ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস Logo দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা, নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ Logo প্রত্যেক উপজেলায় সংসদ সদস্যদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ বরাদ্দ   Logo হরমুজ এড়িয়ে সৌদি থেকে তেল নিয়ে চট্টগ্রাম আসছে জাহাজ Logo জ্বালানি সাশ্রয়ে বুধ-বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারকাজ চলবে ভার্চুয়ালি

UV নীরবে ক্ষতি করে যেতে পারে শিশুদের ত্বকেও

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪১:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • / 43
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাচ্চাদের ত্বক মানেই তুলতুলে, নরম আর অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কিন্তু এই কোমল ত্বকেই যখন কড়া রোদের প্রভাব পড়ে, তখন বিপদটা শুধু গায়ের রঙের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বড়দের মতো শিশুদের ত্বকেও সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV) নীরবে ক্ষতি করে যেতে পারে।

তবে অনেকেই একটি বড় ভুল করে বসেন, বড়দের জন্য ব্যবহৃত সানস্ক্রিনই শিশুদের ত্বকে লাগিয়ে দেন। অথচ বড়দের সানস্ক্রিন আর শিশুদের সানস্ক্রিন এক নয়। না জেনে ভুল ক্রিম ব্যবহার করলে উল্টো ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

অনেক বাবা-মা মনে করেন, জন্মের পর থেকেই শিশুদের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যায়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬ মাসের কম বয়সি শিশুদের সরাসরি কড়া রোদে না বের করাই ভালো। এ বয়সে সানস্ক্রিনের বদলে ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরানো এবং যতটা সম্ভব ছায়ায় রাখা বেশি নিরাপদ। তবে শিশুর বয়স ৬ মাস পার হলে তখন থেকে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

সানস্ক্রিন কেনার ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি। শুধু দামি ব্র্যান্ড দেখেই কিনে ফেললে চলবে না। শিশুদের জন্য ‘মিনারেল’ সানস্ক্রিন বেছে নেওয়াই বেশি নিরাপদ। কারণ এ ধরনের সানস্ক্রিনে সাধারণত জিঙ্ক অক্সাইড (Zinc Oxide) বা টাইটানিয়াম ডাইঅক্সাইড (Titanium Dioxide) থাকে। এসব উপাদান ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করে না; বরং ত্বকের ওপর একটি অদৃশ্য স্তর তৈরি করে সূর্যের রশ্মিকে প্রতিফলিত করে দেয়।

অন্যদিকে বড়দের অনেক কেমিক্যাল সানস্ক্রিনে অক্সিবেঞ্জোন (Oxybenzone) এর মতো উপাদান থাকতে পারে, যা শিশুদের সংবেদনশীল ত্বকে অ্যালার্জি বা হরমোনজনিত সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই সানস্ক্রিন কেনার আগে প্যাকেটের গায়ে ‘Paraben-free’ ও ‘Fragrance-free’ লেখা আছে কি না, তা অবশ্যই দেখে নেওয়া উচিত।

শুধু ঘুরতে যাওয়ার সময় সানস্ক্রিন লাগালেই হবে না। রোদে বের হওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে এটি লাগানো ভালো। শুধু মুখেই নয়, কানের লতি, হাতের পিঠ ও পায়ের পাতাতেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শিশু যদি দীর্ঘ সময় রোদে খেলাধুলা করে বা সুইমিং পুলে থাকে, তাহলে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর সানস্ক্রিন পুনরায় লাগানো উচিত। এ ক্ষেত্রে এসপিএফ (SPF) ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভালো, যা প্রায় ৯৭ শতাংশ ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।

মনে রাখতে হবে, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সবসময়ই সক্রিয় থাকে। তাই আপনার সন্তানের কোমল ত্বককে ভবিষ্যতের ক্ষতি থেকে বাঁচাতে সঠিক সুরক্ষার বিষয়ে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

সূত্র : টিভি নাইন বাংলা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

UV নীরবে ক্ষতি করে যেতে পারে শিশুদের ত্বকেও

আপডেট সময় : ০৯:৪১:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

বাচ্চাদের ত্বক মানেই তুলতুলে, নরম আর অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কিন্তু এই কোমল ত্বকেই যখন কড়া রোদের প্রভাব পড়ে, তখন বিপদটা শুধু গায়ের রঙের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বড়দের মতো শিশুদের ত্বকেও সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV) নীরবে ক্ষতি করে যেতে পারে।

তবে অনেকেই একটি বড় ভুল করে বসেন, বড়দের জন্য ব্যবহৃত সানস্ক্রিনই শিশুদের ত্বকে লাগিয়ে দেন। অথচ বড়দের সানস্ক্রিন আর শিশুদের সানস্ক্রিন এক নয়। না জেনে ভুল ক্রিম ব্যবহার করলে উল্টো ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

অনেক বাবা-মা মনে করেন, জন্মের পর থেকেই শিশুদের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যায়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬ মাসের কম বয়সি শিশুদের সরাসরি কড়া রোদে না বের করাই ভালো। এ বয়সে সানস্ক্রিনের বদলে ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরানো এবং যতটা সম্ভব ছায়ায় রাখা বেশি নিরাপদ। তবে শিশুর বয়স ৬ মাস পার হলে তখন থেকে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

সানস্ক্রিন কেনার ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি। শুধু দামি ব্র্যান্ড দেখেই কিনে ফেললে চলবে না। শিশুদের জন্য ‘মিনারেল’ সানস্ক্রিন বেছে নেওয়াই বেশি নিরাপদ। কারণ এ ধরনের সানস্ক্রিনে সাধারণত জিঙ্ক অক্সাইড (Zinc Oxide) বা টাইটানিয়াম ডাইঅক্সাইড (Titanium Dioxide) থাকে। এসব উপাদান ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করে না; বরং ত্বকের ওপর একটি অদৃশ্য স্তর তৈরি করে সূর্যের রশ্মিকে প্রতিফলিত করে দেয়।

অন্যদিকে বড়দের অনেক কেমিক্যাল সানস্ক্রিনে অক্সিবেঞ্জোন (Oxybenzone) এর মতো উপাদান থাকতে পারে, যা শিশুদের সংবেদনশীল ত্বকে অ্যালার্জি বা হরমোনজনিত সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই সানস্ক্রিন কেনার আগে প্যাকেটের গায়ে ‘Paraben-free’ ও ‘Fragrance-free’ লেখা আছে কি না, তা অবশ্যই দেখে নেওয়া উচিত।

শুধু ঘুরতে যাওয়ার সময় সানস্ক্রিন লাগালেই হবে না। রোদে বের হওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে এটি লাগানো ভালো। শুধু মুখেই নয়, কানের লতি, হাতের পিঠ ও পায়ের পাতাতেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শিশু যদি দীর্ঘ সময় রোদে খেলাধুলা করে বা সুইমিং পুলে থাকে, তাহলে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর সানস্ক্রিন পুনরায় লাগানো উচিত। এ ক্ষেত্রে এসপিএফ (SPF) ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভালো, যা প্রায় ৯৭ শতাংশ ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।

মনে রাখতে হবে, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সবসময়ই সক্রিয় থাকে। তাই আপনার সন্তানের কোমল ত্বককে ভবিষ্যতের ক্ষতি থেকে বাঁচাতে সঠিক সুরক্ষার বিষয়ে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

সূত্র : টিভি নাইন বাংলা