ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

উপস্থাপক হওয়ার প্রথম শর্ত একটাই শুরু করা: নাদিম শেখ আদর

নাদিম শেখ আদর
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৭:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 276

সাংবাদিক নাদিম শেখ আদর

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সংবাদ উপস্থাপক হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা আসলে ক্যামেরা না, মাইক্রোফোন না, এমনকি কণ্ঠও না। বাধাটা আসে নিজের মনে।

অনেকে নিজেকে প্রশ্ন করে

  • আমি কি পারবো?
  • আমার কণ্ঠ তো ভালো না।
  • আমি তো খুব আত্মবিশ্বাসী না।
  • আমার উচ্চারণে ভুল হয়।

এই প্রশ্নগুলো নতুনদের প্রায় সবার মাথায় আসে। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এখানেই একটা সত্য পরিষ্কার করা দরকার। সংবাদ উপস্থাপক জন্মগত কেউ হয় না। সংবাদ উপস্থাপক তৈরি হয়।

অনেকেই মনে করে, “ভালো কণ্ঠ না হলে নিউজ রিডার হওয়া যায় না।” এটা অর্ধেক সত্য, অর্ধেক ভুল। ভারী কণ্ঠ অবশ্যই একটা প্লাস পয়েন্ট, কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়। সংবাদ উপস্থাপনায় সবচেয়ে জরুরি হলো পরিষ্কার উচ্চারণ, শব্দের উপর নিয়ন্ত্রণ আর বার্তা বোঝাতে পারা। এগুলো অনুশীলনের মাধ্যমে আসে।

আজ যাদের কণ্ঠ শুনে আপনি মুগ্ধ হন, তারাও একদিন নিজের কণ্ঠ শুনে বিরক্ত হয়েছেন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে খবর পড়তে গিয়ে আটকে গেছেন। রেকর্ড করা নিজের ভয়েস শুনে লজ্জা পেয়েছেন। পার্থক্য একটাই, তারা থেমে যাননি।

আরেকটা বড় ভয় হলো আত্মবিশ্বাস। ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে ভয় লাগে, জড়তা আসে। মনে রাখবেন, আত্মবিশ্বাস কোনো জাদু না যে একদিনে চলে আসবে। আত্মবিশ্বাস আসে প্রস্তুতি থেকে। আপনি যত বেশি পড়বেন, যত বেশি প্র্যাকটিস করবেন, ভয় তত কমবে।

উচ্চারণ ভুল হয়?

খুব ভালো। কারণ ভুল না হলে শেখাও হয় না। “শুদ্ধ উচ্চারণ” জন্মগত নয়, এটা শেখার বিষয়। আজ যারা নিখুঁত উচ্চারণ করেন, তারা একদিন “সংবাদ” শব্দটাই ঠিকভাবে বলতে পারতেন না।

সংবাদ উপস্থাপক হওয়ার জন্য সবচেয়ে দরকারি তিনটি জিনিস হলো:

  • শেখার ইচ্ছা
  • নিয়মিত অনুশীলন
  • এবং ধৈর্য

আপনি যদি শেখার জন্য প্রস্তুত থাকেন, তাহলে আপনার কণ্ঠকে ট্রেইন করা যাবে। আপনার উপস্থাপনাকে গুছানো যাবে। আপনার ভয়কে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

নিজেকে এই প্রশ্নটা করুন-

আমি কি চেষ্টা না করেই হাল ছেড়ে দিচ্ছি?

সংবাদ উপস্থাপনা শুধু সুন্দর কণ্ঠের খেলা নয়। এটা দায়িত্বের কাজ। সত্যটা স্পষ্টভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ। আপনি যদি দায়িত্বটা বুঝতে পারেন, তাহলে ধীরে ধীরে কণ্ঠ, ভঙ্গি, আত্মবিশ্বাস সবই আপনার আয়ত্তে আসবে।

আজ শুরু করলে আপনি এখনই সেরা হবেন না। কিন্তু শুরু না করলে কখনোই হবেন না।

তাই নিজেকে বলুন

  • আমি পারবো, কারণ আমি শিখতে চাই।
  • আমি পারবো, কারণ আমি চেষ্টা চালিয়ে যাবো।
  • আমি পারবো, কারণ কেউ জন্মগত পারফেক্ট না।

সংবাদ উপস্থাপক হওয়ার প্রথম শর্ত একটাই শুরু করা। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার সংবাদ উপস্থাপক হওয়ার যাত্রা আরো মসৃন হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তের কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ, রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ কৃষি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান, এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় সীমান্ত এলাকার ৮০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি জাতের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো অধিক উচ্চতার ফসলের পরিবর্তে ধানসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উপস্থাপক হওয়ার প্রথম শর্ত একটাই শুরু করা: নাদিম শেখ আদর

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

সংবাদ উপস্থাপক হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা আসলে ক্যামেরা না, মাইক্রোফোন না, এমনকি কণ্ঠও না। বাধাটা আসে নিজের মনে।

অনেকে নিজেকে প্রশ্ন করে

  • আমি কি পারবো?
  • আমার কণ্ঠ তো ভালো না।
  • আমি তো খুব আত্মবিশ্বাসী না।
  • আমার উচ্চারণে ভুল হয়।

এই প্রশ্নগুলো নতুনদের প্রায় সবার মাথায় আসে। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এখানেই একটা সত্য পরিষ্কার করা দরকার। সংবাদ উপস্থাপক জন্মগত কেউ হয় না। সংবাদ উপস্থাপক তৈরি হয়।

অনেকেই মনে করে, “ভালো কণ্ঠ না হলে নিউজ রিডার হওয়া যায় না।” এটা অর্ধেক সত্য, অর্ধেক ভুল। ভারী কণ্ঠ অবশ্যই একটা প্লাস পয়েন্ট, কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়। সংবাদ উপস্থাপনায় সবচেয়ে জরুরি হলো পরিষ্কার উচ্চারণ, শব্দের উপর নিয়ন্ত্রণ আর বার্তা বোঝাতে পারা। এগুলো অনুশীলনের মাধ্যমে আসে।

আজ যাদের কণ্ঠ শুনে আপনি মুগ্ধ হন, তারাও একদিন নিজের কণ্ঠ শুনে বিরক্ত হয়েছেন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে খবর পড়তে গিয়ে আটকে গেছেন। রেকর্ড করা নিজের ভয়েস শুনে লজ্জা পেয়েছেন। পার্থক্য একটাই, তারা থেমে যাননি।

আরেকটা বড় ভয় হলো আত্মবিশ্বাস। ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে ভয় লাগে, জড়তা আসে। মনে রাখবেন, আত্মবিশ্বাস কোনো জাদু না যে একদিনে চলে আসবে। আত্মবিশ্বাস আসে প্রস্তুতি থেকে। আপনি যত বেশি পড়বেন, যত বেশি প্র্যাকটিস করবেন, ভয় তত কমবে।

উচ্চারণ ভুল হয়?

খুব ভালো। কারণ ভুল না হলে শেখাও হয় না। “শুদ্ধ উচ্চারণ” জন্মগত নয়, এটা শেখার বিষয়। আজ যারা নিখুঁত উচ্চারণ করেন, তারা একদিন “সংবাদ” শব্দটাই ঠিকভাবে বলতে পারতেন না।

সংবাদ উপস্থাপক হওয়ার জন্য সবচেয়ে দরকারি তিনটি জিনিস হলো:

  • শেখার ইচ্ছা
  • নিয়মিত অনুশীলন
  • এবং ধৈর্য

আপনি যদি শেখার জন্য প্রস্তুত থাকেন, তাহলে আপনার কণ্ঠকে ট্রেইন করা যাবে। আপনার উপস্থাপনাকে গুছানো যাবে। আপনার ভয়কে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

নিজেকে এই প্রশ্নটা করুন-

আমি কি চেষ্টা না করেই হাল ছেড়ে দিচ্ছি?

সংবাদ উপস্থাপনা শুধু সুন্দর কণ্ঠের খেলা নয়। এটা দায়িত্বের কাজ। সত্যটা স্পষ্টভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ। আপনি যদি দায়িত্বটা বুঝতে পারেন, তাহলে ধীরে ধীরে কণ্ঠ, ভঙ্গি, আত্মবিশ্বাস সবই আপনার আয়ত্তে আসবে।

আজ শুরু করলে আপনি এখনই সেরা হবেন না। কিন্তু শুরু না করলে কখনোই হবেন না।

তাই নিজেকে বলুন

  • আমি পারবো, কারণ আমি শিখতে চাই।
  • আমি পারবো, কারণ আমি চেষ্টা চালিয়ে যাবো।
  • আমি পারবো, কারণ কেউ জন্মগত পারফেক্ট না।

সংবাদ উপস্থাপক হওয়ার প্রথম শর্ত একটাই শুরু করা। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার সংবাদ উপস্থাপক হওয়ার যাত্রা আরো মসৃন হোক।