ঢাকা ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস Logo দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা, নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ Logo প্রত্যেক উপজেলায় সংসদ সদস্যদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ বরাদ্দ   Logo হরমুজ এড়িয়ে সৌদি থেকে তেল নিয়ে চট্টগ্রাম আসছে জাহাজ Logo জ্বালানি সাশ্রয়ে বুধ-বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারকাজ চলবে ভার্চুয়ালি Logo এনসিপিতে যোগদানের হিড়িক Logo ৫ দফা দাবী সহ শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের মানববন্ধন কর্মসূচি Logo পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াবে বাংলাদেশ

জেল খাটার স্বাদ নিতে ১১ বছরের শিশুকে খুন করে ৭ বন্ধু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৩:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 41
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জেল খাটার স্বাদ নিতে ১১ বছরের শিশুকে খুন করে ৭ বন্ধু

অপরাধ জগতের স্বাদ নেওয়া এবং জেল খাটা কেমন, এমন ভয়ঙ্কর কৌতূহল থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১১ বছর বয়সী শিশু হোসাইনকে হত্যা করে সমবয়সী ও কিশোর বন্ধুদের একটি দল। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের এই রোমহর্ষক রহস্য উন্মোচন করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নেত্রকোণা জেলার সৈয়দপুর থানার যাজনের ছেলে ইয়াসিন (১৮), বরগুনা জেলার আমতলী থানার সোহেল সিকদারের ছেলে সাইফুল (১৬), বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার জলিলের ছেলে তানজীয় (১৭), লালমনিরহাট জেলার মৃত খগেনের ছেলে ইউনুস (১৫), ফতুল্লার মৃত কালামের ছেলে হোসাইন (১৫) ও ফতুল্লার অহিদুল আলমের ছেলে রাহাত (১৩)।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে ৪ জন এজাহারভুক্ত এবং তদন্তে আরো ২ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। মামলার ১ নম্বর আসামি ইয়াসিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, ফতুল্লা রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়মিত আড্ডা দেওয়া ও মাদক সেবনকারী কয়েকজন কিশোর এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। ঘটনার দিন অভিযুক্ত সাইফুল, তানভীর ও ইউনুস নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিল যে, ‘খুন করলে জেলে যেতে হয়।’ সেই অভিজ্ঞতা নেওয়ার ইচ্ছা থেকেই খুনের পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া শিশু হোসাইনকে টার্গেট করে। হোসাইন তার বাবার সঙ্গে শহরে ফুল বিক্রি করত। তাকে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে দাপা ইদ্রাকপুর ব্যাংক কলোনি এলাকার মিঠু মিয়ার পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল তাদের আরো তিন সহযোগী রাহাত, হোসাইন ও ওমর। সবাই মিলে হোসাইনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে এবং লাশটি সেখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
গত ১৮ এপ্রিল সকালে ফুল বিক্রি করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় হোসাইন। দীর্ঘ ৫ দিন পর ২৩ এপ্রিল (শুক্রবার) বিকেলে ওই পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তার গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে পুলিশ। প্রথমে ইয়াসিন নামে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আরো ৫ জনকে আটক করা হয়। ​হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি জানান, এই নৃশংস ঘটনায় জড়িত আরো একজন এখনো পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। কিশোরদের মধ্যে এমন ভয়ঙ্কর অপরাধপ্রবণতা ও বিকৃত মানসিকতা সমাজ ও পরিবারের জন্য একটি চরম সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: আমার দেশ

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জেল খাটার স্বাদ নিতে ১১ বছরের শিশুকে খুন করে ৭ বন্ধু

আপডেট সময় : ১১:২৩:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

জেল খাটার স্বাদ নিতে ১১ বছরের শিশুকে খুন করে ৭ বন্ধু

অপরাধ জগতের স্বাদ নেওয়া এবং জেল খাটা কেমন, এমন ভয়ঙ্কর কৌতূহল থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১১ বছর বয়সী শিশু হোসাইনকে হত্যা করে সমবয়সী ও কিশোর বন্ধুদের একটি দল। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের এই রোমহর্ষক রহস্য উন্মোচন করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নেত্রকোণা জেলার সৈয়দপুর থানার যাজনের ছেলে ইয়াসিন (১৮), বরগুনা জেলার আমতলী থানার সোহেল সিকদারের ছেলে সাইফুল (১৬), বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার জলিলের ছেলে তানজীয় (১৭), লালমনিরহাট জেলার মৃত খগেনের ছেলে ইউনুস (১৫), ফতুল্লার মৃত কালামের ছেলে হোসাইন (১৫) ও ফতুল্লার অহিদুল আলমের ছেলে রাহাত (১৩)।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে ৪ জন এজাহারভুক্ত এবং তদন্তে আরো ২ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। মামলার ১ নম্বর আসামি ইয়াসিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, ফতুল্লা রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়মিত আড্ডা দেওয়া ও মাদক সেবনকারী কয়েকজন কিশোর এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। ঘটনার দিন অভিযুক্ত সাইফুল, তানভীর ও ইউনুস নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিল যে, ‘খুন করলে জেলে যেতে হয়।’ সেই অভিজ্ঞতা নেওয়ার ইচ্ছা থেকেই খুনের পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া শিশু হোসাইনকে টার্গেট করে। হোসাইন তার বাবার সঙ্গে শহরে ফুল বিক্রি করত। তাকে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে দাপা ইদ্রাকপুর ব্যাংক কলোনি এলাকার মিঠু মিয়ার পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল তাদের আরো তিন সহযোগী রাহাত, হোসাইন ও ওমর। সবাই মিলে হোসাইনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে এবং লাশটি সেখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
গত ১৮ এপ্রিল সকালে ফুল বিক্রি করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় হোসাইন। দীর্ঘ ৫ দিন পর ২৩ এপ্রিল (শুক্রবার) বিকেলে ওই পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তার গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে পুলিশ। প্রথমে ইয়াসিন নামে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আরো ৫ জনকে আটক করা হয়। ​হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি জানান, এই নৃশংস ঘটনায় জড়িত আরো একজন এখনো পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। কিশোরদের মধ্যে এমন ভয়ঙ্কর অপরাধপ্রবণতা ও বিকৃত মানসিকতা সমাজ ও পরিবারের জন্য একটি চরম সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: আমার দেশ