ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস Logo দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা, নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ Logo প্রত্যেক উপজেলায় সংসদ সদস্যদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ বরাদ্দ   Logo হরমুজ এড়িয়ে সৌদি থেকে তেল নিয়ে চট্টগ্রাম আসছে জাহাজ Logo জ্বালানি সাশ্রয়ে বুধ-বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারকাজ চলবে ভার্চুয়ালি Logo এনসিপিতে যোগদানের হিড়িক Logo ৫ দফা দাবী সহ শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের মানববন্ধন কর্মসূচি Logo পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াবে বাংলাদেশ

নতুন যুগে নতুন নেতৃত্বে ইরান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 38
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নতুন যুগে নতুন নেতৃত্বে ইরান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলি খামেনি যখন ক্ষমতাসীন ছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ, শান্তি ও আলোচনার বিষয়ে তার সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। কিন্তু তার উত্তরসূরি একই ধরনের ক্ষমতা চর্চা করছেন না।

সাবেক নেতার উত্তরসূরি ও ছেলে আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মুজতবা খামেনিকে এক রহস্যময় ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গত মার্চে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাকে কোথাও দেখা যায়নি বা তার কোনো বক্তব্যও শোনা যায়নি। তার বদলে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) যুদ্ধরত সেনাধিনায়ক ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাই নিরাপত্তা, যুদ্ধ ও কূটনীতির বিষয়ে মূল সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন।

মাহমুদ আহমাদিনেজাদের ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তার উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা রাজনীতিবিদ আবদুর রেজা দাভারি ফোনে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘বোর্ডের পরিচালকের মতো মুজতবা দেশ পরিচালনা করছেন। বোর্ডের বাকি সদস্যদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার ওপর তিনি প্রচণ্ডভাবে নির্ভর করছেন এবং তারাই সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত তৈরি করছেন। সামরিক জেনারেলরাই এ বোর্ড সদস্য।’

ইরানের বর্তমান ক্ষমতা কাঠামোর বিষয়টি নিয়ে তেহরানের সরকারের ছয় শীর্ষ কর্মকর্তা, দুই সাবেক কর্মকর্তা, আইআরজিসির দুই সদস্য, অভ্যন্তরীণ কাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক আলেম ও আয়াতুল্লাহ খামেনির পরিচিত তিন ব্যক্তি নিউ ইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে কথা বলেছেন। এছাড়া আইআরজিসির সংশ্লিষ্ট ৯ ব্যক্তি নেতৃত্বের কাঠামোর বিষয়ে কথা বলেন। তবে সবাই নিজেদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য জানিয়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ আগ্রাসনে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিহত হওয়ার পর ইরানের জ্যেষ্ঠ আলেমদের কাউন্সিল নতুন রাহবার (ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা) হিসেবে আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করে। হামলায় বাবা-মাসহ নিজের স্ত্রী ও সন্তানকে হারান মুজতবা খামেনি। ওই হামলায় তিনিও আহত হয়েছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই গোপনে রয়েছেন তিনি। তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ খুবই কঠিন ও সীমাবদ্ধ। জানা যায়, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় ক্ষতের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও মেডিকেল স্টাফরাই তার সঙ্গে রয়েছেন।

আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ অধিনায়ক ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান না, যাতে করে তাদের অনুসরণ করে মুজতবা খামেনির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব না হয়। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যিনি নিজেই চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন।

যদিও আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি প্রচণ্ডভাবে আহত হয়েছেন, কিন্তু মানসিকভাবে তিনি সক্রিয় রয়েছেন জানান চার জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা। তার এক পায়ে তিনবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং কৃত্রিম পায়ের জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি। এছাড়া তার এক হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং ধীরে ধীরে তা সুস্থ হয়ে উঠছে। কর্মকর্তারা জানান, তার মুখ ও ঠোঁট মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে, যার ফলে তার কথা বলা কষ্টকর। সর্বোপরি এর জন্য তার শল্যচিকিৎসা প্রয়োজন হবে।

এখন পর্যন্ত মুজতবা খামেনি কোনো ভিডিও বা অডিও রেকর্ড করেননি। প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্যে নিজেকে দুর্বল হিসেবে দেখাতে চান না তিনি। এর বদলে সময়ে সময়ে বিভিন্ন লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন তিনি।

তার সঙ্গে বার্তার আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে দীর্ঘ ও জটিল পদ্ধতির বিশ্বস্ত মানুষের শৃঙ্খল ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত প্রদানে জেনারেলরাই মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বর্তমান আইআরজিসির জেনারেলদের সঙ্গে মুজতবা খামেনির যে সখ্য ছিল, তাই সিদ্ধান্ত প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে তৈরি করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, ইরানের পুরনো নেতৃত্ব ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের হত্যার মাধ্যমে ‘শাসক পরিবর্তন’ হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ইরানের ক্ষমতাসীনদের পতন হয়নি। এখন বরং ক্ষমতা আরো ‘কট্টরপন্থি’ সামরিক নেতাদের কাছে হস্তান্তর হয়েছে।

ব্রিটেনের চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক পরিচালক সনম ভকিল বলেন, ‘মুজতবা এখনো পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেননি। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শুধু সিদ্ধান্তগ্রহণের কাঠামোতে রয়েছেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নতুন যুগে নতুন নেতৃত্বে ইরান

আপডেট সময় : ০৩:৪৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

নতুন যুগে নতুন নেতৃত্বে ইরান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলি খামেনি যখন ক্ষমতাসীন ছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ, শান্তি ও আলোচনার বিষয়ে তার সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। কিন্তু তার উত্তরসূরি একই ধরনের ক্ষমতা চর্চা করছেন না।

সাবেক নেতার উত্তরসূরি ও ছেলে আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মুজতবা খামেনিকে এক রহস্যময় ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গত মার্চে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাকে কোথাও দেখা যায়নি বা তার কোনো বক্তব্যও শোনা যায়নি। তার বদলে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) যুদ্ধরত সেনাধিনায়ক ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাই নিরাপত্তা, যুদ্ধ ও কূটনীতির বিষয়ে মূল সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন।

মাহমুদ আহমাদিনেজাদের ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তার উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা রাজনীতিবিদ আবদুর রেজা দাভারি ফোনে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘বোর্ডের পরিচালকের মতো মুজতবা দেশ পরিচালনা করছেন। বোর্ডের বাকি সদস্যদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার ওপর তিনি প্রচণ্ডভাবে নির্ভর করছেন এবং তারাই সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত তৈরি করছেন। সামরিক জেনারেলরাই এ বোর্ড সদস্য।’

ইরানের বর্তমান ক্ষমতা কাঠামোর বিষয়টি নিয়ে তেহরানের সরকারের ছয় শীর্ষ কর্মকর্তা, দুই সাবেক কর্মকর্তা, আইআরজিসির দুই সদস্য, অভ্যন্তরীণ কাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক আলেম ও আয়াতুল্লাহ খামেনির পরিচিত তিন ব্যক্তি নিউ ইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে কথা বলেছেন। এছাড়া আইআরজিসির সংশ্লিষ্ট ৯ ব্যক্তি নেতৃত্বের কাঠামোর বিষয়ে কথা বলেন। তবে সবাই নিজেদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য জানিয়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ আগ্রাসনে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিহত হওয়ার পর ইরানের জ্যেষ্ঠ আলেমদের কাউন্সিল নতুন রাহবার (ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা) হিসেবে আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করে। হামলায় বাবা-মাসহ নিজের স্ত্রী ও সন্তানকে হারান মুজতবা খামেনি। ওই হামলায় তিনিও আহত হয়েছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই গোপনে রয়েছেন তিনি। তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ খুবই কঠিন ও সীমাবদ্ধ। জানা যায়, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় ক্ষতের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও মেডিকেল স্টাফরাই তার সঙ্গে রয়েছেন।

আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ অধিনায়ক ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান না, যাতে করে তাদের অনুসরণ করে মুজতবা খামেনির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব না হয়। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যিনি নিজেই চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন।

যদিও আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি প্রচণ্ডভাবে আহত হয়েছেন, কিন্তু মানসিকভাবে তিনি সক্রিয় রয়েছেন জানান চার জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা। তার এক পায়ে তিনবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং কৃত্রিম পায়ের জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি। এছাড়া তার এক হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং ধীরে ধীরে তা সুস্থ হয়ে উঠছে। কর্মকর্তারা জানান, তার মুখ ও ঠোঁট মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে, যার ফলে তার কথা বলা কষ্টকর। সর্বোপরি এর জন্য তার শল্যচিকিৎসা প্রয়োজন হবে।

এখন পর্যন্ত মুজতবা খামেনি কোনো ভিডিও বা অডিও রেকর্ড করেননি। প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্যে নিজেকে দুর্বল হিসেবে দেখাতে চান না তিনি। এর বদলে সময়ে সময়ে বিভিন্ন লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন তিনি।

তার সঙ্গে বার্তার আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে দীর্ঘ ও জটিল পদ্ধতির বিশ্বস্ত মানুষের শৃঙ্খল ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত প্রদানে জেনারেলরাই মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বর্তমান আইআরজিসির জেনারেলদের সঙ্গে মুজতবা খামেনির যে সখ্য ছিল, তাই সিদ্ধান্ত প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে তৈরি করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, ইরানের পুরনো নেতৃত্ব ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের হত্যার মাধ্যমে ‘শাসক পরিবর্তন’ হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ইরানের ক্ষমতাসীনদের পতন হয়নি। এখন বরং ক্ষমতা আরো ‘কট্টরপন্থি’ সামরিক নেতাদের কাছে হস্তান্তর হয়েছে।

ব্রিটেনের চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক পরিচালক সনম ভকিল বলেন, ‘মুজতবা এখনো পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেননি। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শুধু সিদ্ধান্তগ্রহণের কাঠামোতে রয়েছেন।’