ঢাকা ০৪:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা, খুলেছে ২০৪ আশ্রয়কেন্দ্র Logo এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলায় খুলনায় প্রতিবাদ মিছিল Logo হরিপুরে সরকারি সহায়তা পেলেন রোগী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও প্রতিবন্ধীরা Logo প্রত্যয় সংগঠনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন পিএবিএম-এর উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া Logo বিএডিসিতে গণবদলি নিয়ে তোলপাড়: চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা Logo মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে কাজী নজরুলকে প্রধান দিশারি হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo স্টেডফাস্ট কুরিয়ার কার্যালয় পরিদর্শনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, শান্তিপূর্ণ সমাধানে আইনানুগ নির্দেশনা Logo সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাকোপে কে.সি. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠিত Logo জৈব সারের নামে বর্জ্য বিতরণ, বদলি করা হয়েছে কামারখন্দের সেই কৃষি কর্মকর্তাকে Logo সুপারভাইজার বলেছিল ‘তুই মরলেও ছুটি নাই’

কেনো বাড়ছে জামায়াতের সাথে এনসিপির দূরত্ব ?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 193
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে জামায়াত ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির—এনসিপির দূরত্ব বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত।

অতীত কয়েক মাস ধরে যুগপথ আন্দোলনের মঞ্চে দু’দলকে একসাথে দেখা গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু রাজনৈতিক ইস্যুতে তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য।
বিশেষ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি নিয়ে দ্বন্দ্বই সামনে এনেছে এই ফাটল।

জামায়াত উচ্চ কক্ষে ও নিন্ম কক্ষে পিআর পদ্ধতি প্রয়োগের দাবি তুললেও এনসিপি সীমিতভাবে শুধুমাত্র উচ্চকক্ষে এর প্রয়োগে আগ্রহী। এই মতবিরোধের কারণে এনসিপি শেষ মুহূর্তে যুগপথ আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ায়, ফলে জামায়াত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ঠিক কাদের কে এই মূহুর্তে একত্রিত করে কর্মসূচি পালন করতে হবে।

এনসিপির দলীয় অভ্যন্তরেও বিভক্তি স্পষ্ট। একাংশ মনে করছে জামায়াতের সঙ্গে ভোটে গেলে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক ক্ষতি হতে পারে। বামপন্থী নেতারা আবার ধর্মভিত্তিক জোটের বিরোধিতা করছেন। ফলে এনসিপি আপাতত কোনও জোটে না যাওয়ার কৌশল নিয়েছে।

ছাত্রসংসদ নির্বাচনেও দেখা দিয়েছে হতাশা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এনসিপি সমর্থিত সংগঠন বাগছাস ভরাডুবি করলেও ইসলামী ছাত্রশিবির নিরংকুশ সাফল্য পেয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভিন্ন মতাদর্শের তরুণদের নিয়ে গড়ে ওঠা নতুন দল এনসিপির জন্য সমন্বয় করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই তারা আপাতত নিজেদের কর্মসূচি ও রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে তুলতে ব্যস্ত, আর জামায়াত সেটিকে দেখছে কৌশলগত বিচ্ছিন্নতা হিসেবে।

ফলে প্রশ্ন এখন একটাই—আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াত–এনসিপি সম্পর্কের এই দূরত্ব সাময়িক, নাকি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ভিন্নতার সূচনা?

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কেনো বাড়ছে জামায়াতের সাথে এনসিপির দূরত্ব ?

আপডেট সময় : ০৫:০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে জামায়াত ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির—এনসিপির দূরত্ব বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত।

অতীত কয়েক মাস ধরে যুগপথ আন্দোলনের মঞ্চে দু’দলকে একসাথে দেখা গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু রাজনৈতিক ইস্যুতে তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য।
বিশেষ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি নিয়ে দ্বন্দ্বই সামনে এনেছে এই ফাটল।

জামায়াত উচ্চ কক্ষে ও নিন্ম কক্ষে পিআর পদ্ধতি প্রয়োগের দাবি তুললেও এনসিপি সীমিতভাবে শুধুমাত্র উচ্চকক্ষে এর প্রয়োগে আগ্রহী। এই মতবিরোধের কারণে এনসিপি শেষ মুহূর্তে যুগপথ আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ায়, ফলে জামায়াত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ঠিক কাদের কে এই মূহুর্তে একত্রিত করে কর্মসূচি পালন করতে হবে।

এনসিপির দলীয় অভ্যন্তরেও বিভক্তি স্পষ্ট। একাংশ মনে করছে জামায়াতের সঙ্গে ভোটে গেলে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক ক্ষতি হতে পারে। বামপন্থী নেতারা আবার ধর্মভিত্তিক জোটের বিরোধিতা করছেন। ফলে এনসিপি আপাতত কোনও জোটে না যাওয়ার কৌশল নিয়েছে।

ছাত্রসংসদ নির্বাচনেও দেখা দিয়েছে হতাশা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এনসিপি সমর্থিত সংগঠন বাগছাস ভরাডুবি করলেও ইসলামী ছাত্রশিবির নিরংকুশ সাফল্য পেয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভিন্ন মতাদর্শের তরুণদের নিয়ে গড়ে ওঠা নতুন দল এনসিপির জন্য সমন্বয় করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই তারা আপাতত নিজেদের কর্মসূচি ও রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে তুলতে ব্যস্ত, আর জামায়াত সেটিকে দেখছে কৌশলগত বিচ্ছিন্নতা হিসেবে।

ফলে প্রশ্ন এখন একটাই—আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াত–এনসিপি সম্পর্কের এই দূরত্ব সাময়িক, নাকি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ভিন্নতার সূচনা?