ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা, খুলেছে ২০৪ আশ্রয়কেন্দ্র Logo এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলায় খুলনায় প্রতিবাদ মিছিল Logo হরিপুরে সরকারি সহায়তা পেলেন রোগী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও প্রতিবন্ধীরা Logo প্রত্যয় সংগঠনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন পিএবিএম-এর উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া Logo বিএডিসিতে গণবদলি নিয়ে তোলপাড়: চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা Logo মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে কাজী নজরুলকে প্রধান দিশারি হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo স্টেডফাস্ট কুরিয়ার কার্যালয় পরিদর্শনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, শান্তিপূর্ণ সমাধানে আইনানুগ নির্দেশনা Logo সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাকোপে কে.সি. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠিত Logo জৈব সারের নামে বর্জ্য বিতরণ, বদলি করা হয়েছে কামারখন্দের সেই কৃষি কর্মকর্তাকে Logo সুপারভাইজার বলেছিল ‘তুই মরলেও ছুটি নাই’

ঘোড়ার গোশত খাওয়া নিয়ে ইসলাম কী বলে ?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪২:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 126

ছবি : দেশবর্ন ।

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করেই নতুন এক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ‘ঘোড়ার গোশত’। তুলনামূলক কম দামে বিক্রি, আবার স্বাদ-গন্ধে কিছুটা গরুর মাংসের সঙ্গে মিল; সব মিলিয়ে অনেকেই কৌতূহলী হয়ে উঠছেন। কেউ কেউ কিনেও খাচ্ছেন।

তবে আমাদের দেশে এটি প্রচলিত খাবার না হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ঘোড়ার গোশত কি হালাল? ইসলাম কী বলে এ বিষয়ে?

এই বিতর্কের মাঝেই বিষয়টি জানতে আগ্রহী হচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। তাই চলুন, ফিকহ ও হাদিসের আলোকে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া যাক।

রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ কালবেলাকে বলেন, ‘ফিকহের কিতাবে ঘোড়ার গোশত খাওয়াকে মাকরূহ বলা হয়েছে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঘোড়া জিহাদের কাজে ব্যবহার হয়। তাই সাধারণভাবে খাওয়া শুরু করলে জিহাদের কাজে ব্যাঘাত ঘটবে।’

ইসলামি গবেষণামূলক পত্রিকা মাসিক আল- কাউসার এ বলা হয়েছে, ‘বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে যদিও ব্যাপকভাবে ঘোড়ার ব্যবহার হয় না, কিন্তু তা একেবারে বন্ধও হয়ে যায়নি। তাই পুলিশ কেন্দ্রগুলোতে ঘোড়ার রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় এবং নিয়মিত তার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।’

‘তাছাড়া হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত খালিদ ইবনে ওলীদ (রা.) বলেন, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়ার গোশত নিষেধ করেছেন।’ (সুনানে নাসাঈ : ৮/২০৬, সুনানে আবু দাউদ : ২/৫৩১)

‘নিষিদ্ধতার মূল সূত্র হচ্ছে উল্লিখিত হাদিস। আর জিহাদের কাজে ব্যবহার হওয়ার বিষয়টি একটি প্রাসঙ্গিক দলিলমাত্র। অতএব জিহাদের কাজে ঘোড়ার ব্যবহার একেবারে বন্ধ হয়ে গেলেও তা খাওয়া উপরিউক্ত হাদিসের কারণে মাকরূহ তানজিহি থাকবে।’

জামিয়া ইসলামিয়া দারুল হক লালবাগ, ঢাকা-এর ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি লুৎফর রহমান ফরায়েজি বলেন, ‘ইমাম আবু হারিফা (রহ.) ঘোড়ার গোশত খাওয়াকে মাকরূহ বলেছেন। তবে, মাকরূহটি তাহরিমি নাকি তানজিহি- এ বিষয়ে ফকিহদের মাঝে মতভেদ হলেও তাহরিমির মতটিই বেশি বিশুদ্ধ।’ (ফাতাওয়া আলমগীরী :৫/২৯০, হেদায়া-৪/৩৫২)

মুফতি ফরায়েজি জানান, ‘একাধিক হাদিসের মাঝেও ঘোড়ার গোশত খাওয়ার বৈধতা পাওয়া যায়। এ কারণে ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) এবং ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে ঘোড়ার গোশত খাওয়া হালাল। তাই কেউ যদি ঘোড়ার গোশত খায় এটি নাজায়েজ বা হারাম হবে না। তবে এটি অনুত্তম কাজ।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঘোড়ার গোশত খাওয়া নিয়ে ইসলাম কী বলে ?

আপডেট সময় : ১২:৪২:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করেই নতুন এক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ‘ঘোড়ার গোশত’। তুলনামূলক কম দামে বিক্রি, আবার স্বাদ-গন্ধে কিছুটা গরুর মাংসের সঙ্গে মিল; সব মিলিয়ে অনেকেই কৌতূহলী হয়ে উঠছেন। কেউ কেউ কিনেও খাচ্ছেন।

তবে আমাদের দেশে এটি প্রচলিত খাবার না হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ঘোড়ার গোশত কি হালাল? ইসলাম কী বলে এ বিষয়ে?

এই বিতর্কের মাঝেই বিষয়টি জানতে আগ্রহী হচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। তাই চলুন, ফিকহ ও হাদিসের আলোকে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া যাক।

রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ কালবেলাকে বলেন, ‘ফিকহের কিতাবে ঘোড়ার গোশত খাওয়াকে মাকরূহ বলা হয়েছে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঘোড়া জিহাদের কাজে ব্যবহার হয়। তাই সাধারণভাবে খাওয়া শুরু করলে জিহাদের কাজে ব্যাঘাত ঘটবে।’

ইসলামি গবেষণামূলক পত্রিকা মাসিক আল- কাউসার এ বলা হয়েছে, ‘বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে যদিও ব্যাপকভাবে ঘোড়ার ব্যবহার হয় না, কিন্তু তা একেবারে বন্ধও হয়ে যায়নি। তাই পুলিশ কেন্দ্রগুলোতে ঘোড়ার রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় এবং নিয়মিত তার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।’

‘তাছাড়া হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত খালিদ ইবনে ওলীদ (রা.) বলেন, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়ার গোশত নিষেধ করেছেন।’ (সুনানে নাসাঈ : ৮/২০৬, সুনানে আবু দাউদ : ২/৫৩১)

‘নিষিদ্ধতার মূল সূত্র হচ্ছে উল্লিখিত হাদিস। আর জিহাদের কাজে ব্যবহার হওয়ার বিষয়টি একটি প্রাসঙ্গিক দলিলমাত্র। অতএব জিহাদের কাজে ঘোড়ার ব্যবহার একেবারে বন্ধ হয়ে গেলেও তা খাওয়া উপরিউক্ত হাদিসের কারণে মাকরূহ তানজিহি থাকবে।’

জামিয়া ইসলামিয়া দারুল হক লালবাগ, ঢাকা-এর ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি লুৎফর রহমান ফরায়েজি বলেন, ‘ইমাম আবু হারিফা (রহ.) ঘোড়ার গোশত খাওয়াকে মাকরূহ বলেছেন। তবে, মাকরূহটি তাহরিমি নাকি তানজিহি- এ বিষয়ে ফকিহদের মাঝে মতভেদ হলেও তাহরিমির মতটিই বেশি বিশুদ্ধ।’ (ফাতাওয়া আলমগীরী :৫/২৯০, হেদায়া-৪/৩৫২)

মুফতি ফরায়েজি জানান, ‘একাধিক হাদিসের মাঝেও ঘোড়ার গোশত খাওয়ার বৈধতা পাওয়া যায়। এ কারণে ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) এবং ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে ঘোড়ার গোশত খাওয়া হালাল। তাই কেউ যদি ঘোড়ার গোশত খায় এটি নাজায়েজ বা হারাম হবে না। তবে এটি অনুত্তম কাজ।’