ঢাকা ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একাধিক ফ্লাইট বাতিল Logo অগ্নিঝরা মার্চ স্বাধীনতার মাস মার্চ Logo সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের নিবন্ধন সম্পন্ন, রেজিস্ট্রেশন নম্বর S-14517 Logo নরসিংদী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রশ্ন হাসনাত আবদুল্লাহ-র Logo তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত কর‌তে আগ্রহী পা‌কিস্তা‌নের প্রধানমন্ত্রী Logo বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ Logo ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না যে ৬ শ্রেণির মানুষ Logo পালিত হবে ‘শহীদ সেনা দিবস’ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo প্রশ্নপত্রের একটি অংশে ওসমান হাদির দুইটি উক্তি

১৪ বোতল অবৈধ মদসহ বিমানবন্দর থেকে রহস্যজনকভাবে মুক্তি মেহজাবীনের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৫০৭ বার পড়া হয়েছে

ছবি : সংগ্রহীত

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিদেশ থেকে অবৈধভাবে আনার সময় ১৪ বোতল মদসহ ধরা পড়েছিলেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। শুধু মেহজাবীনই নন, এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্বামী পরিচালক ও প্রযোজক আদনান আল রাজীব এবং চলচ্চিত্র পরিচালক শঙ্খ দাসগুপ্ত। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার বিধান থাকলেও রহস্যজনক কারণে বিমানবন্দর থেকে নির্দ্বিধায় বেরিয়ে যান তারা। বিষয়টি একেবারেই গোপন রাখে কাস্টম কর্তৃপক্ষ।

 

গত আগস্টে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটে। ১৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরার পর তাদের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। তবে আইন অনুযায়ী মামলার বিধান থাকলেও তা না করে রহস্যজনকভাবে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সেক্ষেত্রে মেহজাবীন থেকে কোনো মুচলেকাও নেওয়া হয়নি। তথ্য অনুযায়ী, বিএস-২১৮-এর একটি ফ্লাইটে এদিন ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরেন অভিনেত্রী মেহজাবীন, আদনান আল রাজীব ও শঙ্খ দাসগুপ্ত। বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল দিয়ে বের হওয়ার সময় কাস্টমস তল্লাশিতে তাদের লাগেজ থেকে ১৪ বোতল অ্যালকোহল উদ্ধার করা হয়। বিমানবন্দরে অ্যালকোহল বহন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকরা সর্বোচ্চ ১ লিটার অ্যালকোহল বহন করতে পারবেন। কিন্তু বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য বিমানবন্দরে অ্যালকোহল বহন করা বেআইনি।

 

বিমানবন্দর কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ ও কাস্টমস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া অ্যালকোহল বহন ও আমদানি নিষিদ্ধ। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত যাত্রীকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আইন অনুযায়ী মামলা করে থাকেন। মেহজাবীনকে আটকের পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নোটে উল্লেখ করে, যাত্রীরা কাস্টমস আইন ও যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা লঙ্ঘন করে আমদানি নিষিদ্ধ অ্যালকোহল বহন করেছেন। পরবর্তী আইনানুগ নিষ্পত্তির জন্য জব্দ পণ্য আটক রাখা হয়েছে। আটককারী কর্মকর্তা হিসেবে নোটে স্বাক্ষর করেছেন ডি শিফটের এয়ারপোর্ট রেভিনিউ অফিসার (এআরও) মো. মোতাকাব্বির আলী। নোটের রশিদ নং-ডিসিএইচ-ডিই-২০২৫০৮১৫২০।

 

মো. মোতাকাব্বির আলী বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন সিলেটে। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বলেন, কোনো বেআইনি ঘটনায় আটক করার পর কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মেহজাবীনের বেলায়ও সেটিই করেছিলাম। এরপর কী হয়েছে সে বিষয়ে আমি জানি না।

 

এই ঘটনায় আটককারী দুজন প্রটোকল কর্মকর্তার থেকেও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ মুচলেকা নিয়েছে। মুচলেকায় তারা উল্লেখ করেছেন, ‘আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারী দুজন অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি। ডিরেক্টর-২ স্যার প্রেরিত ম্যাসেজ অনুযায়ী বিএস-২১৮ ফ্লাইটে আগত তিন যাত্রী আদনান আল রাজীব, মেহজাবীন চৌধুরী ও শঙ্খ দাসগুপ্ত ব্যাংকক থেকে ঢাকা অবতরণ করে। প্রেরিত ম্যাসেজ অনুযায়ী আমরা প্রটোকল দিতে আসি। তাদের হাতব্যাগসহ গ্রিন চ্যানেল দিয়ে পার হওয়ার সময় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ১৪ বোতল লিকার আটক করে। আটক মালামালের বিষয়ে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।’

 

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মেহজাবীন, তার স্বামী আদনান আল রাজীব ও পরিচালক শঙ্খ দাসগুপ্তের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু গণমাধ্যম এ বিষয়ে অনুসন্ধান করছে জানতে পেরে তিনজনের কেউই সাড়া দেননি। তাদের তিনজনেরই মোবাইল ফোনে কল ও এসএমএস দেওয়া হয়। এ ছাড়া মেহজাবীনের স্বামীর অফিসেও যোগাযোগ করা হয়। তার ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনিও সাড়া দেননি। পরে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে সরাসরি মেহজাবীনের সঙ্গে দেখা করে প্রশ্ন করতে চাইলে তিনি কোনো ব্যক্তিগত বিষয়ে অনুষ্ঠানে মন্তব্য করবেন না বলে জানান।

 

সুত্র ; দৈনিক ইনকিলাব

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

১৪ বোতল অবৈধ মদসহ বিমানবন্দর থেকে রহস্যজনকভাবে মুক্তি মেহজাবীনের

আপডেট সময় : ০৬:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিদেশ থেকে অবৈধভাবে আনার সময় ১৪ বোতল মদসহ ধরা পড়েছিলেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। শুধু মেহজাবীনই নন, এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্বামী পরিচালক ও প্রযোজক আদনান আল রাজীব এবং চলচ্চিত্র পরিচালক শঙ্খ দাসগুপ্ত। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার বিধান থাকলেও রহস্যজনক কারণে বিমানবন্দর থেকে নির্দ্বিধায় বেরিয়ে যান তারা। বিষয়টি একেবারেই গোপন রাখে কাস্টম কর্তৃপক্ষ।

 

গত আগস্টে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটে। ১৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরার পর তাদের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। তবে আইন অনুযায়ী মামলার বিধান থাকলেও তা না করে রহস্যজনকভাবে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সেক্ষেত্রে মেহজাবীন থেকে কোনো মুচলেকাও নেওয়া হয়নি। তথ্য অনুযায়ী, বিএস-২১৮-এর একটি ফ্লাইটে এদিন ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরেন অভিনেত্রী মেহজাবীন, আদনান আল রাজীব ও শঙ্খ দাসগুপ্ত। বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল দিয়ে বের হওয়ার সময় কাস্টমস তল্লাশিতে তাদের লাগেজ থেকে ১৪ বোতল অ্যালকোহল উদ্ধার করা হয়। বিমানবন্দরে অ্যালকোহল বহন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকরা সর্বোচ্চ ১ লিটার অ্যালকোহল বহন করতে পারবেন। কিন্তু বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য বিমানবন্দরে অ্যালকোহল বহন করা বেআইনি।

 

বিমানবন্দর কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ ও কাস্টমস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া অ্যালকোহল বহন ও আমদানি নিষিদ্ধ। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত যাত্রীকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আইন অনুযায়ী মামলা করে থাকেন। মেহজাবীনকে আটকের পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নোটে উল্লেখ করে, যাত্রীরা কাস্টমস আইন ও যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা লঙ্ঘন করে আমদানি নিষিদ্ধ অ্যালকোহল বহন করেছেন। পরবর্তী আইনানুগ নিষ্পত্তির জন্য জব্দ পণ্য আটক রাখা হয়েছে। আটককারী কর্মকর্তা হিসেবে নোটে স্বাক্ষর করেছেন ডি শিফটের এয়ারপোর্ট রেভিনিউ অফিসার (এআরও) মো. মোতাকাব্বির আলী। নোটের রশিদ নং-ডিসিএইচ-ডিই-২০২৫০৮১৫২০।

 

মো. মোতাকাব্বির আলী বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন সিলেটে। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বলেন, কোনো বেআইনি ঘটনায় আটক করার পর কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মেহজাবীনের বেলায়ও সেটিই করেছিলাম। এরপর কী হয়েছে সে বিষয়ে আমি জানি না।

 

এই ঘটনায় আটককারী দুজন প্রটোকল কর্মকর্তার থেকেও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ মুচলেকা নিয়েছে। মুচলেকায় তারা উল্লেখ করেছেন, ‘আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারী দুজন অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি। ডিরেক্টর-২ স্যার প্রেরিত ম্যাসেজ অনুযায়ী বিএস-২১৮ ফ্লাইটে আগত তিন যাত্রী আদনান আল রাজীব, মেহজাবীন চৌধুরী ও শঙ্খ দাসগুপ্ত ব্যাংকক থেকে ঢাকা অবতরণ করে। প্রেরিত ম্যাসেজ অনুযায়ী আমরা প্রটোকল দিতে আসি। তাদের হাতব্যাগসহ গ্রিন চ্যানেল দিয়ে পার হওয়ার সময় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ১৪ বোতল লিকার আটক করে। আটক মালামালের বিষয়ে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।’

 

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মেহজাবীন, তার স্বামী আদনান আল রাজীব ও পরিচালক শঙ্খ দাসগুপ্তের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু গণমাধ্যম এ বিষয়ে অনুসন্ধান করছে জানতে পেরে তিনজনের কেউই সাড়া দেননি। তাদের তিনজনেরই মোবাইল ফোনে কল ও এসএমএস দেওয়া হয়। এ ছাড়া মেহজাবীনের স্বামীর অফিসেও যোগাযোগ করা হয়। তার ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনিও সাড়া দেননি। পরে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে সরাসরি মেহজাবীনের সঙ্গে দেখা করে প্রশ্ন করতে চাইলে তিনি কোনো ব্যক্তিগত বিষয়ে অনুষ্ঠানে মন্তব্য করবেন না বলে জানান।

 

সুত্র ; দৈনিক ইনকিলাব