ঢাকা ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

যে ৫ কারণে যুদ্ধবিরতির পথে হেঁটেছেন ট্রাম্প

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৬:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 49
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতিতে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন দাবি করার পর তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরান কখনও যুদ্ধবিরতি চায়নি।

বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধও করেনি ইরান। ট্রাম্পের এই ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর’ ঘোষণার কয়েকটি সম্ভাব্য অর্থ খুঁজে পেয়েছে গণমাধ্যমটি।

১. ট্রাম্প যুদ্ধটি হেরে গেছেন
যুদ্ধ চলাকালীন সব ধরনের সম্ভাব্য কৌশল পরীক্ষা করেছেন ও প্রয়োগ করেছেন ট্রাম্প। তবে তিনি বুঝতে পেরেছেন যুদ্ধের মাধ্যমে কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। তাই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসাকেই সবচেয়ে ভালো পথ হিসেবে দেখছেন। এমনকি যদি তিনি ভুল সিদ্ধান্তে যুদ্ধ চালিয়ে যান, তাতেও কোনো লাভ হবে না।

২. প্রতারণার আশ্রয়
যদিও যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অর্জন করতে পারেনি। তবুও ট্রাম্প নানা ধরনের কৌশল ও প্রতারণার আশ্রয় নিতে পারেন। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা একটি হতে পারে।
ট্রাম্প দাবি করতে পারেন যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এরপর যুক্তরাষ্ট্রের একই ‘প্রশাসন’ বা তাদের আঞ্চলিক সহযোগী (ইসরাইল) আবারও ‘সন্ত্রাসী’ কার্যক্রম চালাতে পারে। তাসনিমের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানি কর্মকর্তারা এ ধরনের সম্ভাবনাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তারা এটি হালকাভাবে নিচ্ছেন না।

৩. প্রক্সি যুদ্ধ চালাবে
যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সরে যাবে, কিন্তু ইসরাইল লেবাননে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে—যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অজুহাতে। তবে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করা হয়েছে, তারা একতরফাভাবে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইসরাইলকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে দিতে পারবে না।

৪. নৌ অবরোধ
মার্কিন বাহিনীর নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে তা মানেই শত্রুতার অব্যাহত থাকা। অবরোধ যতদিন থাকবে, ইরান অন্তত হরমুজ প্রণালী খুলবে না এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে অবরোধ ভাঙবে।

৫. যুদ্ধের প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর যুদ্ধের ‘ছায়া’ বজায় রাখতে চায় এবং ইরানের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখতে চায়। ওয়াশিংটনের ধারণা, ইরানের পরিস্থিতি ১২ দিনের যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের মতোই আছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির একটি মৌলিক পার্থক্য হলো—হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ। যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধের এই ছায়া বজায় রাখতে চায়, তাহলে তাদের বুঝতে হবে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।

তাসনিম নিউজ এজেন্সির বিশ্লেষণ

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যে ৫ কারণে যুদ্ধবিরতির পথে হেঁটেছেন ট্রাম্প

আপডেট সময় : ০২:৩৬:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতিতে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন দাবি করার পর তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরান কখনও যুদ্ধবিরতি চায়নি।

বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধও করেনি ইরান। ট্রাম্পের এই ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর’ ঘোষণার কয়েকটি সম্ভাব্য অর্থ খুঁজে পেয়েছে গণমাধ্যমটি।

১. ট্রাম্প যুদ্ধটি হেরে গেছেন
যুদ্ধ চলাকালীন সব ধরনের সম্ভাব্য কৌশল পরীক্ষা করেছেন ও প্রয়োগ করেছেন ট্রাম্প। তবে তিনি বুঝতে পেরেছেন যুদ্ধের মাধ্যমে কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। তাই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসাকেই সবচেয়ে ভালো পথ হিসেবে দেখছেন। এমনকি যদি তিনি ভুল সিদ্ধান্তে যুদ্ধ চালিয়ে যান, তাতেও কোনো লাভ হবে না।

২. প্রতারণার আশ্রয়
যদিও যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অর্জন করতে পারেনি। তবুও ট্রাম্প নানা ধরনের কৌশল ও প্রতারণার আশ্রয় নিতে পারেন। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা একটি হতে পারে।
ট্রাম্প দাবি করতে পারেন যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এরপর যুক্তরাষ্ট্রের একই ‘প্রশাসন’ বা তাদের আঞ্চলিক সহযোগী (ইসরাইল) আবারও ‘সন্ত্রাসী’ কার্যক্রম চালাতে পারে। তাসনিমের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানি কর্মকর্তারা এ ধরনের সম্ভাবনাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তারা এটি হালকাভাবে নিচ্ছেন না।

৩. প্রক্সি যুদ্ধ চালাবে
যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সরে যাবে, কিন্তু ইসরাইল লেবাননে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে—যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অজুহাতে। তবে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করা হয়েছে, তারা একতরফাভাবে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইসরাইলকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে দিতে পারবে না।

৪. নৌ অবরোধ
মার্কিন বাহিনীর নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে তা মানেই শত্রুতার অব্যাহত থাকা। অবরোধ যতদিন থাকবে, ইরান অন্তত হরমুজ প্রণালী খুলবে না এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে অবরোধ ভাঙবে।

৫. যুদ্ধের প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর যুদ্ধের ‘ছায়া’ বজায় রাখতে চায় এবং ইরানের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখতে চায়। ওয়াশিংটনের ধারণা, ইরানের পরিস্থিতি ১২ দিনের যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের মতোই আছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির একটি মৌলিক পার্থক্য হলো—হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ। যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধের এই ছায়া বজায় রাখতে চায়, তাহলে তাদের বুঝতে হবে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।

তাসনিম নিউজ এজেন্সির বিশ্লেষণ