ঢাকা ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo অনুমোদনবিহীন মাদক সিসা ও সিসা লাউঞ্জ বন্ধে ব্যবস্থা Logo শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একাধিক ফ্লাইট বাতিল Logo অগ্নিঝরা মার্চ স্বাধীনতার মাস মার্চ Logo সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের নিবন্ধন সম্পন্ন, রেজিস্ট্রেশন নম্বর S-14517 Logo নরসিংদী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রশ্ন হাসনাত আবদুল্লাহ-র Logo তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত কর‌তে আগ্রহী পা‌কিস্তা‌নের প্রধানমন্ত্রী Logo বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ Logo ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না যে ৬ শ্রেণির মানুষ Logo পালিত হবে ‘শহীদ সেনা দিবস’ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

তৃণমূলের আস্থার তরঙ্গ: সংরক্ষিত নারী আসনে দিনাজপুরের হাসনা হেনা হীরা আলোচনার কেন্দ্রে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • / ৫০১ বার পড়া হয়েছে

ছবি : দেশবর্ন ।

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ আইনুল ইসলাম,
দিনাজপুর প্রতিনিধি।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে, তখন বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী সংরক্ষিত ৫০টি আসন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে-বাইরে আলোচনা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। সম্ভাব্য আসন বণ্টনের সমীকরণে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ঝুলিতে যেতে পারে বড় অংশ। ফলে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৎপরতা স্বাভাবিকভাবেই দৃশ্যমান।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি বলে দায়িত্বশীল একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন, তবুও সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার বিবরণ প্রস্তুত করছেন।
দিনাজপুরে আলোচনার কেন্দ্রে হাসনা হেনা হীরা
এই প্রেক্ষাপটে দিনাজপুরে যাঁর নাম বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি জেলা বিএনপির নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক হাসনা হেনা হীরা। দক্ষিণ বালুবাড়ী ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হীরা দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্থানীয়ভাবে তিনি পরিচিত একজন সংগঠক হিসেবে, যিনি মাঠপর্যায়ের কর্মসূচিতে সক্রিয় উপস্থিতি রেখেছেন।
তার পারিবারিক ও সামাজিক পরিচিতিও আলোচনায় এসেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র দক্ষিণ বালুবাড়ীর বাসভবন ‘তৈয়বা ভিলা’র প্রতিবেশী হিসেবে একই এলাকায় তার বেড়ে ওঠা রাজনৈতিকভাবে প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন। তাদের ভাষায়, আদর্শিক অনুপ্রেরণা ও ভৌগোলিক সান্নিধ্য—দুটি বিষয়ই তার রাজনৈতিক পরিচিতিকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
শিক্ষাজীবনে মাধ্যমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত পড়াশোনা সম্পন্ন করে ছাত্ররাজনীতি থেকেই সক্রিয় অংশগ্রহণ শুরু করেন হীরা। দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা তাকে তৃণমূল পর্যায়ে পরিচিত মুখে পরিণত করেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
তৃণমূলের সমর্থন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
জেলা বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় নবীন ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সমন্বয় হতে পারে। তরুণ, শিক্ষিত এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেত্রীদের গুরুত্ব দেওয়ার আলোচনা রয়েছে বলেও জানা গেছে।
হাসনা হেনা হীরা বলেন, “বহুদলীয় গণতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে আদর্শ, তা আমাকে রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত করেছে। দল যদি আমাকে উপযুক্ত মনে করে, তবে তৃণমূলের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন শুধু আনুগত্যের বিষয় নয়; বরং সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ই এখানে মুখ্য হয়ে ওঠে। দিনাজপুরের প্রেক্ষাপটে হাসনা হেনা হীরার নাম আলোচনায় আসা সেই বৃহত্তর সমীকরণেরই অংশ।
সব মিলিয়ে, সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো ঘোষিত হয়নি। তবে তৃণমূলের আলোচনায় উঠে আসা নামগুলো ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বিন্যাসে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।
প্রতিবেদনটি প্রস্তুতকালে সংশ্লিষ্ট একাধিক দলীয় ও স্থানীয় সূত্রের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হলে পরবর্তী আপডেট জানানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তৃণমূলের আস্থার তরঙ্গ: সংরক্ষিত নারী আসনে দিনাজপুরের হাসনা হেনা হীরা আলোচনার কেন্দ্রে

আপডেট সময় : ০৩:১৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

মোঃ আইনুল ইসলাম,
দিনাজপুর প্রতিনিধি।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে, তখন বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী সংরক্ষিত ৫০টি আসন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে-বাইরে আলোচনা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। সম্ভাব্য আসন বণ্টনের সমীকরণে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ঝুলিতে যেতে পারে বড় অংশ। ফলে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৎপরতা স্বাভাবিকভাবেই দৃশ্যমান।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি বলে দায়িত্বশীল একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন, তবুও সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার বিবরণ প্রস্তুত করছেন।
দিনাজপুরে আলোচনার কেন্দ্রে হাসনা হেনা হীরা
এই প্রেক্ষাপটে দিনাজপুরে যাঁর নাম বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি জেলা বিএনপির নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক হাসনা হেনা হীরা। দক্ষিণ বালুবাড়ী ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হীরা দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্থানীয়ভাবে তিনি পরিচিত একজন সংগঠক হিসেবে, যিনি মাঠপর্যায়ের কর্মসূচিতে সক্রিয় উপস্থিতি রেখেছেন।
তার পারিবারিক ও সামাজিক পরিচিতিও আলোচনায় এসেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র দক্ষিণ বালুবাড়ীর বাসভবন ‘তৈয়বা ভিলা’র প্রতিবেশী হিসেবে একই এলাকায় তার বেড়ে ওঠা রাজনৈতিকভাবে প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন। তাদের ভাষায়, আদর্শিক অনুপ্রেরণা ও ভৌগোলিক সান্নিধ্য—দুটি বিষয়ই তার রাজনৈতিক পরিচিতিকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
শিক্ষাজীবনে মাধ্যমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত পড়াশোনা সম্পন্ন করে ছাত্ররাজনীতি থেকেই সক্রিয় অংশগ্রহণ শুরু করেন হীরা। দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা তাকে তৃণমূল পর্যায়ে পরিচিত মুখে পরিণত করেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
তৃণমূলের সমর্থন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
জেলা বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় নবীন ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সমন্বয় হতে পারে। তরুণ, শিক্ষিত এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেত্রীদের গুরুত্ব দেওয়ার আলোচনা রয়েছে বলেও জানা গেছে।
হাসনা হেনা হীরা বলেন, “বহুদলীয় গণতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে আদর্শ, তা আমাকে রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত করেছে। দল যদি আমাকে উপযুক্ত মনে করে, তবে তৃণমূলের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন শুধু আনুগত্যের বিষয় নয়; বরং সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ই এখানে মুখ্য হয়ে ওঠে। দিনাজপুরের প্রেক্ষাপটে হাসনা হেনা হীরার নাম আলোচনায় আসা সেই বৃহত্তর সমীকরণেরই অংশ।
সব মিলিয়ে, সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো ঘোষিত হয়নি। তবে তৃণমূলের আলোচনায় উঠে আসা নামগুলো ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বিন্যাসে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।
প্রতিবেদনটি প্রস্তুতকালে সংশ্লিষ্ট একাধিক দলীয় ও স্থানীয় সূত্রের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হলে পরবর্তী আপডেট জানানো হবে।