ঢাকা ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ মানে হলো জনগণের নিজের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা: সাংবাদিক রাকিব হোসেন মিলন

নাদিম শেখ আদর
  • আপডেট সময় : ০৫:১০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • / 320

সাংবাদিক রাকিব হোসেন মিলন

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ এখন এক নতুন রাজনৈতিক সময়ের মুখে। জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে চারদিকে। তৈরি মতবিরোধ এখনও চলছে। মূলত, এই সনদে যে সংস্কার প্রস্তাবগুলো এসেছে সেগুলো ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে। কিন্তু যেহেতু এই সনদ কোনো নির্বাচিত সংবিধান সভার মাধ্যমে হয়নি, তাই এর গণতান্ত্রিক ভিত্তি শক্ত করতে গণভোট জরুরি। জনগণের ভোটেই ঠিক হবে—এই সংস্কার তারা চায় কি না।

প্রথম কারণ, গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদকে আমরা বৈধতা দিতে চাই। এটি জনগণের সম্মতির দলিল হয়ে উঠবে। যদি জনগণ ভোট দিয়ে সায় দেয় তাহলে এটা কেবল কিছু বিশেষজ্ঞের মত নয় বরং জাতির ইচ্ছার প্রকাশ হবে।

দ্বিতীয় কারণ, আমরা চাই না এই সংস্কারের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি পরের সংসদের হাতে থাকুক। কারণ অভিজ্ঞতা বলে, যে দলই ক্ষমতায় যাক, তারা অনেক সময় নিজেদের দলীয় স্বার্থকে আগে রাখে। তাই জনগণের ভোটে যদি জুলাই সনদ পাস হয়, তাহলে পরের সরকার বাধ্য থাকবে সেটা বাস্তবায়ন করতে। এইভাবে জনগণের ভোটই হবে সরকারের ওপর গণতান্ত্রিক চাপ।

তৃতীয় কারণ, গণভোট ছাড়া এই চাপ সৃষ্টি করা হলে সেটি অগণতান্ত্রিক হতো। কিন্তু গণভোটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামত প্রকাশ পেলে সেটা পুরোপুরি গণতান্ত্রিক হবে।

চতুর্থত, যদি জুলাই সনদ গণভোটে জয় পায়, অথচ পরের সরকার সেটা বাস্তবায়ন না করে, তাহলে মানুষ মনে করবে তারা প্রতারিত হয়েছে। তখন জনগণের এই ক্ষোভ থেকে নতুন রাজনৈতিক আন্দোলন তৈরি হতে পারে। জুলাই সনদ তখন হয়ে উঠবে পরিবর্তনের প্রতীক—যা ভবিষ্যতের রাজনীতিকে নতুন পথে চালিত করবে।

অন্যদিকে, যদি জুলাই সনদ গণভোটে হেরে যায়, তাহলে বুঝতে হবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এইভাবে পরিবর্তন চায় না। তারা সংসদীয় প্রক্রিয়ায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন পছন্দ করে। সেটাই হবে জনগণের মতামত, আর সেটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

শেষত, যদি আমরা গণভোট ছাড়া জুলাই সনদ চাইতাম, তাহলে এটা হতো কেবল কিছু সুশীল মানুষের চিন্তা। কিন্তু গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ মানে হলো—জনগণের নিজের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা।

জুলাই সনদ ও গণভোট তাই শুধু কোনো রাজনৈতিক উদ্যোগ নয়, এটা হচ্ছে জনগণের আস্থা ফেরানোর এক বড় সুযোগ। এখানে মানুষ নিজের কণ্ঠে জানাবে তারা কেমন ভবিষ্যৎ চায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তের কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ, রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ কৃষি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান, এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় সীমান্ত এলাকার ৮০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি জাতের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো অধিক উচ্চতার ফসলের পরিবর্তে ধানসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ মানে হলো জনগণের নিজের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা: সাংবাদিক রাকিব হোসেন মিলন

আপডেট সময় : ০৫:১০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ এখন এক নতুন রাজনৈতিক সময়ের মুখে। জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে চারদিকে। তৈরি মতবিরোধ এখনও চলছে। মূলত, এই সনদে যে সংস্কার প্রস্তাবগুলো এসেছে সেগুলো ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে। কিন্তু যেহেতু এই সনদ কোনো নির্বাচিত সংবিধান সভার মাধ্যমে হয়নি, তাই এর গণতান্ত্রিক ভিত্তি শক্ত করতে গণভোট জরুরি। জনগণের ভোটেই ঠিক হবে—এই সংস্কার তারা চায় কি না।

প্রথম কারণ, গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদকে আমরা বৈধতা দিতে চাই। এটি জনগণের সম্মতির দলিল হয়ে উঠবে। যদি জনগণ ভোট দিয়ে সায় দেয় তাহলে এটা কেবল কিছু বিশেষজ্ঞের মত নয় বরং জাতির ইচ্ছার প্রকাশ হবে।

দ্বিতীয় কারণ, আমরা চাই না এই সংস্কারের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি পরের সংসদের হাতে থাকুক। কারণ অভিজ্ঞতা বলে, যে দলই ক্ষমতায় যাক, তারা অনেক সময় নিজেদের দলীয় স্বার্থকে আগে রাখে। তাই জনগণের ভোটে যদি জুলাই সনদ পাস হয়, তাহলে পরের সরকার বাধ্য থাকবে সেটা বাস্তবায়ন করতে। এইভাবে জনগণের ভোটই হবে সরকারের ওপর গণতান্ত্রিক চাপ।

তৃতীয় কারণ, গণভোট ছাড়া এই চাপ সৃষ্টি করা হলে সেটি অগণতান্ত্রিক হতো। কিন্তু গণভোটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামত প্রকাশ পেলে সেটা পুরোপুরি গণতান্ত্রিক হবে।

চতুর্থত, যদি জুলাই সনদ গণভোটে জয় পায়, অথচ পরের সরকার সেটা বাস্তবায়ন না করে, তাহলে মানুষ মনে করবে তারা প্রতারিত হয়েছে। তখন জনগণের এই ক্ষোভ থেকে নতুন রাজনৈতিক আন্দোলন তৈরি হতে পারে। জুলাই সনদ তখন হয়ে উঠবে পরিবর্তনের প্রতীক—যা ভবিষ্যতের রাজনীতিকে নতুন পথে চালিত করবে।

অন্যদিকে, যদি জুলাই সনদ গণভোটে হেরে যায়, তাহলে বুঝতে হবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এইভাবে পরিবর্তন চায় না। তারা সংসদীয় প্রক্রিয়ায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন পছন্দ করে। সেটাই হবে জনগণের মতামত, আর সেটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

শেষত, যদি আমরা গণভোট ছাড়া জুলাই সনদ চাইতাম, তাহলে এটা হতো কেবল কিছু সুশীল মানুষের চিন্তা। কিন্তু গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ মানে হলো—জনগণের নিজের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা।

জুলাই সনদ ও গণভোট তাই শুধু কোনো রাজনৈতিক উদ্যোগ নয়, এটা হচ্ছে জনগণের আস্থা ফেরানোর এক বড় সুযোগ। এখানে মানুষ নিজের কণ্ঠে জানাবে তারা কেমন ভবিষ্যৎ চায়।