ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

সব রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজা অনুষ্ঠিত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • / 123
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সব রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজা অনুষ্ঠিত

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, সিপিবি এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে জানাজার মাধ্যমে বিদায় জানানো হলো রণাঙ্গণের সেনানী, সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেলা সোয়া ১১টায় চট্টগ্রাম নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ১০টা থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জানাজায় অংশ নিতে মাঠে জড়ো হতে থাকেন। জানাজা শেষে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হলে চারদিক থেকে হাজারো সহযোদ্ধা, রাজনৈতিক সহচর ও অনুসারী ‘বীর চট্টলার মোশাররফ ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

পরে নেতাকর্মীরা মরদেহবাহী গাড়ির সঙ্গে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠ থেকে বের হয়ে আসেন। এ সময় মাঠের মূল ফটকে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান দেখা যায়। অ্যাম্বুলেন্সটি মীরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। জানাজায় সব রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “বর্ণাঢ্য একজন রাজনীতিবিদ বৃহত্তর চট্টগ্রামের জন্য অনেক অবদান রেখেছেন। মহানগর বিএনপি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তার অবদানের জন্য চট্টগ্রামবাসী সবসময় তাকে স্মরণে রাখবে।”

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান বলেন, “একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সারাজীবন তার সঙ্গে রাজনীতি করেছি। তিনি আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেলেন।”

সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “পাকিস্তান আমল থেকে তার সঙ্গে আমার স্মৃতি। চট্টগ্রামের উন্নয়নে তিনি অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সারির নেতা ছিলেন তিনি। উন্নয়ন পরিকল্পনা তিনি খুব ভালো বুঝতেন। মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।”

মোশাররফ হোসেনের ছেলে সাবেদুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন আইসিইউতে থাকার পর তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। দেশের উন্নয়নে কাজ করেছেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া চাই। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা করে দেবেন।”

এ সময় সিপিবি নেতা মোহাম্মদ শাহ আলম, ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন গেরিলা বাহিনী, মীরসরাই অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা শ্রদ্ধা জানান। জানাজায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, সিপিবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। লাহোরে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় তিনি ছয় দফা আন্দোলনে যুক্ত হন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনের নেতৃত্ব দেন।

১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আমৃত্যু তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।

১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং পরে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪-২০১৯ মেয়াদেও তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট তাকে কারা হাসপাতাল থেকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ১৪ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান তিনি।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার ছেলে মাহবুব রহমান রুহেল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে মীরসরাইয়ে দাফনের আগে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তের কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ, রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ কৃষি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান, এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় সীমান্ত এলাকার ৮০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি জাতের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো অধিক উচ্চতার ফসলের পরিবর্তে ধানসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সব রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজা অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ০৯:৪৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

সব রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজা অনুষ্ঠিত

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, সিপিবি এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে জানাজার মাধ্যমে বিদায় জানানো হলো রণাঙ্গণের সেনানী, সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেলা সোয়া ১১টায় চট্টগ্রাম নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ১০টা থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জানাজায় অংশ নিতে মাঠে জড়ো হতে থাকেন। জানাজা শেষে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হলে চারদিক থেকে হাজারো সহযোদ্ধা, রাজনৈতিক সহচর ও অনুসারী ‘বীর চট্টলার মোশাররফ ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

পরে নেতাকর্মীরা মরদেহবাহী গাড়ির সঙ্গে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠ থেকে বের হয়ে আসেন। এ সময় মাঠের মূল ফটকে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান দেখা যায়। অ্যাম্বুলেন্সটি মীরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। জানাজায় সব রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “বর্ণাঢ্য একজন রাজনীতিবিদ বৃহত্তর চট্টগ্রামের জন্য অনেক অবদান রেখেছেন। মহানগর বিএনপি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তার অবদানের জন্য চট্টগ্রামবাসী সবসময় তাকে স্মরণে রাখবে।”

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান বলেন, “একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সারাজীবন তার সঙ্গে রাজনীতি করেছি। তিনি আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেলেন।”

সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “পাকিস্তান আমল থেকে তার সঙ্গে আমার স্মৃতি। চট্টগ্রামের উন্নয়নে তিনি অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সারির নেতা ছিলেন তিনি। উন্নয়ন পরিকল্পনা তিনি খুব ভালো বুঝতেন। মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।”

মোশাররফ হোসেনের ছেলে সাবেদুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন আইসিইউতে থাকার পর তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। দেশের উন্নয়নে কাজ করেছেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া চাই। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা করে দেবেন।”

এ সময় সিপিবি নেতা মোহাম্মদ শাহ আলম, ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন গেরিলা বাহিনী, মীরসরাই অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা শ্রদ্ধা জানান। জানাজায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, সিপিবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। লাহোরে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় তিনি ছয় দফা আন্দোলনে যুক্ত হন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনের নেতৃত্ব দেন।

১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আমৃত্যু তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।

১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং পরে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪-২০১৯ মেয়াদেও তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট তাকে কারা হাসপাতাল থেকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ১৪ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান তিনি।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার ছেলে মাহবুব রহমান রুহেল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে মীরসরাইয়ে দাফনের আগে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে।