দেবেন্দ্র কলেজ ক্যাম্পাস এখন অসামাজিক কার্যকলাপের আস্তানা
- আপডেট সময় : ০৫:২২:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
- / 100
পবিত্র মাহে রমজানের সংযম ও আত্মশুদ্ধির আবহে যখন সারা দেশ আধ্যাত্মিকতায় নিমগ্ন, তখন মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ ক্যাম্পাসে চোখে পড়ছে ভিন্ন এক চিত্র। জেলার অন্যতম প্রধান এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিভৃত কোণ ও ঘন ঝোপঝাড়গুলো এখন পরিণত হয়েছে অনৈতিক কার্যকলাপ ও মাদকসেবনের নিরাপদ আশ্রয়ে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পবিত্র রমজানের ছুটিতেও ক্যাম্পাসের ভেতরে তরুণ-তরুণীদের অনাকাঙ্ক্ষিত ও আপত্তিকর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে কলেজের নিভৃত এলাকা ও ঝোপঝাড়ের আড়ালে দিন-দুপুরে চলছে অশালীন কর্মকাণ্ড। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে এক শ্রেণির বিপথগামী শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের মাদকসেবন করতেও দেখা গেছে।
বিদ্যাপীঠের ভেতরের এমন দৃশ্য শুধুই নৈতিক অবক্ষয় নয়, বরং দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীরা আক্ষেপ করে বলেন, “যেখানে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানের চর্চা করবে, সেখানে পবিত্র মাসে এসব দৃশ্য দেখা দুর্ভাগ্যজনক। এটি আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।”
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এরপর সরাসরি আলোচনায় স্থানীয় সুধীজনরা একে ‘নৈতিক দেউলিয়াত্ব’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকর তদারকি না থাকায় ক্যাম্পাসটি অপরাধপ্রবণদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হচ্ছে।
এসময়, কলেজের ভাবমূর্তি ও পবিত্রতা রক্ষায় এবং আগামী প্রজন্মের নৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে দ্রুত কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
ঐ কলেজের নাইম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, “কাঠবাগানের জঙ্গলগুলো এবং গাছের আড়ালে প্রায়ই অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে। অনেক সময় আমরাই বিব্রত হয়ে পড়ি। সবচেয়ে খারাপ লাগে যখন দেখি ইন্টার পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা অসামাজিক কাজ করছে।”
সজিব নামে অনার্স পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী জানান, “কলেজের নতুন বহুতল ১০ তলা ভবনের টপ ফ্লোরেও অনৈতিক কাজ চলে। বিভিন্ন সময় শ্রেণীকক্ষে একাধিক ছেলে-মেয়ের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয় নিয়ে সমালোচনা হয়েছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইন্টার পড়ুয়া শিক্ষার্থী জানায়, “সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় ১০ তলা ভবনের সর্বোচ্চ তলার বাথরুমগুলো অনৈতিক কাজের সুবিধাজনক স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। গ্রুপ করে শিক্ষার্থীরা সেখানে প্রবেশ করে এবং অন্যরা পাহারা দেয়।”
কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, “কলেজের চারিদিকে নিরাপত্তা বাউন্ডারি নেই। এজন্য বিভিন্ন গ্রুপ এসে অনৈতিক কার্যকলাপ ঘটাচ্ছে। তবে যখনই আমাদের নজরে আসে, তাৎক্ষণিকভাবে কলেজের ভিজিলেন্স টিম নিয়ে আমরা সেখানে উপস্থিত হই এবং প্রতিকার করি।”
মাদকের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা থানা ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করেছি। অনেক সময় গভীর রাতেও পুলিশ অভিযান চালায়। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছি।”
সচেতন মহলের দাবি, নিয়মিত টহল ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ তার গৌরব হারাবে এবং সমাজ আরও গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।






























