ঢাকা ০৪:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা, খুলেছে ২০৪ আশ্রয়কেন্দ্র Logo এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলায় খুলনায় প্রতিবাদ মিছিল Logo হরিপুরে সরকারি সহায়তা পেলেন রোগী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও প্রতিবন্ধীরা Logo প্রত্যয় সংগঠনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন পিএবিএম-এর উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া Logo বিএডিসিতে গণবদলি নিয়ে তোলপাড়: চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা Logo মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে কাজী নজরুলকে প্রধান দিশারি হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo স্টেডফাস্ট কুরিয়ার কার্যালয় পরিদর্শনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, শান্তিপূর্ণ সমাধানে আইনানুগ নির্দেশনা Logo সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাকোপে কে.সি. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠিত Logo জৈব সারের নামে বর্জ্য বিতরণ, বদলি করা হয়েছে কামারখন্দের সেই কৃষি কর্মকর্তাকে Logo সুপারভাইজার বলেছিল ‘তুই মরলেও ছুটি নাই’

সৌদি-পাকিস্তানের সামরিক চুক্তিতে খুশি নয় মিসরীয়রা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 203
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরব ও পাকিস্তান গত সপ্তাহে নিজেদের মধ্যে সামরিক চুক্তি করে। দুটি দেশ ঘোষণা দিয়েছে, যদি তাদের কারও ওপর অন্য কোনো দেশ হামলা করে তাহলে এটি উভয়ের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

তবে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদির এ চুক্তিতে খুশি নয় মিসর। দেশটির সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করেছেন মিসরকে রেখে কেন পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি করল সৌদি।

বিশেষ করে গত ১৬ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় আরব-ইসলামি দেশগুলোর সম্মেলনের পর সৌদি এ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন মিসরীয়রা। কারণ ওই সম্মেলনে মিসর ন্যাটো স্টাইলে ‘আরব বাহিনী’ গঠনের প্রস্তাব পুনরায় উত্থাপন করেছিল। এই প্রস্তাবটি প্রথম ২০১৫ সালে দিয়েছিল মিসর।

এক মিসরীয় ফেসবুকে লিখেছেন, “দোহা সম্মেলনে আরব সামরিক চুক্তি নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছিল সেটি কেন সৌদি আরব পাশ কাটিয়ে গেলো। তাদের এর যথার্থ কারণ উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া সৌদি কেন যৌথ আরব সেনাবাহিনীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল। যে প্রস্তাব মিসর ২০১৫ সালে দিয়েছিল।”

আরেকজন লিখেছেন, “(পাকিস্তানের বদলে) সৌদি কেন মিসরের সঙ্গে চুক্তি করেনি। কেন তারা একটি শক্তিশালী আরব সেনাবাহিনী গঠন করতে চায় না।”

গত ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ সালমান রিয়াদে ঐতিহাসিক এ চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

সৌদি ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক বেশ পুরোনো। ১৯৭৯ সালে ইরানে যখন ইসলামিক বিপ্লব শুরু হলো তখন সৌদিকে সাহায্য করতে সেনা পাঠিয়েছিল সৌদি আরব।

এদিকে মিসরের সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলের হামলার পরই সৌদি নিজের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প খোঁজা শুরু করে। সৌদি আগে থেকেই পশ্চিমাদের ওপর অতিনির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছিল।

দোহায় ইসরায়েলি হামলার পর সৌদি দ্রুত সময়ের মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি করে। এরমাধ্যমে মূলত পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তির ছাতার নিচে চলে এসেছে তারা।

মিসরের রাজনৈতিক গবেষক আহমেদ আবদেল মিগুইদি সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরবকে বলেছেন, “সৌদি আরব স্পষ্টতই তার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব এবং জোটগুলোর মধ্যে বৈচিত্র আনার চেষ্টা করছিল।”

তিনি বলেন, “মনে হচ্ছে দোহায় ইসরায়েলি হামলা থেকে সৌদি শিক্ষা নিয়েছে। যা অন্য সহযোগীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে তাদের উদ্বুদ্ধ করেছে।”

 

সূত্র: দ্য নিউ আরব

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সৌদি-পাকিস্তানের সামরিক চুক্তিতে খুশি নয় মিসরীয়রা

আপডেট সময় : ০২:৪৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সৌদি আরব ও পাকিস্তান গত সপ্তাহে নিজেদের মধ্যে সামরিক চুক্তি করে। দুটি দেশ ঘোষণা দিয়েছে, যদি তাদের কারও ওপর অন্য কোনো দেশ হামলা করে তাহলে এটি উভয়ের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

তবে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদির এ চুক্তিতে খুশি নয় মিসর। দেশটির সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করেছেন মিসরকে রেখে কেন পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি করল সৌদি।

বিশেষ করে গত ১৬ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় আরব-ইসলামি দেশগুলোর সম্মেলনের পর সৌদি এ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন মিসরীয়রা। কারণ ওই সম্মেলনে মিসর ন্যাটো স্টাইলে ‘আরব বাহিনী’ গঠনের প্রস্তাব পুনরায় উত্থাপন করেছিল। এই প্রস্তাবটি প্রথম ২০১৫ সালে দিয়েছিল মিসর।

এক মিসরীয় ফেসবুকে লিখেছেন, “দোহা সম্মেলনে আরব সামরিক চুক্তি নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছিল সেটি কেন সৌদি আরব পাশ কাটিয়ে গেলো। তাদের এর যথার্থ কারণ উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া সৌদি কেন যৌথ আরব সেনাবাহিনীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল। যে প্রস্তাব মিসর ২০১৫ সালে দিয়েছিল।”

আরেকজন লিখেছেন, “(পাকিস্তানের বদলে) সৌদি কেন মিসরের সঙ্গে চুক্তি করেনি। কেন তারা একটি শক্তিশালী আরব সেনাবাহিনী গঠন করতে চায় না।”

গত ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ সালমান রিয়াদে ঐতিহাসিক এ চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

সৌদি ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক বেশ পুরোনো। ১৯৭৯ সালে ইরানে যখন ইসলামিক বিপ্লব শুরু হলো তখন সৌদিকে সাহায্য করতে সেনা পাঠিয়েছিল সৌদি আরব।

এদিকে মিসরের সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলের হামলার পরই সৌদি নিজের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প খোঁজা শুরু করে। সৌদি আগে থেকেই পশ্চিমাদের ওপর অতিনির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছিল।

দোহায় ইসরায়েলি হামলার পর সৌদি দ্রুত সময়ের মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি করে। এরমাধ্যমে মূলত পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তির ছাতার নিচে চলে এসেছে তারা।

মিসরের রাজনৈতিক গবেষক আহমেদ আবদেল মিগুইদি সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরবকে বলেছেন, “সৌদি আরব স্পষ্টতই তার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব এবং জোটগুলোর মধ্যে বৈচিত্র আনার চেষ্টা করছিল।”

তিনি বলেন, “মনে হচ্ছে দোহায় ইসরায়েলি হামলা থেকে সৌদি শিক্ষা নিয়েছে। যা অন্য সহযোগীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে তাদের উদ্বুদ্ধ করেছে।”

 

সূত্র: দ্য নিউ আরব