ঢাকা ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

৩৭ বছরের শাসন ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের শেষে বিদায় নিলেন খামেনি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪১:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
  • / 128
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের শাসন ব্যবস্থা বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় আলাদা। নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বা সংসদ সদস্যরা দায়িত্ব পান, তবে মূল ক্ষমতা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে থাকে। ৩৭ বছর ধরে এই দায়িত্ব পালন করেছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

 

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ধর্মীয় পণ্ডিতের সন্তান ছিলেন এবং ১৯৬২ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ধর্মীয় আন্দোলনে যুক্ত হন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর খামেনি ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

 

১৯৮৯ সালের জুনে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ধর্মীয় নেতাদের বিশেষজ্ঞ পরিষদ খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। এরপর থেকে তিনি ইরানের রাজনীতি, প্রশাসন এবং সশস্ত্র বাহিনীর ওপর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন। শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যে কোনো চ্যালেঞ্জ কখনও কখনও তিনি সহিংসভাবে দমন করেছেন।

 

পররাষ্ট্র নীতিতেও খামেনি ধারাবাহিকভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং মুখোমুখি অবস্থান বজায় রেখেছেন। এছাড়া তিনি বারবার ইসরায়েল রাষ্ট্রের বিলুপ্তির আহ্বান জানিয়েছেন এবং হলোকাস্ট ঘটেছে কি না তা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন।

 

খামেনির শাসনামলে ইরানে সাতজন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছয় সন্তানের জনক। তার দীর্ঘ নেতৃত্ব, রাজনৈতিক প্রভাব এবং কঠোর নীতিগত অবস্থান ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতি নির্মাণে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

৩৭ বছরের শাসন ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের শেষে বিদায় নিলেন খামেনি

আপডেট সময় : ০৪:৪১:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

ইরানের শাসন ব্যবস্থা বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় আলাদা। নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বা সংসদ সদস্যরা দায়িত্ব পান, তবে মূল ক্ষমতা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে থাকে। ৩৭ বছর ধরে এই দায়িত্ব পালন করেছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

 

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ধর্মীয় পণ্ডিতের সন্তান ছিলেন এবং ১৯৬২ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ধর্মীয় আন্দোলনে যুক্ত হন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর খামেনি ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

 

১৯৮৯ সালের জুনে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ধর্মীয় নেতাদের বিশেষজ্ঞ পরিষদ খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। এরপর থেকে তিনি ইরানের রাজনীতি, প্রশাসন এবং সশস্ত্র বাহিনীর ওপর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন। শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যে কোনো চ্যালেঞ্জ কখনও কখনও তিনি সহিংসভাবে দমন করেছেন।

 

পররাষ্ট্র নীতিতেও খামেনি ধারাবাহিকভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং মুখোমুখি অবস্থান বজায় রেখেছেন। এছাড়া তিনি বারবার ইসরায়েল রাষ্ট্রের বিলুপ্তির আহ্বান জানিয়েছেন এবং হলোকাস্ট ঘটেছে কি না তা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন।

 

খামেনির শাসনামলে ইরানে সাতজন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছয় সন্তানের জনক। তার দীর্ঘ নেতৃত্ব, রাজনৈতিক প্রভাব এবং কঠোর নীতিগত অবস্থান ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতি নির্মাণে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।