প্রথম ভিডিওতে এমপি সমালোচনা, পরেরটিতে হাত জোড় করে ক্ষমা
- আপডেট সময় : ১০:৫১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
- / 41
প্রতিবেদন: আবির মোহাম্মদ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রথম ভিডিওতে স্থানীয় কৃষকদের সংসদ সদস্যকে (এমপি) নিয়ে সমালোচনা করতে দেখা গেলেও, পরদিন প্রকাশিত দ্বিতীয় ভিডিওতে তাঁদের মধ্যে তিনজনকে আগের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে দেখা যায়।
ঘটনাটি ঘটেছে তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরসংলগ্ন শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের লামাগাঁও গ্রামে। জানা গেছে, সম্প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় হাওর এলাকার ফসল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন স্থানীয় কৃষকেরা।
গত সোমবার রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া প্রথম ভিডিওতে কৃষক আজিজুল ইসলাম (৪২), আশ্বাব উদ্দিন (৫৫), রাসেল আহমদ (৪০)সহ আরও একজনকে হাওরের মধ্যে দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখা যায়। তাঁরা জলাবদ্ধতায় ফসলের ক্ষতির কথা তুলে ধরে স্থানীয় এমপি কামরুজ্জামান কামরুলের সমালোচনা করেন। একপর্যায়ে একজন কৃষককে এমপিকে উদ্দেশ করে কটূক্তি করতেও শোনা যায়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর পরদিন মঙ্গলবার রাতে আরেকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে প্রথম ভিডিওতে থাকা কৃষকদের মধ্যে তিনজনকে একটি ঘরে দাঁড়িয়ে হাত জোড় করে আগের বক্তব্যের জন্য এমপি ও এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। ভিডিওতে তাঁদের মুখে ভয়ের ছাপ লক্ষ্য করা গেছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালি এলাকায় পানি ঢুকে ফসলের ক্ষতি হয়। তবে পাশের কলমার হাওরের বাঁধ ঝুঁকিতে পড়লে গ্রামবাসী এমপির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন তিনি জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের জন্য অর্থ সহায়তার ঘোষণা দেন, যার ফলে ওই এলাকার ফসল রক্ষা করা সম্ভব হয়।
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য মিসবাহ উদ্দিন জানান, প্রথম ভিডিও প্রকাশের পর গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কৃষকেরাই স্বেচ্ছায় ক্ষমা চাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কৃষক আজিজুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে এমপি কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, বিষয়টি তিনি পরে জেনেছেন এবং মানুষের সমালোচনাকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখেন।
এদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সুনামগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম এ ঘটনাকে ‘নোংরা রাজনীতি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, দরিদ্র কৃষকদের আবেগকে ব্যবহার করে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা এবং পরে তাদের দিয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা—উভয় ঘটনাই তদন্ত করে দেখা উচিত।
























































