ঢাকা ০৬:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

শ্রমিকের ঘামে গড়া উন্নয়নের স্বীকৃতিতে দিনাজপুরে ঐক্য ও প্রেরণার মে দিবস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • / 71
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শ্রমিকের ঘামে গড়া উন্নয়নের স্বীকৃতিতে দিনাজপুরে ঐক্য ও প্রেরণার মে দিবস

মোঃ আইনুল ইসলাম : দিনাজপুর প্রতিনিধি

“সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত—আসবে এবার নব প্রভাত” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরে যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস ২০২৬। শুক্রবার (১ মে) সকালে জেলা প্রশাসন, আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, দিনাজপুর এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সকালে দিনাজপুর ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে বিভিন্ন শিল্প-কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পরিবহন খাত, শ্রমজীবী সংগঠন ও পেশাজীবী প্রতিনিধিদের হাতে শ্রমিক অধিকারবিষয়ক লিফলেট বিতরণ করা হয়। পরে নানা রঙের ব্যানার, ফেস্টুন ও দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে সরকারি কর্মকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি ফায়ার সার্ভিস সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সভায় সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন আঞ্চলিক শ্রম দপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ ওসমান গনি।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও জনাব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, এমপি, দিনাজপুর-৩ বিশেষ কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। একইভাবে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত অ্যাডভোকেট মোঃ মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, প্রশাসক, জেলা পরিষদ, দিনাজপুরও বিশেষ কারণে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মোঃ জেদান আল মুসা, পিপিএম, পুলিশ সুপার, দিনাজপুর। তিনি বলেন,“মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন—শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করে দাও। ইসলাম শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা ও অধিকারের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। তাই শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”তিনি আরও বলেন, শ্রমিকের সম্মান রক্ষা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সভায় বক্তব্য দেন ড. মোঃ আসিফ ফেরদৌস, সিভিল সার্জন, দিনাজপুর, মোঃ মোখলেছুর রহমান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ, মোঃ রিয়াজ উদ্দিন, প্রশাসক, দিনাজপুর পৌরসভা, এবং আলহাজ্ব মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক, সভাপতি, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

দিনাজপুর পৌরসভার প্রশাসক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে শ্রমিকদের ঐতিহাসিক আন্দোলন বিশ্ব শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। পরবর্তীতে ১৮৮৯ সালে আন্তর্জাতিকভাবে ১ মে শ্রমিক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং পরের বছর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি উদযাপিত হতে থাকে। বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরাও শ্রমিক। জনগণের সেবাই আমাদের দায়িত্ব। নির্ধারিত সময়ের বাইরেও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে হয়।”

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষ। শিল্প, কৃষি, পরিবহন, নির্মাণ, স্বাস্থ্য ও সেবা খাত—সবখানেই শ্রমিকের অবদান অনস্বীকার্য। তাই শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, কর্মস্থলে নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা, চিকিৎসা সুবিধা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে কয়েক দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ছিল—সর্বজনীন জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা, গার্মেন্টস শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ, নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা, কর্মস্থলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, আহত ও নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ এবং শ্রম আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি।

বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিক ও মালিকের সুসম্পর্ক, ন্যায়ভিত্তিক শ্রমনীতি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হলে দেশ এগিয়ে যাবে উন্নয়নের নতুন উচ্চতায়। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে বিরিয়ানির পার্সেল প্যাকেট বিতরণ করা হয়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তের কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ, রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ কৃষি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান, এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় সীমান্ত এলাকার ৮০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি জাতের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো অধিক উচ্চতার ফসলের পরিবর্তে ধানসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শ্রমিকের ঘামে গড়া উন্নয়নের স্বীকৃতিতে দিনাজপুরে ঐক্য ও প্রেরণার মে দিবস

আপডেট সময় : ০৪:৫১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

শ্রমিকের ঘামে গড়া উন্নয়নের স্বীকৃতিতে দিনাজপুরে ঐক্য ও প্রেরণার মে দিবস

মোঃ আইনুল ইসলাম : দিনাজপুর প্রতিনিধি

“সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত—আসবে এবার নব প্রভাত” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরে যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস ২০২৬। শুক্রবার (১ মে) সকালে জেলা প্রশাসন, আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, দিনাজপুর এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সকালে দিনাজপুর ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে বিভিন্ন শিল্প-কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পরিবহন খাত, শ্রমজীবী সংগঠন ও পেশাজীবী প্রতিনিধিদের হাতে শ্রমিক অধিকারবিষয়ক লিফলেট বিতরণ করা হয়। পরে নানা রঙের ব্যানার, ফেস্টুন ও দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে সরকারি কর্মকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি ফায়ার সার্ভিস সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সভায় সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন আঞ্চলিক শ্রম দপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ ওসমান গনি।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও জনাব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, এমপি, দিনাজপুর-৩ বিশেষ কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। একইভাবে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত অ্যাডভোকেট মোঃ মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, প্রশাসক, জেলা পরিষদ, দিনাজপুরও বিশেষ কারণে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মোঃ জেদান আল মুসা, পিপিএম, পুলিশ সুপার, দিনাজপুর। তিনি বলেন,“মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন—শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করে দাও। ইসলাম শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা ও অধিকারের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। তাই শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”তিনি আরও বলেন, শ্রমিকের সম্মান রক্ষা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সভায় বক্তব্য দেন ড. মোঃ আসিফ ফেরদৌস, সিভিল সার্জন, দিনাজপুর, মোঃ মোখলেছুর রহমান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ, মোঃ রিয়াজ উদ্দিন, প্রশাসক, দিনাজপুর পৌরসভা, এবং আলহাজ্ব মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক, সভাপতি, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

দিনাজপুর পৌরসভার প্রশাসক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে শ্রমিকদের ঐতিহাসিক আন্দোলন বিশ্ব শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। পরবর্তীতে ১৮৮৯ সালে আন্তর্জাতিকভাবে ১ মে শ্রমিক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং পরের বছর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি উদযাপিত হতে থাকে। বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরাও শ্রমিক। জনগণের সেবাই আমাদের দায়িত্ব। নির্ধারিত সময়ের বাইরেও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে হয়।”

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষ। শিল্প, কৃষি, পরিবহন, নির্মাণ, স্বাস্থ্য ও সেবা খাত—সবখানেই শ্রমিকের অবদান অনস্বীকার্য। তাই শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, কর্মস্থলে নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা, চিকিৎসা সুবিধা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে কয়েক দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ছিল—সর্বজনীন জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা, গার্মেন্টস শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ, নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা, কর্মস্থলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, আহত ও নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ এবং শ্রম আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি।

বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিক ও মালিকের সুসম্পর্ক, ন্যায়ভিত্তিক শ্রমনীতি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হলে দেশ এগিয়ে যাবে উন্নয়নের নতুন উচ্চতায়। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে বিরিয়ানির পার্সেল প্যাকেট বিতরণ করা হয়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।