ঢাকা ১০:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস Logo দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা, নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ Logo প্রত্যেক উপজেলায় সংসদ সদস্যদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ বরাদ্দ   Logo হরমুজ এড়িয়ে সৌদি থেকে তেল নিয়ে চট্টগ্রাম আসছে জাহাজ Logo জ্বালানি সাশ্রয়ে বুধ-বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারকাজ চলবে ভার্চুয়ালি Logo এনসিপিতে যোগদানের হিড়িক Logo ৫ দফা দাবী সহ শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের মানববন্ধন কর্মসূচি Logo পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াবে বাংলাদেশ

ভূয়া সিম সেন্টার : দামে বেশি কাজে ফক্কা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৪:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 45
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোল্ডেন বা আকর্ষণীয় নম্বর হলো নির্দিষ্ট প্যাটার্নের নম্বর;  যা নিজের মোবাইল নম্বর হিসেবে পেতে গ্রাহক অনেক সময় মরিয়া হয়ে ওঠেন।  এজন্য যেকোনো অর্থ ব্যয় করতে দ্বিধা করেন না গ্রাহক।  এরকমই একটি আকর্ষণীয় নম্বর একজন গ্রাহক কিনেছেন ৮০ হাজার টাকায়। অথচ ওই মোবাইল কোম্পানির একটি সিম কিনতে সর্বোচ্চ কয়েকশ’ টাকা খরচ করতে হতে পারে।  এরই সুযোগে একটি চক্র দীর্ঘদিন থেকেই গোল্ডেন বা আকর্ষণীয় নম্বর নিয়ে অবৈধ বাণিজ্য করে আসছে।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একজন ব্যক্তি একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫টি সিম নিবন্ধন করতে পারেন।   কিন্তু একটি কোম্পানির অধীনে মোবাইল অপারেটরগুলো অনির্দিষ্ট সিম বরাদ্দ করতে পারে।  সেই সুযোগে ভুয়া কোম্পানির নামে দিনের পর দিন গোল্ডেন নম্বরের নিবন্ধন করে তা বেশি দামে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করাই যেন পেশা হয়ে ওঠে নাম সর্বস্ব এসএফ সোয়েটার এন্ড ফ্যাশন লিমিটেডের মালিক আবুল বাশার হিমুর।

এই অবৈধ কাজে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) উপপরিচালক সনজিব কুমার সিংহের বিরুদ্ধে নানাভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে এসএফ সোয়েটারের স্বত্ত্বাধিকারী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল বাশার হিমু বলেন, আমি গোল্ডেন নম্বর ক্রয়-বিক্রয়ের কোনো ব্যবসার সাথে জড়িত নই। বিটিআরসির কোনো কর্মকর্তার সঙ্গেও সম্পর্ক নেই।

নিজেকে এসএফ সোয়েটারের মালিক দাবি করলেও কখনও দাবি করেন অফিস গুলশান,  আবার কখনও উত্তরা। অফিশিয়াল নথিতে বাণিজ্যিক অফিসের ঠিকানা দেওয়া আছে উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে।  সেই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেটি একটি আবাসিক হোটেল। এখানে এসএফ সোয়েটার নামে কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো দিনই ছিল না। বাংলাদেশ বিমান অনুমোদিত এই হোটেলটির নাম হোটেল ডি মেরিডিয়ান।

এ প্রসঙ্গে মেরিডিয়ান হোটেলের কর্মচারী আক্তার হোসেন বলেন,  আমি পাঁচ বছরের বেশি সময় থেকে এই হোটেলে কর্মরত,  কোনোদিন এই নামের কোনো অফিসের কথা শুনি নাই।  মালিকদের মধ্যও এই নামে কেউ আছে বলে শুনি নাই।

পরে নিশাত নগরে বামনার টেক কারখানার ঠিকানায় খোঁজ নেওয়া হয়। সশরীরে সেই এলাকায় গিয়ে এসএফ সোয়েটার নামের কোনো কারখানা খুঁজে পাওয়া যায়নি।   নথিতে উল্লিখিত একাধিক নম্বরে যোগাযোগ করলেও সবগুলো নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।  কোম্পানির নামে ট্রান্সফার করা অন্য একটি নম্বরে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়।

এসএফ সোয়েটার কোম্পানির নামে নিবন্ধিত সিম কিনেছেন এমন একজন ভুক্তভোগী সুমন আলী বলেন,  আমি অন্তত চার-পাঁচবার বৈঠক করে একটি গোল্ডেন সিম কিনেছি। কোনোবারই নির্দিষ্ট কোনো নম্বর থেকে ফোন করেনি। ফোন বন্ধ পাওয়া যেত।  এটাই এদের স্বভাব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,  অনৈতিক কাজে গ্রামীণ ফোন হতে চাকরি হারানোর আগে থেকে গোল্ডেন সিম জালিয়াতিতে জড়িয়ে পড়েন আবুল বাশার হিমু।   চাকরি চলে গেলে পুরো দমে ২০১৫ সাল থেকেই এ ধরনের অবৈধ কাজে জড়িত হন তিনি। পরবর্তী দুই বছরে হিমু বেশ কিছু গোল্ডেন নম্বর নিজের কোম্পানির নামে নিবন্ধন করিয়ে তা অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। এই সময়ের মধ্যে গোল্ডেন নম্বর নিয়ে জালিয়াতির ফলে ১৯২টি সিম বন্ধ করে দেয় গ্রামীণ ফোন।

২০১৮ সালের জুলাই মাসে এসএফ সোয়েটারের নামে বরাদ্দকৃত ১৯২টি বন্ধ সিম চালু করতে গ্রামীণ ফোনকে চিঠি দেয় বিটিআরসির সিস্টেমস এন্ড সার্ভিসেস বিভাগ। সে সময় এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতেন বিটিআরসির উপ-পরিচালক সনজিব কুমার সিংহ।  অভিযোগ রয়েছে, হিমু ছাড়াও এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেকের সঙ্গে সনজিব কুমার সিংহের যোগাযোগ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির উপ-পরিচালক সনজিব কুমার সিংহ বলেন,  এ জাতীয় কোনো কাজের সঙ্গে আমি জড়িত নই।  বরং ২০১৬-১৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সময়ে এসব কথিত গোল্ডেন নম্বর জালিয়াতি ঠেকাতে কাজ করেছি।   ৮৬৪টা নম্বর সেসময় ব্লক করে দেওয়া হয়েছিল যা এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে বলেই জানি।

এ সময় হিমুর মালিকানাধীন এসএফ সোয়েটারের অধীনে ১৯২টি নম্বর খুলে দিতে গ্রামীণ ফোনকে চিঠির বিষয়ে সনজীব বলেন,  এগুলোর বিষয়ে আমার একক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নেই বরং সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেসের পরিচালক এমনকি বিটিআরসির চেয়ারম্যান পর্যন্ত অনুমোদন সাপেক্ষে করা হয়।

ফোন কোম্পানির নীতিমালা অনুযায়ী,  ১২ মাস সিম বন্ধ থাকলে তার মালিকানা হারাবেন গ্রাহক।  কিন্তু এই চক্রের সদস্যরা গোল্ডেন নম্বরের মালিকের নামে জাল মৃত্যু সনদ বানিয়ে সিমের মালিকানা পরিবর্তন করেন।  অনেক গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেন একটা বড় অংকের টাকা।

গ্রামীণ ফোনের সিইও বরাবর দেওয়া ২০২৪ সালের এক চিঠিতে দেখা যায়,  ৯টি নম্বরের মালিকানা পরিবর্তন করে এসএস সোয়েটারের অধীনে মালিকানা পরিবর্তন করে দিতে একটি চিঠি দেওয়া হয়।  সেই চিঠিতে একজনের নাম আব্দুল আজিজ উল্লেখ করা হয়েছিল।  মালিকানা পরিবর্তনের আলাদা তথ্যে আব্দুল আজিজের স্বাক্ষরও ব্যবহার করা হয়।  কিন্তু আব্দুল আজিজ ২০১৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।  সেই নম্বরটি বর্তমানে তার স্ত্রী ব্যবহার করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আব্দুল আজিজের স্ত্রী বলেন,  ‘এই নম্বরটি ২০১৭ সালের দিকে বেশ দাম দিয়েই কিনেছিলেন আমার স্বামী।  তিনি মারা যাওয়ার পর আমার নামে ট্রান্সফার করেছি।  আমি এসএফ সোয়েটারকে চিনি না।’

এসএফ সোয়েটারে মালিকানায় থাকা ১৯২টি সিমের মধ্যে থেকে দৈবক্রমে ফোন করা হয় আরও ২২ জনকে।  তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  তাদের সিমগুলোর মালিকানা এক সময় এসএফ সোয়েটারের ছিল তারা সেটা জানেন না।  তারা বেশ দাম দিয়ে বিভিন্ন দোকান ও ব্যক্তির কাছ থেকে কিনেছেন।  এমনকি গোল্ডেন নম্বর বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখেও কিনেছেন।

সূত্র : টাইমস টুডে

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভূয়া সিম সেন্টার : দামে বেশি কাজে ফক্কা

আপডেট সময় : ১০:২৪:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

গোল্ডেন বা আকর্ষণীয় নম্বর হলো নির্দিষ্ট প্যাটার্নের নম্বর;  যা নিজের মোবাইল নম্বর হিসেবে পেতে গ্রাহক অনেক সময় মরিয়া হয়ে ওঠেন।  এজন্য যেকোনো অর্থ ব্যয় করতে দ্বিধা করেন না গ্রাহক।  এরকমই একটি আকর্ষণীয় নম্বর একজন গ্রাহক কিনেছেন ৮০ হাজার টাকায়। অথচ ওই মোবাইল কোম্পানির একটি সিম কিনতে সর্বোচ্চ কয়েকশ’ টাকা খরচ করতে হতে পারে।  এরই সুযোগে একটি চক্র দীর্ঘদিন থেকেই গোল্ডেন বা আকর্ষণীয় নম্বর নিয়ে অবৈধ বাণিজ্য করে আসছে।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একজন ব্যক্তি একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫টি সিম নিবন্ধন করতে পারেন।   কিন্তু একটি কোম্পানির অধীনে মোবাইল অপারেটরগুলো অনির্দিষ্ট সিম বরাদ্দ করতে পারে।  সেই সুযোগে ভুয়া কোম্পানির নামে দিনের পর দিন গোল্ডেন নম্বরের নিবন্ধন করে তা বেশি দামে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করাই যেন পেশা হয়ে ওঠে নাম সর্বস্ব এসএফ সোয়েটার এন্ড ফ্যাশন লিমিটেডের মালিক আবুল বাশার হিমুর।

এই অবৈধ কাজে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) উপপরিচালক সনজিব কুমার সিংহের বিরুদ্ধে নানাভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে এসএফ সোয়েটারের স্বত্ত্বাধিকারী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল বাশার হিমু বলেন, আমি গোল্ডেন নম্বর ক্রয়-বিক্রয়ের কোনো ব্যবসার সাথে জড়িত নই। বিটিআরসির কোনো কর্মকর্তার সঙ্গেও সম্পর্ক নেই।

নিজেকে এসএফ সোয়েটারের মালিক দাবি করলেও কখনও দাবি করেন অফিস গুলশান,  আবার কখনও উত্তরা। অফিশিয়াল নথিতে বাণিজ্যিক অফিসের ঠিকানা দেওয়া আছে উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে।  সেই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেটি একটি আবাসিক হোটেল। এখানে এসএফ সোয়েটার নামে কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো দিনই ছিল না। বাংলাদেশ বিমান অনুমোদিত এই হোটেলটির নাম হোটেল ডি মেরিডিয়ান।

এ প্রসঙ্গে মেরিডিয়ান হোটেলের কর্মচারী আক্তার হোসেন বলেন,  আমি পাঁচ বছরের বেশি সময় থেকে এই হোটেলে কর্মরত,  কোনোদিন এই নামের কোনো অফিসের কথা শুনি নাই।  মালিকদের মধ্যও এই নামে কেউ আছে বলে শুনি নাই।

পরে নিশাত নগরে বামনার টেক কারখানার ঠিকানায় খোঁজ নেওয়া হয়। সশরীরে সেই এলাকায় গিয়ে এসএফ সোয়েটার নামের কোনো কারখানা খুঁজে পাওয়া যায়নি।   নথিতে উল্লিখিত একাধিক নম্বরে যোগাযোগ করলেও সবগুলো নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।  কোম্পানির নামে ট্রান্সফার করা অন্য একটি নম্বরে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়।

এসএফ সোয়েটার কোম্পানির নামে নিবন্ধিত সিম কিনেছেন এমন একজন ভুক্তভোগী সুমন আলী বলেন,  আমি অন্তত চার-পাঁচবার বৈঠক করে একটি গোল্ডেন সিম কিনেছি। কোনোবারই নির্দিষ্ট কোনো নম্বর থেকে ফোন করেনি। ফোন বন্ধ পাওয়া যেত।  এটাই এদের স্বভাব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,  অনৈতিক কাজে গ্রামীণ ফোন হতে চাকরি হারানোর আগে থেকে গোল্ডেন সিম জালিয়াতিতে জড়িয়ে পড়েন আবুল বাশার হিমু।   চাকরি চলে গেলে পুরো দমে ২০১৫ সাল থেকেই এ ধরনের অবৈধ কাজে জড়িত হন তিনি। পরবর্তী দুই বছরে হিমু বেশ কিছু গোল্ডেন নম্বর নিজের কোম্পানির নামে নিবন্ধন করিয়ে তা অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। এই সময়ের মধ্যে গোল্ডেন নম্বর নিয়ে জালিয়াতির ফলে ১৯২টি সিম বন্ধ করে দেয় গ্রামীণ ফোন।

২০১৮ সালের জুলাই মাসে এসএফ সোয়েটারের নামে বরাদ্দকৃত ১৯২টি বন্ধ সিম চালু করতে গ্রামীণ ফোনকে চিঠি দেয় বিটিআরসির সিস্টেমস এন্ড সার্ভিসেস বিভাগ। সে সময় এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতেন বিটিআরসির উপ-পরিচালক সনজিব কুমার সিংহ।  অভিযোগ রয়েছে, হিমু ছাড়াও এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেকের সঙ্গে সনজিব কুমার সিংহের যোগাযোগ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির উপ-পরিচালক সনজিব কুমার সিংহ বলেন,  এ জাতীয় কোনো কাজের সঙ্গে আমি জড়িত নই।  বরং ২০১৬-১৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সময়ে এসব কথিত গোল্ডেন নম্বর জালিয়াতি ঠেকাতে কাজ করেছি।   ৮৬৪টা নম্বর সেসময় ব্লক করে দেওয়া হয়েছিল যা এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে বলেই জানি।

এ সময় হিমুর মালিকানাধীন এসএফ সোয়েটারের অধীনে ১৯২টি নম্বর খুলে দিতে গ্রামীণ ফোনকে চিঠির বিষয়ে সনজীব বলেন,  এগুলোর বিষয়ে আমার একক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নেই বরং সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেসের পরিচালক এমনকি বিটিআরসির চেয়ারম্যান পর্যন্ত অনুমোদন সাপেক্ষে করা হয়।

ফোন কোম্পানির নীতিমালা অনুযায়ী,  ১২ মাস সিম বন্ধ থাকলে তার মালিকানা হারাবেন গ্রাহক।  কিন্তু এই চক্রের সদস্যরা গোল্ডেন নম্বরের মালিকের নামে জাল মৃত্যু সনদ বানিয়ে সিমের মালিকানা পরিবর্তন করেন।  অনেক গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেন একটা বড় অংকের টাকা।

গ্রামীণ ফোনের সিইও বরাবর দেওয়া ২০২৪ সালের এক চিঠিতে দেখা যায়,  ৯টি নম্বরের মালিকানা পরিবর্তন করে এসএস সোয়েটারের অধীনে মালিকানা পরিবর্তন করে দিতে একটি চিঠি দেওয়া হয়।  সেই চিঠিতে একজনের নাম আব্দুল আজিজ উল্লেখ করা হয়েছিল।  মালিকানা পরিবর্তনের আলাদা তথ্যে আব্দুল আজিজের স্বাক্ষরও ব্যবহার করা হয়।  কিন্তু আব্দুল আজিজ ২০১৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।  সেই নম্বরটি বর্তমানে তার স্ত্রী ব্যবহার করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আব্দুল আজিজের স্ত্রী বলেন,  ‘এই নম্বরটি ২০১৭ সালের দিকে বেশ দাম দিয়েই কিনেছিলেন আমার স্বামী।  তিনি মারা যাওয়ার পর আমার নামে ট্রান্সফার করেছি।  আমি এসএফ সোয়েটারকে চিনি না।’

এসএফ সোয়েটারে মালিকানায় থাকা ১৯২টি সিমের মধ্যে থেকে দৈবক্রমে ফোন করা হয় আরও ২২ জনকে।  তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  তাদের সিমগুলোর মালিকানা এক সময় এসএফ সোয়েটারের ছিল তারা সেটা জানেন না।  তারা বেশ দাম দিয়ে বিভিন্ন দোকান ও ব্যক্তির কাছ থেকে কিনেছেন।  এমনকি গোল্ডেন নম্বর বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখেও কিনেছেন।

সূত্র : টাইমস টুডে