সংবাদ শিরোনাম ::
খালি পেট থাকার পর ধূমপান করলে শরীর আসলে কী সহ্য করে ?
প্রতিনিধির নাম
- আপডেট সময় : ০৫:২০:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
- / 41
সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যায় আজানের ধ্বনি শোনামাত্র পানি, খেজুর… আর অনেকের হাতে উঠে আসে সিগারেট। “একটা টান না দিলে যেন ইফতার সম্পূর্ণ হয় না!”—এমন ভাবনাও আছে কারও কারও। কিন্তু দীর্ঘ সময় খালি পেট থাকার পর ধূমপান করলে শরীর আসলে কী সহ্য করে? চলুন সহজ ভাষায়, একটু রম্য ঢঙে কিন্তু গবেষণার আলোকে বিষয়টা বুঝে নেই।
১) নিকোটিনের দ্রুত শোষণ: মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড়
সারাদিন না খেয়ে থাকার পর রক্তে শর্করা তুলনামূলক কম থাকে। এ সময় সিগারেটের নিকোটিন খুব দ্রুত রক্তে মিশে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, খালি পেটে ধূমপান করলে নিকোটিনের শোষণ দ্রুততর হতে পারে—ফলে
মাথা ঘোরা
বুক ধড়ফড়
হালকা বমিভাব
হাত কাঁপা
এগুলো বেশি করে দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ ইফতারের পর “রিল্যাক্স” ভাব আসার বদলে শরীর পায় “শক”।
২) গ্যাস্ট্রিক ও আলসারের ঝুঁকি
দীর্ঘক্ষণ খালি পেট থাকলে পাকস্থলীতে অ্যাসিড জমে। সেই অবস্থায় ধূমপান করলে—
অ্যাসিড নিঃসরণ আরও বেড়ে যায়
পাকস্থলীর সুরক্ষাবর্ম দুর্বল হয়
আলসারের ঝুঁকি বাড়ে
বিভিন্ন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় ধূমপানকে আলসার ও অ্যাসিড রিফ্লাক্সের অন্যতম ঝুঁকির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই ইফতারের পর সিগারেট মানে গ্যাস্ট্রিকের ওপর বাড়তি আগুনে ঘি ঢালা।
৩) হার্টের ওপর চাপ
রোজার সময় শরীর একধরনের ‘লো-পাওয়ার মোডে’ থাকে। হঠাৎ নিকোটিন ঢুকলে—
রক্তচাপ বেড়ে যায়
হার্ট রেট বাড়ে
রক্তনালী সঙ্কুচিত হয়
কার্ডিওভাসকুলার গবেষণায় প্রমাণ আছে, ধূমপানের প্রতিটি সিগারেট সাময়িকভাবে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ বাড়ায়। খালি পেটের পরপরই ধূমপান করলে এই চাপ আরও বেশি অনুভূত হতে পারে।
৪) পানিশূন্যতা বাড়ায়
সারাদিন পানি না খাওয়ায় শরীর কিছুটা ডিহাইড্রেটেড থাকে। ধূমপান শরীরের পানিশূন্যতা বাড়াতে পারে এবং মুখ-গলা আরও শুকিয়ে দেয়। ফলে
মাথাব্যথা
দুর্বলতা
ত্বক শুষ্কতা
এগুলো তীব্র হতে পারে।
৫) আসক্তি আরও শক্ত হয়
রোজার সময় দীর্ঘ বিরতির পর সিগারেট নিলে মস্তিষ্কে ডোপামিনের ‘হাই’ বেশি তীব্র লাগে। গবেষণায় দেখা যায়, দীর্ঘ বিরতির পর নিকোটিন গ্রহণ করলে রিওয়ার্ড সিস্টেম বেশি উত্তেজিত হয়—ফলে আসক্তি আরও গভীর হতে পারে। অর্থাৎ “আজকে শুধু একটা” বলতে বলতে অভ্যাস আরও শক্ত হয়।
তাহলে কী করবেন?
ইফতারের পর ধূমপান এড়িয়ে চলুন একেবারেই সম্ভব না হলে কমপক্ষে ২-৩ ঘন্টা ব্রেক দিয়ে চেষ্টা করুন।
প্রচুর পানি পান করুন।
ফল, খেজুর, হালকা প্রোটিন দিয়ে ইফতার শুরু করুন।
ধীরে ধীরে সিগারেটের সংখ্যা কমান—পবিত্র রমজান মাস হতে পারে ছাড়ার সেরা সময়।
নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (ডাক্তারি পরামর্শে) বিবেচনা করতে পারেন।
ইফতারের সময় শরীর বলে, “দয়া করে আমাকে পানি আর পুষ্টি দিন।”
আর আমরা যদি দিই, “এই নাও নিকোটিন!”—তাহলে শরীরের উত্তরটা খুব সুখকর হওয়ার কথা নয়!
ইফতারের পর ধূমপান শুধু ফুসফুস নয়—পাকস্থলী, হৃদযন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র—সবকিছুর ওপর বাড়তি চাপ ফেলে। দীর্ঘ সময় খালি পেট থাকার পর সিগারেটের প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে—এ কথা বিভিন্ন স্বাস্থ্য গবেষণায় ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাই রোজা মাসকে বানান নতুন শুরুর সুযোগ—কমপক্ষে ইফতারের সঙ্গে সিগারেটের “বন্ধুত্ব” ভেঙে দিন।































































