ঢাকা ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস Logo দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা, নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ Logo প্রত্যেক উপজেলায় সংসদ সদস্যদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ বরাদ্দ   Logo হরমুজ এড়িয়ে সৌদি থেকে তেল নিয়ে চট্টগ্রাম আসছে জাহাজ Logo জ্বালানি সাশ্রয়ে বুধ-বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারকাজ চলবে ভার্চুয়ালি Logo এনসিপিতে যোগদানের হিড়িক Logo ৫ দফা দাবী সহ শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের মানববন্ধন কর্মসূচি

মহাসংকটে নয়াদিল্লি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 5
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মহাসংকটে নয়াদিল্লি

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে ভারতের অন্যতম উচ্চাভিলাষী প্রকল্প ইরানের ‘চাবাহার বন্দর’ এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে। গত দুই দশক ধরে যে স্বপ্নকে কেন্দ্র করে ভারত মধ্য এশিয়ায় নিজেদের প্রভাব বিস্তারের ছক কষেছিল, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তা কার্যত থমকে দাঁড়িয়েছে।

আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ এবং নতুন করে অঞ্চলটিতে শুরু হওয়া অস্থিরতা চাবাহার বন্দর নিয়ে ভারতের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। গত ২৬ এপ্রিল মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই ভারতের সামনে এখন কঠিন পথ। হয় প্রকল্প থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিতে হবে, নয়তো মার্কিন রোষানলে পড়ার ঝুঁকি নিতে হবে।

কেন এই সংকট?
১. নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া: ভারতের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় নতুন করে বিনিয়োগ বা কার্যক্রম চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

২. আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং আমেরিকার কঠোর অবস্থান ভারতকে উভয় সংকটে ফেলেছে।

৩. বিকল্প পথের অভাব: আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পৌঁছানোর জন্য পাকিস্তানের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাবাহার ছিল ভারতের সেরা বিকল্প। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ‘গেটওয়ে’ কার্যত বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

ভারত সরকার অবশ্য দাবি করছে তারা ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র—উভয় পক্ষের সাথেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। নয়াদিল্লি চাইছে একটি মধ্যস্থতা বা বিশেষ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে ভারতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান সরাসরি কাজ না করলেও লজিস্টিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা যায়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ভারতের এই ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ বজায় রাখা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হবে।

চাবাহার কি শেষ পর্যন্ত কেবল একটি স্বপ্ন হয়েই থেকে যাবে, নাকি ভারত কোনো জাদুকরী পথে এই প্রকল্প রক্ষা করতে পারবে—তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মহাসংকটে নয়াদিল্লি

আপডেট সময় : ১১:৪২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

মহাসংকটে নয়াদিল্লি

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে ভারতের অন্যতম উচ্চাভিলাষী প্রকল্প ইরানের ‘চাবাহার বন্দর’ এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে। গত দুই দশক ধরে যে স্বপ্নকে কেন্দ্র করে ভারত মধ্য এশিয়ায় নিজেদের প্রভাব বিস্তারের ছক কষেছিল, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তা কার্যত থমকে দাঁড়িয়েছে।

আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ এবং নতুন করে অঞ্চলটিতে শুরু হওয়া অস্থিরতা চাবাহার বন্দর নিয়ে ভারতের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। গত ২৬ এপ্রিল মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই ভারতের সামনে এখন কঠিন পথ। হয় প্রকল্প থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিতে হবে, নয়তো মার্কিন রোষানলে পড়ার ঝুঁকি নিতে হবে।

কেন এই সংকট?
১. নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া: ভারতের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় নতুন করে বিনিয়োগ বা কার্যক্রম চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

২. আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং আমেরিকার কঠোর অবস্থান ভারতকে উভয় সংকটে ফেলেছে।

৩. বিকল্প পথের অভাব: আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পৌঁছানোর জন্য পাকিস্তানের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাবাহার ছিল ভারতের সেরা বিকল্প। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ‘গেটওয়ে’ কার্যত বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

ভারত সরকার অবশ্য দাবি করছে তারা ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র—উভয় পক্ষের সাথেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। নয়াদিল্লি চাইছে একটি মধ্যস্থতা বা বিশেষ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে ভারতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান সরাসরি কাজ না করলেও লজিস্টিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা যায়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ভারতের এই ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ বজায় রাখা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হবে।

চাবাহার কি শেষ পর্যন্ত কেবল একটি স্বপ্ন হয়েই থেকে যাবে, নাকি ভারত কোনো জাদুকরী পথে এই প্রকল্প রক্ষা করতে পারবে—তা এখন সময়ের অপেক্ষা।