ঢাকা ০১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

কড়াইল বস্তিতে ঘর পুড়ে ছাই, শাকিলের আশা বেঁচে আছে ট্রাঙ্কে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / 301
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর কড়াইল বস্তির ক ব্লকে স্ত্রী ও ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে সংসার শাকিল হাসানের। বনানীর একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি শেষে বিকেলে ঘরে ফিরে স্ত্রী ও মেয়েকে একটু কাছে পাওয়া—এসবই ছিল তাঁর ছোট্ট শান্তির সংসার।

কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার রাতে আগুনের লেলিহান শিখা শাকিলের সেই শান্তি একমুহূর্তে ছাই করে দিয়েছে। ঘর, ঘরের আসবাব, অল্প কিছু টাকা, কাপড়—সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এসবের মধ্যে রক্ষা পেয়েছে কেবল টিনের একটি ট্রাঙ্ক। এই ট্রাঙ্কের ভেতরে ছিল শাকিলের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ব্যাংকের কাগজপত্র, পড়াশোনার সনদ এবং আগামী দিনের লড়াইয়ের রসদ।

আজ বেলা ১১টার দিকে পুড়ে যাওয়া ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে কথা হয় শাকিল হাসানের সঙ্গে। এ সময় তিনি ওই ট্রাঙ্কের ভেতর থেকে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলো বের করছিলেন।

শাকিল বলেন, আগুন লাগার সময় তিনি অফিসে ছিলেন। খবর পেয়ে অফিস থেকে দৌড়াতে দৌড়াতে পৌঁছে দেখেন, আগুন তাঁর ঘর গ্রাস করার কাছাকাছি।

ঘরে তালা দিয়ে স্ত্রী আর মেয়ে আগেই নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়েছিল জানিয়ে শাকিল বলেন, পরিবার নিরাপদে আছে—বিপদে এটাই সাহস দেয়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তিন ঘর পর তাঁর মামার ঘরেও আগুন লাগে।

‘স্ত্রী আর মেয়ে নিরাপদে আছে, এই সাহস পেয়ে তালা খুলে ঝুঁকি নিয়ে ঘরে ঢুকি। ঢুকেই এক কোণে ১০ বাই ১৮ ইঞ্চির ট্রাঙ্কটি চোখে পড়ল। জানতাম, এর ভেতর আমার সব গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র আছে। ওয়ার্ডরোবে সামান্য টাকা ছিল, কিন্তু সেটা বের করার সময় ছিল না। আগুন একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে। মুহূর্তের সিদ্ধান্তে ট্রাঙ্কটি নিয়ে নিচে নেমে পানির হাউসে ফেলে দিই। এরপর উঠে দেখি, আমার ঘরের চালেও দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আর সময় পাইনি, জীবন বাঁচাতে ঘর ছেড়ে বের হতে হয়েছে’, এভাবেই নিজের ঘরে আগুন লাগার বর্ণনা দিয়েছেন শাকিল।

এখানে শাকিলের ঘর ছিল। এখন ট্রাঙ্কটি ছাড়া আর কিছু নেই।

শাকিল বলেন, আগুন থেকে বাঁচতে বস্তির সামনে দিয়ে আর বের হতে পারেননি। পেছনের দিক দিয়ে, গুলশান লেকের পাড়ে যান। ভোরে ফিরে দেখেন, তাঁর ঘরের আর কোনো অস্তিত্বই নেই। সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়ার পর শাকিল স্ত্রী ও ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে এরশাদ মাঠে রাত কাটিয়েছেন। এখনো তাঁরা ঠিক জানেন না কোথায় থাকবেন? কোথায় ফিরবেন?

শাকিলের মতো কড়াইল বস্তির অন্য বাসিন্দারাও আগুনে নিজের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র রক্ষার জন্য নানা উপায় অবলম্বন করেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা বলেন, আগুন লাগলে প্রয়োজনীয় জিনিস কেউ ট্রাঙ্কে, কেউ বালতি বা পাতিলে, আবার কেউ পলিথিনে বেঁধে পানির হাউসে ফেলে দেন বা পাশের নিরাপদ স্থানে রাখেন। আগুন নিভে গেলে তা তুলে নেন। এতে অন্তত জরুরি কিছু জিনিস আগুনের হাত থেকে বাঁচানো যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তের কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ, রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ কৃষি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান, এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় সীমান্ত এলাকার ৮০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি জাতের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো অধিক উচ্চতার ফসলের পরিবর্তে ধানসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কড়াইল বস্তিতে ঘর পুড়ে ছাই, শাকিলের আশা বেঁচে আছে ট্রাঙ্কে

আপডেট সময় : ০৮:৫২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীর কড়াইল বস্তির ক ব্লকে স্ত্রী ও ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে সংসার শাকিল হাসানের। বনানীর একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি শেষে বিকেলে ঘরে ফিরে স্ত্রী ও মেয়েকে একটু কাছে পাওয়া—এসবই ছিল তাঁর ছোট্ট শান্তির সংসার।

কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার রাতে আগুনের লেলিহান শিখা শাকিলের সেই শান্তি একমুহূর্তে ছাই করে দিয়েছে। ঘর, ঘরের আসবাব, অল্প কিছু টাকা, কাপড়—সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এসবের মধ্যে রক্ষা পেয়েছে কেবল টিনের একটি ট্রাঙ্ক। এই ট্রাঙ্কের ভেতরে ছিল শাকিলের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ব্যাংকের কাগজপত্র, পড়াশোনার সনদ এবং আগামী দিনের লড়াইয়ের রসদ।

আজ বেলা ১১টার দিকে পুড়ে যাওয়া ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে কথা হয় শাকিল হাসানের সঙ্গে। এ সময় তিনি ওই ট্রাঙ্কের ভেতর থেকে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলো বের করছিলেন।

শাকিল বলেন, আগুন লাগার সময় তিনি অফিসে ছিলেন। খবর পেয়ে অফিস থেকে দৌড়াতে দৌড়াতে পৌঁছে দেখেন, আগুন তাঁর ঘর গ্রাস করার কাছাকাছি।

ঘরে তালা দিয়ে স্ত্রী আর মেয়ে আগেই নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়েছিল জানিয়ে শাকিল বলেন, পরিবার নিরাপদে আছে—বিপদে এটাই সাহস দেয়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তিন ঘর পর তাঁর মামার ঘরেও আগুন লাগে।

‘স্ত্রী আর মেয়ে নিরাপদে আছে, এই সাহস পেয়ে তালা খুলে ঝুঁকি নিয়ে ঘরে ঢুকি। ঢুকেই এক কোণে ১০ বাই ১৮ ইঞ্চির ট্রাঙ্কটি চোখে পড়ল। জানতাম, এর ভেতর আমার সব গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র আছে। ওয়ার্ডরোবে সামান্য টাকা ছিল, কিন্তু সেটা বের করার সময় ছিল না। আগুন একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে। মুহূর্তের সিদ্ধান্তে ট্রাঙ্কটি নিয়ে নিচে নেমে পানির হাউসে ফেলে দিই। এরপর উঠে দেখি, আমার ঘরের চালেও দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আর সময় পাইনি, জীবন বাঁচাতে ঘর ছেড়ে বের হতে হয়েছে’, এভাবেই নিজের ঘরে আগুন লাগার বর্ণনা দিয়েছেন শাকিল।

এখানে শাকিলের ঘর ছিল। এখন ট্রাঙ্কটি ছাড়া আর কিছু নেই।

শাকিল বলেন, আগুন থেকে বাঁচতে বস্তির সামনে দিয়ে আর বের হতে পারেননি। পেছনের দিক দিয়ে, গুলশান লেকের পাড়ে যান। ভোরে ফিরে দেখেন, তাঁর ঘরের আর কোনো অস্তিত্বই নেই। সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়ার পর শাকিল স্ত্রী ও ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে এরশাদ মাঠে রাত কাটিয়েছেন। এখনো তাঁরা ঠিক জানেন না কোথায় থাকবেন? কোথায় ফিরবেন?

শাকিলের মতো কড়াইল বস্তির অন্য বাসিন্দারাও আগুনে নিজের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র রক্ষার জন্য নানা উপায় অবলম্বন করেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা বলেন, আগুন লাগলে প্রয়োজনীয় জিনিস কেউ ট্রাঙ্কে, কেউ বালতি বা পাতিলে, আবার কেউ পলিথিনে বেঁধে পানির হাউসে ফেলে দেন বা পাশের নিরাপদ স্থানে রাখেন। আগুন নিভে গেলে তা তুলে নেন। এতে অন্তত জরুরি কিছু জিনিস আগুনের হাত থেকে বাঁচানো যায়।