ঢাকা ০৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo [আপডেট] রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা, খুলেছে ২০৪ আশ্রয়কেন্দ্র Logo এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলায় খুলনায় প্রতিবাদ মিছিল Logo হরিপুরে সরকারি সহায়তা পেলেন রোগী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও প্রতিবন্ধীরা Logo প্রত্যয় সংগঠনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন পিএবিএম-এর উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া Logo বিএডিসিতে গণবদলি নিয়ে তোলপাড়: চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা Logo মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে কাজী নজরুলকে প্রধান দিশারি হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo স্টেডফাস্ট কুরিয়ার কার্যালয় পরিদর্শনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, শান্তিপূর্ণ সমাধানে আইনানুগ নির্দেশনা Logo সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাকোপে কে.সি. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠিত Logo জৈব সারের নামে বর্জ্য বিতরণ, বদলি করা হয়েছে কামারখন্দের সেই কৃষি কর্মকর্তাকে Logo সুপারভাইজার বলেছিল ‘তুই মরলেও ছুটি নাই’

ডিসেম্বরে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ৮০-৯০ শতাংশ কমানোর আশা প্রতিমন্ত্রীর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • / 108
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডিসেম্বরে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ৮০-৯০ শতাংশ কমানোর আশা প্রতিমন্ত্রীর

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, চলমান প্রকল্পসমূহ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসবে। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ১৯ সদস্যের সমন্বয় কমিটির মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় গঠিত শক্তিশালী কমিটি ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের মানুষ যেন জলাবদ্ধতার কষ্ট থেকে মুক্তি পায়, সেটাই সরকারের লক্ষ্য। শতভাগ সমাধানের নিশ্চয়তা না দিলেও আমরা দৃঢ়ভাবে কাজ করছি।”
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যাকে ‘অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল’ উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, নগরের ভৌগোলিক অবস্থান, জোয়ার-ভাটার প্রভাব এবং অতিবৃষ্টির কারণে বিষয়টি প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। এ কারণে বিভিন্ন স্থানে আধুনিক স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে পানির চাপ অনুযায়ী গেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলবে ও বন্ধ হবে।
তিনি আরও বলেন, খালের পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও ময়লা প্রতিরোধে নেটিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নগরবাসীকে খালে-নালায় ময়লা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানান তিনি। সাংবাদিকদেরও জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
সভায় বক্তব্য দেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, শুধু খাল খনন, ড্রেজিং কিংবা রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; নাগরিকদের সামাজিক সচেতনতাও জরুরি।
তিনি জানান, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে খাল থেকে তোষক, চেয়ার, টেবিল, পলিথিন ও স্বাস্থ্যবর্জ্য উদ্ধার করা হচ্ছে, যা পানি প্রবাহে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।
সভায় মো. রাজিব আহসান বলেন, নগরের অধিকাংশ পানি নিষ্কাশনের পথ বন্দর এলাকা হয়ে কর্ণফুলী নদী ও সাগরে মিশেছে। তাই পানি চলাচলের পথ সচল রাখা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
সভাপতির বক্তব্যে শাহাদাত হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে কিছু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও তা মূলত চলমান উন্নয়নকাজের কারণে হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে ৫৭টি খাল এবং প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চলছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ৩৬টি এবং চসিক ২১টি খালের কাজ করছে।
মেয়র বলেন, গত বছর চট্টগ্রামে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব হয়েছে। সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে আগামী বর্ষা মৌসুমে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জলাবদ্ধতা ও জলজট নিরসন সম্ভব হবে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম এবং সিডিএ চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিমসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ডিসেম্বরে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ৮০-৯০ শতাংশ কমানোর আশা প্রতিমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ১২:৩১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

ডিসেম্বরে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ৮০-৯০ শতাংশ কমানোর আশা প্রতিমন্ত্রীর

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, চলমান প্রকল্পসমূহ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসবে। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ১৯ সদস্যের সমন্বয় কমিটির মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় গঠিত শক্তিশালী কমিটি ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের মানুষ যেন জলাবদ্ধতার কষ্ট থেকে মুক্তি পায়, সেটাই সরকারের লক্ষ্য। শতভাগ সমাধানের নিশ্চয়তা না দিলেও আমরা দৃঢ়ভাবে কাজ করছি।”
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যাকে ‘অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল’ উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, নগরের ভৌগোলিক অবস্থান, জোয়ার-ভাটার প্রভাব এবং অতিবৃষ্টির কারণে বিষয়টি প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। এ কারণে বিভিন্ন স্থানে আধুনিক স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে পানির চাপ অনুযায়ী গেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলবে ও বন্ধ হবে।
তিনি আরও বলেন, খালের পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও ময়লা প্রতিরোধে নেটিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নগরবাসীকে খালে-নালায় ময়লা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানান তিনি। সাংবাদিকদেরও জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
সভায় বক্তব্য দেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, শুধু খাল খনন, ড্রেজিং কিংবা রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; নাগরিকদের সামাজিক সচেতনতাও জরুরি।
তিনি জানান, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে খাল থেকে তোষক, চেয়ার, টেবিল, পলিথিন ও স্বাস্থ্যবর্জ্য উদ্ধার করা হচ্ছে, যা পানি প্রবাহে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।
সভায় মো. রাজিব আহসান বলেন, নগরের অধিকাংশ পানি নিষ্কাশনের পথ বন্দর এলাকা হয়ে কর্ণফুলী নদী ও সাগরে মিশেছে। তাই পানি চলাচলের পথ সচল রাখা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
সভাপতির বক্তব্যে শাহাদাত হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে কিছু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও তা মূলত চলমান উন্নয়নকাজের কারণে হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে ৫৭টি খাল এবং প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চলছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ৩৬টি এবং চসিক ২১টি খালের কাজ করছে।
মেয়র বলেন, গত বছর চট্টগ্রামে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব হয়েছে। সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে আগামী বর্ষা মৌসুমে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জলাবদ্ধতা ও জলজট নিরসন সম্ভব হবে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম এবং সিডিএ চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিমসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা।