁচ বছরের কম।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, জাতিগত দাঙ্গার সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আপার নাইল ও জংলেই রাজ্য। এসব অঞ্চল সর্বোচ্চ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আইপিসি।
পরিস্থিতির জন্য চলমান সহিংসতার পাশাপাশি খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, রোগের প্রাদুর্ভাব, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের অভাবকে দায়ী করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত সহায়তা ও তহবিলের ঘাটতির কারণে আরও তীব্র হচ্ছে এই মানবিক সংকট।