ঢাকা ০৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo [আপডেট] রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা, খুলেছে ২০৪ আশ্রয়কেন্দ্র Logo এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলায় খুলনায় প্রতিবাদ মিছিল Logo হরিপুরে সরকারি সহায়তা পেলেন রোগী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও প্রতিবন্ধীরা Logo প্রত্যয় সংগঠনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন পিএবিএম-এর উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া Logo বিএডিসিতে গণবদলি নিয়ে তোলপাড়: চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা Logo মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে কাজী নজরুলকে প্রধান দিশারি হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo স্টেডফাস্ট কুরিয়ার কার্যালয় পরিদর্শনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, শান্তিপূর্ণ সমাধানে আইনানুগ নির্দেশনা Logo সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাকোপে কে.সি. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠিত Logo জৈব সারের নামে বর্জ্য বিতরণ, বদলি করা হয়েছে কামারখন্দের সেই কৃষি কর্মকর্তাকে Logo সুপারভাইজার বলেছিল ‘তুই মরলেও ছুটি নাই’

চট্টগ্রামে কোরবানির হাটের দরপতন, রাজস্ব হারানোর শঙ্কায় চসিক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • / 122
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামে কোরবানির হাটের দরপতন, রাজস্ব হারানোর শঙ্কায় চসিক

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর হাটের প্রস্তুতি জোরেশোরে চললেও এবার অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর ইজারামূল্যে বড় ধরনের দরপতন দেখা দিয়েছে। স্থায়ী হাটগুলো থেকে ভালো রাজস্ব এলেও অস্থায়ী হাটে আশানুরূপ দর না পাওয়ায় রাজস্ব হারানোর শঙ্কায় রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, নগরীর তিনটি স্থায়ী পশুর হাট ইজারা দিয়ে এবার প্রায় ১০ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার আশা করছে সংস্থাটি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সাগরিকা পশুর হাট ৮ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ৭৮৬ টাকায় ইজারা নিয়েছেন ফজলে আলিম চৌধুরী। মুরাদপুরের বিবিরহাট ইজারা হয়েছে ৬৮ লাখ ১০ হাজার টাকায়, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। ২০২৫ সালে একই হাটের ইজারামূল্য ছিল ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এছাড়া পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ২১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৮৬ টাকায়।
তবে অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে চিত্র ভিন্ন। কর্ণফুলী অস্থায়ী পশুর হাটে সর্বোচ্চ ২ কোটি ১২ লাখ টাকা দর উঠলেও মুসলিমাবাদ মাঠে পাওয়া গেছে মাত্র ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। অন্যদিকে ওয়াজেদিয়া হাটে কোনো দরপত্রই জমা পড়েনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২০ সালের পর এবারই অস্থায়ী হাটে সবচেয়ে কম দর পাওয়া গেছে।
চসিকের অনুমোদিত ২২টি হাট-বাজারের মধ্যে ৬টি পশুর হাট থেকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আসে। তবে এবার অস্থায়ী হাটে কম দর, কোথাও টেন্ডার না হওয়া এবং খাস কালেকশন নিয়ে বিতর্কের কারণে রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনলাইনে পশু বিক্রি বৃদ্ধি, ভাগাভাগি করে কোরবানি দেওয়ার প্রবণতা এবং খামার থেকে সরাসরি পশু কেনার কারণে প্রচলিত হাটের ওপর নির্ভরতা কমেছে। পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় অবৈধ হাট বসানোয় বৈধ হাটে ক্রেতা কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা, সিসিটিভি, কর্মচারী নিয়োগ ও অবকাঠামো তৈরির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ইজারাদারদের খরচও বেড়েছে।
সাগরিকা পশুর হাটের ইজারাদার ফজলে আলিম চৌধুরী বলেন, “৮ কোটি টাকা দিয়ে হাট নিয়েছি। এখন সেই টাকা উঠবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা আছে। উত্তরবঙ্গ থেকে পর্যাপ্ত গরু না এলে বড় ধরনের লোকসান হতে পারে।”
এদিকে খাস কালেকশন নিয়েও নানা অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দাবি, নির্ধারিত মূল্যে ইজারাদার না পাওয়ার অজুহাতে কয়েক বছর ধরে চসিক ইজারার পরিবর্তে খাস কালেকশনে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। এতে হাসিল আদায়, ব্যবস্থাপনা ব্যয় ও নানা অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ক্ষতির সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, “অবৈধ পশুর হাটের কারণে প্রতিবছর রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি যানজট, চাঁদাবাজি ও নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি হয়। তাই এবার অবৈধ হাট বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে চসিক।”
তিনি জানান, অনুমোদিত হাটগুলোতে জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ, সিসিটিভি ক্যামেরা, পশু চিকিৎসাসেবা, পর্যাপ্ত আলোকায়ন, গোখাদ্য সরবরাহ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলের ব্যবস্থা থাকবে।
চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন বলেন, “অনুমোদিত হাটের বাইরে কোথাও পশুর বাজার বসতে দেওয়া হবে না। অবৈধ হাট উচ্ছেদে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।”
জেলা প্রশাসনের অনুমোদন অনুযায়ী এবার চসিক এলাকায় ৩টি স্থায়ী ও ৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসছে। অস্থায়ী হাটগুলো ১৯ মে থেকে ২৮ মে পর্যন্ত ১০ দিনের জন্য পরিচালিত হবে। জেলা প্রশাসনের শর্ত অনুযায়ী, প্রধান সড়ক থেকে অন্তত ১০০ গজ দূরে হাট বসাতে হবে এবং যান চলাচলে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ হাটে নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করা গেলেও অবৈধ হাট নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে চসিকের রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চট্টগ্রামে কোরবানির হাটের দরপতন, রাজস্ব হারানোর শঙ্কায় চসিক

আপডেট সময় : ১২:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

চট্টগ্রামে কোরবানির হাটের দরপতন, রাজস্ব হারানোর শঙ্কায় চসিক

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর হাটের প্রস্তুতি জোরেশোরে চললেও এবার অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর ইজারামূল্যে বড় ধরনের দরপতন দেখা দিয়েছে। স্থায়ী হাটগুলো থেকে ভালো রাজস্ব এলেও অস্থায়ী হাটে আশানুরূপ দর না পাওয়ায় রাজস্ব হারানোর শঙ্কায় রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, নগরীর তিনটি স্থায়ী পশুর হাট ইজারা দিয়ে এবার প্রায় ১০ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার আশা করছে সংস্থাটি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সাগরিকা পশুর হাট ৮ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ৭৮৬ টাকায় ইজারা নিয়েছেন ফজলে আলিম চৌধুরী। মুরাদপুরের বিবিরহাট ইজারা হয়েছে ৬৮ লাখ ১০ হাজার টাকায়, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। ২০২৫ সালে একই হাটের ইজারামূল্য ছিল ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এছাড়া পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ২১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৮৬ টাকায়।
তবে অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে চিত্র ভিন্ন। কর্ণফুলী অস্থায়ী পশুর হাটে সর্বোচ্চ ২ কোটি ১২ লাখ টাকা দর উঠলেও মুসলিমাবাদ মাঠে পাওয়া গেছে মাত্র ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। অন্যদিকে ওয়াজেদিয়া হাটে কোনো দরপত্রই জমা পড়েনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২০ সালের পর এবারই অস্থায়ী হাটে সবচেয়ে কম দর পাওয়া গেছে।
চসিকের অনুমোদিত ২২টি হাট-বাজারের মধ্যে ৬টি পশুর হাট থেকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আসে। তবে এবার অস্থায়ী হাটে কম দর, কোথাও টেন্ডার না হওয়া এবং খাস কালেকশন নিয়ে বিতর্কের কারণে রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনলাইনে পশু বিক্রি বৃদ্ধি, ভাগাভাগি করে কোরবানি দেওয়ার প্রবণতা এবং খামার থেকে সরাসরি পশু কেনার কারণে প্রচলিত হাটের ওপর নির্ভরতা কমেছে। পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় অবৈধ হাট বসানোয় বৈধ হাটে ক্রেতা কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা, সিসিটিভি, কর্মচারী নিয়োগ ও অবকাঠামো তৈরির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ইজারাদারদের খরচও বেড়েছে।
সাগরিকা পশুর হাটের ইজারাদার ফজলে আলিম চৌধুরী বলেন, “৮ কোটি টাকা দিয়ে হাট নিয়েছি। এখন সেই টাকা উঠবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা আছে। উত্তরবঙ্গ থেকে পর্যাপ্ত গরু না এলে বড় ধরনের লোকসান হতে পারে।”
এদিকে খাস কালেকশন নিয়েও নানা অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দাবি, নির্ধারিত মূল্যে ইজারাদার না পাওয়ার অজুহাতে কয়েক বছর ধরে চসিক ইজারার পরিবর্তে খাস কালেকশনে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। এতে হাসিল আদায়, ব্যবস্থাপনা ব্যয় ও নানা অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ক্ষতির সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, “অবৈধ পশুর হাটের কারণে প্রতিবছর রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি যানজট, চাঁদাবাজি ও নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি হয়। তাই এবার অবৈধ হাট বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে চসিক।”
তিনি জানান, অনুমোদিত হাটগুলোতে জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ, সিসিটিভি ক্যামেরা, পশু চিকিৎসাসেবা, পর্যাপ্ত আলোকায়ন, গোখাদ্য সরবরাহ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলের ব্যবস্থা থাকবে।
চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন বলেন, “অনুমোদিত হাটের বাইরে কোথাও পশুর বাজার বসতে দেওয়া হবে না। অবৈধ হাট উচ্ছেদে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।”
জেলা প্রশাসনের অনুমোদন অনুযায়ী এবার চসিক এলাকায় ৩টি স্থায়ী ও ৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসছে। অস্থায়ী হাটগুলো ১৯ মে থেকে ২৮ মে পর্যন্ত ১০ দিনের জন্য পরিচালিত হবে। জেলা প্রশাসনের শর্ত অনুযায়ী, প্রধান সড়ক থেকে অন্তত ১০০ গজ দূরে হাট বসাতে হবে এবং যান চলাচলে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ হাটে নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করা গেলেও অবৈধ হাট নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে চসিকের রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।