ঢাকা ০৩:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

স্বপ্ন একটাই বাংলাদেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • / 356
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সীমান্তঘেঁষা কুতুপালংয়ের আজুখাইয়া ও লম্বাশিয়া গ্রাম। পাহাড় আর রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘেরা এই জনপদে ফুটবলের জাদু ছড়িয়ে স্বপ্ন বুনছে দুই কিশোরী—আয়েশা বেগম ও ইয়াছমিন আক্তার। দু’জনের চোখে একটাই স্বপ্ন—একদিন বাংলাদেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামা। সেই লক্ষ্যেই তাদের তীব্র ইচ্ছা বিকেএসপিতে (বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) ভর্তি হওয়া।

৯ বছর বয়সে ২নং উত্তর ঘুমধুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে প্রথম ফুটবলে পা রাখেন আয়েশা। বর্তমানে তিনি কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। দিনমজুর পিতা নবী আলম ও গৃহিণী মা চেমন খাতুনের সংসারে অভাব থাকলেও থেমে নেই তার পথচলা। স্কুল টিমের হয়ে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নজর কেড়েছে সে। আয়েশার কথায়, “ফুটবল খেলতে পারলেই মন ভালো হয়ে যায়। রিপা আপুর মতো জাতীয় দলে খেলতে চাই। এজন্য বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়াই এখন সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।”

অন্যদিকে লম্বাশিয়ার ইয়াছমিন আক্তার মাঠে নামলেই যেন বদলে যান। সপ্তম নম্বর জার্সি গায়ে রোনালদোর গতিতে দৌড়, নিখুঁত পাস আর গোলের সুযোগ তৈরি করেন তিনি। দিনমজুর পিতা ছৈয়দ আলম ও গৃহিণী মা জুহুরা বেগমের পরিবারে সচ্ছলতা না থাকলেও মেয়ের খেলাধুলার পথ রুখে দাঁড়ায়নি কেউ। ইয়াছমিন বলেন, “স্বপ্ন দেখি একদিন বাংলাদেশ দলের হয়ে মাঠে নামবো।”

বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক মুক্তা সেন বলেন, “ইয়াছমিনের শৃঙ্খলা, পাসিং এবং গতির দক্ষতা দেখে বোঝা যায়—সে অনেক দূর যেতে পারবে।”

আয়েশা ও ইয়াছমিনের প্রতিভায় মুগ্ধ স্থানীয়রা। ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, “আগে মেয়েরা খেলাধুলায় এগোতে সংকোচ বোধ করত। এখন আয়েশা ও ইয়াছমিনরা অন্যদের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে। সহযোগিতা পেলে তারা জাতীয় দলেও জায়গা করে নিতে পারবে।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, “আয়েশা ও ইয়াছমিন আমাদের গর্ব। পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের আলাদা প্রশিক্ষণ ও সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

দৈনন্দিন কষ্ট, দারিদ্র্য, সামাজিক বাধা—কিছুই তাদের স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। সকালে স্কুল, বিকেলে ফুটবল অনুশীলন—এ যেন তাদের রুটিন। যেখানে অনেক শিশুর জীবন শুরুতেই থেমে যায়, সেখানে এই দুই কিশোরী নিজেদের পথ তৈরি করছে সাহস ও পরিশ্রমে।

তবে থেকে যায় প্রশ্ন—এই দুই ক্ষুদে ফুটবলারের বিকেএসপিতে ভর্তির স্বপ্ন কি সত্যিই পূরণ হবে ?
তাদের চোখে এখনও জ্বলজ্বল করছে সেই প্রত্যাশার আলো—একদিন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেশের পতাকা উড়ানোর গর্বে বুক ভরে উঠবে তাদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তের কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ, রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ কৃষি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান, এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় সীমান্ত এলাকার ৮০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি জাতের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো অধিক উচ্চতার ফসলের পরিবর্তে ধানসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্বপ্ন একটাই বাংলাদেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামা

আপডেট সময় : ১২:৩২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

সীমান্তঘেঁষা কুতুপালংয়ের আজুখাইয়া ও লম্বাশিয়া গ্রাম। পাহাড় আর রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘেরা এই জনপদে ফুটবলের জাদু ছড়িয়ে স্বপ্ন বুনছে দুই কিশোরী—আয়েশা বেগম ও ইয়াছমিন আক্তার। দু’জনের চোখে একটাই স্বপ্ন—একদিন বাংলাদেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামা। সেই লক্ষ্যেই তাদের তীব্র ইচ্ছা বিকেএসপিতে (বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) ভর্তি হওয়া।

৯ বছর বয়সে ২নং উত্তর ঘুমধুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে প্রথম ফুটবলে পা রাখেন আয়েশা। বর্তমানে তিনি কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। দিনমজুর পিতা নবী আলম ও গৃহিণী মা চেমন খাতুনের সংসারে অভাব থাকলেও থেমে নেই তার পথচলা। স্কুল টিমের হয়ে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নজর কেড়েছে সে। আয়েশার কথায়, “ফুটবল খেলতে পারলেই মন ভালো হয়ে যায়। রিপা আপুর মতো জাতীয় দলে খেলতে চাই। এজন্য বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়াই এখন সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।”

অন্যদিকে লম্বাশিয়ার ইয়াছমিন আক্তার মাঠে নামলেই যেন বদলে যান। সপ্তম নম্বর জার্সি গায়ে রোনালদোর গতিতে দৌড়, নিখুঁত পাস আর গোলের সুযোগ তৈরি করেন তিনি। দিনমজুর পিতা ছৈয়দ আলম ও গৃহিণী মা জুহুরা বেগমের পরিবারে সচ্ছলতা না থাকলেও মেয়ের খেলাধুলার পথ রুখে দাঁড়ায়নি কেউ। ইয়াছমিন বলেন, “স্বপ্ন দেখি একদিন বাংলাদেশ দলের হয়ে মাঠে নামবো।”

বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক মুক্তা সেন বলেন, “ইয়াছমিনের শৃঙ্খলা, পাসিং এবং গতির দক্ষতা দেখে বোঝা যায়—সে অনেক দূর যেতে পারবে।”

আয়েশা ও ইয়াছমিনের প্রতিভায় মুগ্ধ স্থানীয়রা। ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, “আগে মেয়েরা খেলাধুলায় এগোতে সংকোচ বোধ করত। এখন আয়েশা ও ইয়াছমিনরা অন্যদের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে। সহযোগিতা পেলে তারা জাতীয় দলেও জায়গা করে নিতে পারবে।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, “আয়েশা ও ইয়াছমিন আমাদের গর্ব। পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের আলাদা প্রশিক্ষণ ও সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

দৈনন্দিন কষ্ট, দারিদ্র্য, সামাজিক বাধা—কিছুই তাদের স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। সকালে স্কুল, বিকেলে ফুটবল অনুশীলন—এ যেন তাদের রুটিন। যেখানে অনেক শিশুর জীবন শুরুতেই থেমে যায়, সেখানে এই দুই কিশোরী নিজেদের পথ তৈরি করছে সাহস ও পরিশ্রমে।

তবে থেকে যায় প্রশ্ন—এই দুই ক্ষুদে ফুটবলারের বিকেএসপিতে ভর্তির স্বপ্ন কি সত্যিই পূরণ হবে ?
তাদের চোখে এখনও জ্বলজ্বল করছে সেই প্রত্যাশার আলো—একদিন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেশের পতাকা উড়ানোর গর্বে বুক ভরে উঠবে তাদের।