ঢাকা ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

রাঙামাটির দারুস সালাম ইসলামিয়া একাডেমীতে বরাদ্দে বড় অনিয়মের চিত্র

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪২:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 602

ছবি : দেশবর্ন ।

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মেহেদী হাসান, রাঙামাটি প্রতিনিধি :

রাঙামাটিতে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত খাদ্যশস্য বরাদ্দ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে রাঙামাটি দারুস সালাম ইসলামিয়া একাডেমী হেফজখানা ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. শামসুল আলম।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এতিমদের কল্যাণের কথা উল্লেখ করে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যশস্য বরাদ্দ নেওয়া হলেও বাস্তবে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও বরাদ্দের পরিমাণের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২০ জন এতিম শিক্ষার্থী থাকলেও তাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্যের তুলনায় দ্বিগুণ বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দের নিয়ম থাকলেও মাওলানা শামসুল আলমকে চার দফায় মোট ৬ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ। এছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তিন দফায় মোট ২ মেট্রিক টন এবং চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতেই (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫) আরও ১.৫ মেট্রিক টন বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

নথির মন্তব্য কলামেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, এক অর্থবছরে ৩ মেট্রিক টনের বেশি বরাদ্দ দেওয়ার বিধান নেই। তবুও সেই নিয়ম উপেক্ষা করে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রদান করায় সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে—কেন এবং কার নির্দেশে এই বরাদ্দ দেওয়া হলো।

এদিকে সচেতন মহল বলছে, যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের বরাদ্দ প্রদানের ফলে জেলার অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান অনুদানের অভাবে শিক্ষাকার্যক্রম ও সেবামূলক কার্যক্রম ঠিকমতো পরিচালনা করতে পারছে না।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাঙামাটির দারুস সালাম ইসলামিয়া একাডেমীতে বরাদ্দে বড় অনিয়মের চিত্র

আপডেট সময় : ০৪:৪২:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

মেহেদী হাসান, রাঙামাটি প্রতিনিধি :

রাঙামাটিতে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত খাদ্যশস্য বরাদ্দ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে রাঙামাটি দারুস সালাম ইসলামিয়া একাডেমী হেফজখানা ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. শামসুল আলম।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এতিমদের কল্যাণের কথা উল্লেখ করে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যশস্য বরাদ্দ নেওয়া হলেও বাস্তবে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও বরাদ্দের পরিমাণের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২০ জন এতিম শিক্ষার্থী থাকলেও তাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্যের তুলনায় দ্বিগুণ বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দের নিয়ম থাকলেও মাওলানা শামসুল আলমকে চার দফায় মোট ৬ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ। এছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তিন দফায় মোট ২ মেট্রিক টন এবং চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতেই (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫) আরও ১.৫ মেট্রিক টন বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

নথির মন্তব্য কলামেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, এক অর্থবছরে ৩ মেট্রিক টনের বেশি বরাদ্দ দেওয়ার বিধান নেই। তবুও সেই নিয়ম উপেক্ষা করে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রদান করায় সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে—কেন এবং কার নির্দেশে এই বরাদ্দ দেওয়া হলো।

এদিকে সচেতন মহল বলছে, যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের বরাদ্দ প্রদানের ফলে জেলার অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান অনুদানের অভাবে শিক্ষাকার্যক্রম ও সেবামূলক কার্যক্রম ঠিকমতো পরিচালনা করতে পারছে না।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন