ঢাকা ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা, খুলেছে ২০৪ আশ্রয়কেন্দ্র Logo এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলায় খুলনায় প্রতিবাদ মিছিল Logo হরিপুরে সরকারি সহায়তা পেলেন রোগী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও প্রতিবন্ধীরা Logo প্রত্যয় সংগঠনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন পিএবিএম-এর উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া Logo বিএডিসিতে গণবদলি নিয়ে তোলপাড়: চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা Logo মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে কাজী নজরুলকে প্রধান দিশারি হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo স্টেডফাস্ট কুরিয়ার কার্যালয় পরিদর্শনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, শান্তিপূর্ণ সমাধানে আইনানুগ নির্দেশনা Logo সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাকোপে কে.সি. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠিত Logo জৈব সারের নামে বর্জ্য বিতরণ, বদলি করা হয়েছে কামারখন্দের সেই কৃষি কর্মকর্তাকে Logo সুপারভাইজার বলেছিল ‘তুই মরলেও ছুটি নাই’

মায়েরা কখনও হিসাব রাখে না : এস এম আজাদ হোসেন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • / 63
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

আজ শেষ চাবিটাও তুলে দিলাম

যাদের জন্য সারাজীবন দরজা খুলে রেখেছিলাম।

স্বামীর রেখে যাওয়া প্রতিটি আমানত

সন্তানদের হাতে তুলে দিয়ে নিঃশব্দে বললাম-

আলহামদুলিল্লাহ,আমার দায়িত্ব শেষ।

 

ত্রিশটি বছর…ক্যালেন্ডারের কাছে

হয়তো মাত্র কিছু সংখ্যা,

কিন্তু একজন মায়ের কাছে

এগুলো হাজারো নির্ঘুম রাত,

অগণিত না-পাওয়া,অসংখ্য বিসর্জনের নাম।

 

স্বামী চলে যাওয়ার দিন আমি বিধবা হইনি,

আমি হয়ে গিয়েছিলাম একটি সংসারের ছাদ,

একটি সন্তানের সাহস,

একটি পরিবারের শেষ আশ্রয়।

 

আমার চোখেও জল ছিল,

কিন্তু সে জলকে আমি সন্তানদের স্বপ্নের সামনে

কখনো দাঁড়াতে দিইনি।

নিজের ইচ্ছেগুলোএক এক করে কবর দিয়েছি,

শুধু ওদের ভবিষ্যৎটাবেঁচে থাকুক বলে।

 

আজ যখন সব ভাগ করে দিলাম,তখন বুঝলাম-

আমার কাছে আর কিছু নেই…

না,একটা জিনিস এখনও আছে-

প্রতিটি সন্তানের জন্য একজন মায়ের নিঃস্বার্থ দোয়া।

 

অদ্ভুত এই পৃথিবী!

যে মানুষটি নিজেকে শেষ করে

সবাইকে পূর্ণ করে,

অভিযোগের তীরও সবচেয়ে বেশি

তাকেই বিদ্ধ করে।

 

তবু আমি অভিমান করিনি।

কারণ মায়েরা জানে,

অভিমানের চেয়ে ক্ষমা অনেক বড়,

আর ভালোবাসার চেয়ে

কোনো উত্তর বড় নয়।

 

আজ আমার ঘর নীরব,আলমারি ফাঁকা,

হাত দুটি অবসর নিয়েছে-

কিন্তু আমার রব জানেন,

আমি কখনো দায়িত্ব থেকে পালাইনি।

 

হে আল্লাহ,আমার সন্তানদের সুখের আকাশ

আরও বড় করে দিন।

তাদের জীবনের সব কষ্ট

আমার ভাগে লিখে দিন,

তবু তাদের চোখে

এক ফোঁটা অশ্রুও যেন না আসে।

 

কারণ,মায়েরা সম্পত্তি ভাগ করে দিতে পারে,

কিন্তু ভালোবাসা কখনও ভাগ করে দেয় না।

সেটা মৃত্যুর আগের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত

একই রকম পূর্ণ থাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মায়েরা কখনও হিসাব রাখে না : এস এম আজাদ হোসেন

আপডেট সময় : ১১:৩৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

 

আজ শেষ চাবিটাও তুলে দিলাম

যাদের জন্য সারাজীবন দরজা খুলে রেখেছিলাম।

স্বামীর রেখে যাওয়া প্রতিটি আমানত

সন্তানদের হাতে তুলে দিয়ে নিঃশব্দে বললাম-

আলহামদুলিল্লাহ,আমার দায়িত্ব শেষ।

 

ত্রিশটি বছর…ক্যালেন্ডারের কাছে

হয়তো মাত্র কিছু সংখ্যা,

কিন্তু একজন মায়ের কাছে

এগুলো হাজারো নির্ঘুম রাত,

অগণিত না-পাওয়া,অসংখ্য বিসর্জনের নাম।

 

স্বামী চলে যাওয়ার দিন আমি বিধবা হইনি,

আমি হয়ে গিয়েছিলাম একটি সংসারের ছাদ,

একটি সন্তানের সাহস,

একটি পরিবারের শেষ আশ্রয়।

 

আমার চোখেও জল ছিল,

কিন্তু সে জলকে আমি সন্তানদের স্বপ্নের সামনে

কখনো দাঁড়াতে দিইনি।

নিজের ইচ্ছেগুলোএক এক করে কবর দিয়েছি,

শুধু ওদের ভবিষ্যৎটাবেঁচে থাকুক বলে।

 

আজ যখন সব ভাগ করে দিলাম,তখন বুঝলাম-

আমার কাছে আর কিছু নেই…

না,একটা জিনিস এখনও আছে-

প্রতিটি সন্তানের জন্য একজন মায়ের নিঃস্বার্থ দোয়া।

 

অদ্ভুত এই পৃথিবী!

যে মানুষটি নিজেকে শেষ করে

সবাইকে পূর্ণ করে,

অভিযোগের তীরও সবচেয়ে বেশি

তাকেই বিদ্ধ করে।

 

তবু আমি অভিমান করিনি।

কারণ মায়েরা জানে,

অভিমানের চেয়ে ক্ষমা অনেক বড়,

আর ভালোবাসার চেয়ে

কোনো উত্তর বড় নয়।

 

আজ আমার ঘর নীরব,আলমারি ফাঁকা,

হাত দুটি অবসর নিয়েছে-

কিন্তু আমার রব জানেন,

আমি কখনো দায়িত্ব থেকে পালাইনি।

 

হে আল্লাহ,আমার সন্তানদের সুখের আকাশ

আরও বড় করে দিন।

তাদের জীবনের সব কষ্ট

আমার ভাগে লিখে দিন,

তবু তাদের চোখে

এক ফোঁটা অশ্রুও যেন না আসে।

 

কারণ,মায়েরা সম্পত্তি ভাগ করে দিতে পারে,

কিন্তু ভালোবাসা কখনও ভাগ করে দেয় না।

সেটা মৃত্যুর আগের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত

একই রকম পূর্ণ থাকে।