জুম্মার দিনে মায়ের বিদায়, জাগলো সন্তানের চিরন্তন দায়িত্ব
- আপডেট সময় : ০৪:৪৫:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 34
মোঃ আইনুল ইসলাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি।
সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম বাপ্পির মাতৃবিয়োগে সর্বমহলে গভীর শোক।
বরিশাল বিভাগের ক্রাইম রিপোর্টার তরিকুল ইসলাম বাপ্পির রত্নগর্ভা মাতা ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর এই দুনিয়া থেকে বিদায়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া—পরিবার, স্বজন এবং সাংবাদিক অঙ্গনসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরে।
১৭-০৪-২০২৬ ইং, রোজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে মরহুমার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীতে তাঁর নিজ গ্রাম ও পারিবারিক কবরস্থানে দাফন কার্য সম্পন্ন করা হয়।
জানাজায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সহকর্মী ও অসংখ্য মুসল্লী অংশগ্রহণ করেন। সবার চোখে ছিল শোক, আর হৃদয়ে ছিল দোয়ার আকুতি। মায়ের মৃত্যু কখনোই পূরণ হওয়ার নয়—এটি এমন এক বেদনা, যা শব্দে প্রকাশ করা যায় না। মা শুধু জন্মদাত্রী নন, তিনি সন্তানের জন্য রহমতের ছায়া, দোয়ার দরজা এবং জান্নাতের পথপ্রদর্শক।
মরহুমার ইন্তেকালে দেশবর্ন পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে। সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম বাপ্পি দেশবাসীর কাছে তাঁর মায়ের জন্য দোয়া কামনা করেছেন।
শিক্ষা ও উপলব্ধি:
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব,- এই শোক সংবাদ আমাদের সামনে তুলে ধরে এক কঠিন বাস্তবতা— পৃথিবীতে পিতা-মাতার খেদমত করার সুযোগ সীমিত, কিন্তু তার প্রতিদান সীমাহীন।
১. জীবিত অবস্থায় খেদমত:
পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সেবা করা প্রতিটি সন্তানের ফরজ দায়িত্ব। তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, তাদের চাওয়া-পাওয়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া,এবং তাদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার প্রতি যত্নবান হওয়াই প্রকৃত খেদমত।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“আর তোমার প্রতিপালক আদেশ করেছেন—তোমরা তাঁর ইবাদত করো এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো।” (সূরা আল-ইসরা: ২৩)
২. মৃত্যুর পর খেদমত:
পিতা-মাতার মৃত্যুতে দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না—বরং নতুনভাবে শুরু হয়।
✔ তাদের জন্য নিয়মিত দোয়া করা,
✔ তাদের বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়দের খোঁজ নেওয়া,
✔ দান-সদকা করা,
✔অসহায়দের সাহায্য করা
এসব কাজের সওয়াব তাদের কবর পর্যন্ত পৌঁছে যায়, আর তারা তাতে খুশি হন।
রাসূল (সা.) বলেছেন:
“মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি জিনিস ছাড়া—সদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান এবং নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।” (সহিহ মুসলিম),নেককার সন্তানের পরিচয়:
যে সন্তান পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর পিতা-মাতার জন্য দোয়া করে—“রব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগীরা” সেই সন্তানই প্রকৃত অর্থে ভাগ্যবান ও নেককার।
আত্মজাগরণ তথা মৃত্যুর আগে প্রস্তুতি :
আজকের এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মৃত্যু অনিবার্য, সময় সীমিত।তাই আমাদের উচিত—
✔ হালাল রিজিক অর্জন করা,
✔ হারাম থেকে বেঁচে থাকা,
✔ নিয়মিত ইবাদত করা,
✔ পিতা-মাতার সন্তুষ্টি অর্জন করা,
কারণ, হালাল উপার্জন ইবাদত কবুলের অন্যতম প্রধান শর্ত।
দোয়া:
আল্লাহ পাক মরহুমাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন ।
তার কবরকে নূরানী ও প্রশস্ত করে দিন, এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন। আমাদের সকলকে পিতা-মাতার নেককার সন্তান হিসেবে কবুল করুন। আমিন।
শেষ কথা :
“মা হারানো শুধু শোক নয়—এটি একটি জাগরণ,
যা প্রতিটি সন্তানকে মনে করিয়ে দেয়— সময় থাকতে ভালোবাসা, সেবা আর দোয়াই হলো সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।”























































