ঢাকা ০৪:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

হরিপুরে অশ্রুসজল চোখে প্রিয় ইমামকে সম্মান জানালেন এলাকাবাসী

নয়ন হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৪:০৯:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • / 7
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ ৪০ বছরের ইমামতি ও ধর্মীয় সেবার অধ্যায়ের ইতি টানলেন ভবানন্দপুর সরকারপাড়া জামে মসজিদের প্রবীণ ইমাম কারী হামিদুর রহমান।

শনিবার (২০ জুন) আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় এই ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে বিদায় জানাতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত হয়ে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

১৯৮৬ সালে ভবানন্দপুর সরকারপাড়া জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন কারী হামিদুর রহমান। এরপর টানা চার দশক ধরে তিনি নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করে মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নেন। সময়ের পরিক্রমায় তিনি শুধু একজন ইমাম নন, বরং এলাকার মানুষের অভিভাবক, পরামর্শদাতা ও আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য জানাজার নামাজ পরিচালনা করেছেন, নবজাতকের কানে আজান দিয়েছেন এবং মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে থেকেছেন। যেকোনো প্রয়োজনে, এমনকি গভীর রাতেও তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজে নৈতিকতা, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায়ও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয়রা বলেন, “কারী হামিদুর রহমান শুধু মসজিদের ইমাম ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো। তাঁর আন্তরিকতা, স্নেহ ও পরামর্শ আমাদের জীবনের নানা সময়ে পথ দেখিয়েছে। তাঁর বিদায়ে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”

অনুষ্ঠানে অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, কণ্ঠে ছিল কৃতজ্ঞতার ভাষা। চার দশকের নিরলস সেবা ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এলাকাবাসী তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও শান্তিময় জীবন কামনা করেন।

বিদায়ের এই মুহূর্তে স্মৃতিময় হয়ে উঠেছে তাঁর চার দশকের বর্ণাঢ্য পথচলার অসংখ্য অধ্যায়, যা ভবানন্দপুর সরকারপাড়ার মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তের কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ, রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ কৃষি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান, এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় সীমান্ত এলাকার ৮০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি জাতের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো অধিক উচ্চতার ফসলের পরিবর্তে ধানসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হরিপুরে অশ্রুসজল চোখে প্রিয় ইমামকে সম্মান জানালেন এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ০৪:০৯:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

দীর্ঘ ৪০ বছরের ইমামতি ও ধর্মীয় সেবার অধ্যায়ের ইতি টানলেন ভবানন্দপুর সরকারপাড়া জামে মসজিদের প্রবীণ ইমাম কারী হামিদুর রহমান।

শনিবার (২০ জুন) আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় এই ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে বিদায় জানাতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত হয়ে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

১৯৮৬ সালে ভবানন্দপুর সরকারপাড়া জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন কারী হামিদুর রহমান। এরপর টানা চার দশক ধরে তিনি নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করে মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নেন। সময়ের পরিক্রমায় তিনি শুধু একজন ইমাম নন, বরং এলাকার মানুষের অভিভাবক, পরামর্শদাতা ও আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য জানাজার নামাজ পরিচালনা করেছেন, নবজাতকের কানে আজান দিয়েছেন এবং মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে থেকেছেন। যেকোনো প্রয়োজনে, এমনকি গভীর রাতেও তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজে নৈতিকতা, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায়ও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয়রা বলেন, “কারী হামিদুর রহমান শুধু মসজিদের ইমাম ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো। তাঁর আন্তরিকতা, স্নেহ ও পরামর্শ আমাদের জীবনের নানা সময়ে পথ দেখিয়েছে। তাঁর বিদায়ে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”

অনুষ্ঠানে অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, কণ্ঠে ছিল কৃতজ্ঞতার ভাষা। চার দশকের নিরলস সেবা ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এলাকাবাসী তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও শান্তিময় জীবন কামনা করেন।

বিদায়ের এই মুহূর্তে স্মৃতিময় হয়ে উঠেছে তাঁর চার দশকের বর্ণাঢ্য পথচলার অসংখ্য অধ্যায়, যা ভবানন্দপুর সরকারপাড়ার মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।