ঢাকা ০৩:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

তুমি নরমাল ফোনে কল দেও, ইন্টারনেটের অবস্থা ভালো না

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 460

ছবি: সংগৃহীত

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
‘তুমি নরমাল ফোনে কল দেও, ইন্টারনেটের অবস্থা ভালো না।’ জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন এভাবেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসকে বলেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সেই ফোনালাপ শুনেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে দেশের মানুষও শুনেছেন তাদের কথোপকথন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনার মামলার ২২তম কার্যদিবসের সাক্ষ্যগ্রহণ ছিল বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর)। এদিন ৫৩তম সাক্ষী হিসেবে বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার জবানবন্দি রেকর্ড করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সাক্ষীর দাখিল করা চারটি ফোনালাপ বাজিয়ে শোনানো হয় ট্রাইব্যুনালে। যার প্রথমটিই ছিল হাসিনা-তাপসের ফোনালাপ।
তাদের সেই কথোপকথনে উঠে এসেছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনের চাঞ্চল্যকর তথ্য। এমনকি মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনাও দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
কথোপকথনটি পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো—
শেখ হাসিনা : হ্যালো।
তাপস : জি, সালামালাইকুম।
শেখ হাসিনা : হ্যাঁ, ওয়ালাইকুম আসসালাম।
তাপস : জি।
শেখ হাসিনা : বল বাবা, তুমি নরমাল ফোনে কল দেও, ইন্টারনেটের অবস্থা ভালো না।
তাপস : নরমাল ফোনেই, নরমাল ফোনেই।
শেখ হাসিনা : আচ্ছা বল বাবা।
তাপস : জি, সন্ত্রাসীরা তো বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন সময় ঘুরতেছে, এখন কোথায় কি আক্রমণ করে যাচ্ছে না তো।
শেখ হাসিনা : না, আমরা ওদের ব্যবস্থা নিচ্ছি, আমি। আর আবাহনী ক্লাবে কি আগুন দিছে?
তাপস : ওরা মনে হয় সচিবালয়ে আক্রমণ করছে, আবাহনী ক্লাবেও।
শেখ হাসিনা : কোথায়?
তাপস : সচিবালয়ে তো আক্রমণ করছে, আপনি জানেন না।
শেখ হাসিনা : না
তাপস : হ্যাঁ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো ওখানে আছে। সচিবালয়ে কয়েকবার ওরা আক্রমণ করছে। ওরা তো রাতে যদি আবার কোথাও কোথাও বিভিন্ন সংবেদনশীল বাসা বাড়িতে আক্রমণ করে তাহলে তো ইয়ে হবে।
শেখ হাসিনা : রাতের বেলা সব ভিজিলেন্স থাকবে। আচ্ছা ঠিক আছে আমি এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি। একটু আস্তে আস্তে অনেক জায়গায় গেদারিং ক্লিয়ার হচ্ছে।
তাপস : ওরা মনে হচ্ছে না ইয়ে করবে, রাতে মনে হয় ওদের আরও অনেক কিছু পরিকল্পনা আছে, মনে হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো আমাকে তাই বললো, আভাস দিলো। আপনাকেও মনে হয় বলছে কিছু, রাতে যদি সর্বোচ্চ সর্বোচ্চ না ইয়ে করে করবেন নাকি?
শেখ হাসিনা : কি করবো?
তাপস : মানে সেনাবাহিনী দিবেন?
শেখ হাসিনা : বাবা, একটু চিন্তা করে কথা কইও।
তাপস : জি
শেখ হাসিনা : এটাই তাদের আকাঙ্ক্ষা।
তাপস : বুঝতেছি আমি টেকনিক্যালি এইটা বুঝতেছি। কিন্তু ওরা মনে হয় ওই পথে নেওয়ার জন্য ইয়ে করছে।
শেখ হাসিনা : দরকার নাই, ওটা দরকার নাই। আমি সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলছি ওরা রেডি থাকবে, ঠিক আছে, এখনতো আমরা অন্য ইয়ে করতেছি। ড্রোন দিয়ে ছবি নিচ্ছি আর হেলিকপ্টারে ইয়ে হচ্ছে মানে কয়েক জায়গায়।
তাপস : তাহলে ওই কিছু ছবি দেখে পাকড়াও করা যায় না, রাতের মধ্যে।
শেখ হাসিনা : সবগুলোকে এরেস্ট করতে বলেছি, রাত্রে।
তাপস : হ্যাঁ, পাকড়াও করলে ওদেরকে।
শেখ হাসিনা : না ওটা বলা হয়ে গেছে, ওটা নিয়ে র‍্যাব, ডিজিএফআই, এনএসআই সবাইকে বলা হইছে যে যেখান থেকে যে কয়টা পারবা ধইরা ফেলো
তাপস : জি
শেখ হাসিনা : ওটা বলা আছে, আর যেখানে গেদারিং দেখবে সেখানে ওই ওপর থেকে, এখন ওপর থেকে করাচ্ছি, অলরেডি শুরু হইছে কয়েকটা জায়গায়।
তাপস : জি।
শেখ হাসিনা : হইয়া গেছে।
তাপস : জি জি, মোহাম্মদপুর থানার দিকে মনে হয় ওরা যাচ্ছে এটা আমাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললো।
শেখ হাসিনা : মোহাম্মদপুর থানার দিকে।
তাপস : হ্যাঁ।
শেখ হাসিনা : ওখানে পাঠাইয়া দিক র‍্যাব।
তাপস : জি, তাহলে আপনার নির্দেশনা লাগবে।
শেখ হাসিনা : আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে, ওপেন নির্দেশনা দিয়ে দিছি, এখন লিথাল ওয়েপন ব্যবহার করবে। যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে।
তাপস : জি
শেখ হাসিনা : ওটা বলা আছে। আমি এতদিন বাধা দিয়ে রাখছিলাম। ওই যে স্টুডেন্টরা ছিল ওদের স্ট্যাডির কথা চিন্তা করে। তারপর তো।
তাপস : না রাতে স্টুডেন্ট না, রাতে হলো ওরা সন্ত্রাসী।
শেখ হাসিনা : কি করছে তোমার, ওই যে আমাদের রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুলের একটা বাচ্চা ছেলে, তার শিক্ষক তাকে ডাইকা নিয়ে আসছে, শিক্ষক নাকি আবার শিবির করতো, ওরা জানে না। তারপর সেই ছেলেটা মারা গেছে, তার মাত্র বুকে একটা গুলি অথচ পুলিশ কিন্তু কোনো রিভলবার ব্যবহার করেনি।
তাপস : হ…জি।
শেখ হাসিনা : এরকম ঘটনা তারা ঘটাইছে।
তাপস : জি, আপনি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ইয়ে করেন।
শেখ হাসিনা : সব জায়গায় আগুন.. বিআরটি, বিটিআরসি বন্ধ করে দিছে, পোড়াইয়া দিছে, বিটিভি পোড়াইয়া দিছে, এখনতো ইন্টারনেট বন্ধ। সব পোড়াইয়া দিছে, এখন চলবে কিভাবে।
তাপস : জি, এটা ভালো হইছে, জি।
শেখ হাসিনা : না পোড়াইয়া দিছে, মেশিনপত্র সব পুড়ে গেছে। আমি বলছি যা যা পোড়াতে.., ও আমাদের সেতু ভবন পোড়াইছে।
তাপস : জি, ওরা রাতে মনে হয় আরো ব্যাপক আক্রমণ করবে।
শেখ হাসিনা : হ্যাঁ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সেটা পোড়াইছে।
তাপস : জি, কারণ এই যে আমি ফিরলাম। আমি দেখলাম যে রাস্তায় রাস্তায় ওরা বিভিন্ন জায়গায় ইয়ে করতেছে।
শেখ হাসিনা : কোন কোন জায়গায়?
তাপস : বনানীতে। বনানী-গুলশানে তো সচরাচর করে না। কিন্তু বনানী-গুলশানে ওরা ইয়েতে চলে আসছে… কোথাও কোথাও ইয়ে করতে পারে, মুভমেন্ট আছে সব জায়গায়।
শেখ হাসিনা : ঠিক আছে আমি দেখছি।
তাপস : জি
শেখ হাসিনা : তোমরা সাবধানে থেকো।
তাপস : জি, আমি সাবধানে আছি।
শেখ হাসিনা : আচ্ছা।
তাপস : ধরপাকড় করতে হবে। সব ধরে ফেলতে হবে, রাতের মধ্যে।
শেখ হাসিনা : না না ওটা বলে দেওয়া আছে অলরেডি। আর একটু আর একটু রাইত গাঢ় হলেই শুরু হবে।
তাপস : জি, জি।
শেখ হাসিনা : অন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।
তাপস : জি, জি।
শেখ হাসিনা : আচ্ছা।
তাপস : সালামালাইকুম।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একপর্যায়ে এ মামলায় দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে রাজসাক্ষী হন সাবেক আইজিপি। এরই মধ্যে সাক্ষ্যও দিয়েছেন তিনি। আজ সকালেও তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে। তার উপস্থিতিতেই জবানবন্দি দিচ্ছেন সাক্ষীরা। এ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলেও যুক্তিতর্ক পর্ব শুরু হবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
ট্রাইব্যুনালে আজ প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যান্যরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তের কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ, রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ কৃষি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান, এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় সীমান্ত এলাকার ৮০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি জাতের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো অধিক উচ্চতার ফসলের পরিবর্তে ধানসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তুমি নরমাল ফোনে কল দেও, ইন্টারনেটের অবস্থা ভালো না

আপডেট সময় : ০৭:০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
‘তুমি নরমাল ফোনে কল দেও, ইন্টারনেটের অবস্থা ভালো না।’ জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন এভাবেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসকে বলেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সেই ফোনালাপ শুনেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে দেশের মানুষও শুনেছেন তাদের কথোপকথন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনার মামলার ২২তম কার্যদিবসের সাক্ষ্যগ্রহণ ছিল বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর)। এদিন ৫৩তম সাক্ষী হিসেবে বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার জবানবন্দি রেকর্ড করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সাক্ষীর দাখিল করা চারটি ফোনালাপ বাজিয়ে শোনানো হয় ট্রাইব্যুনালে। যার প্রথমটিই ছিল হাসিনা-তাপসের ফোনালাপ।
তাদের সেই কথোপকথনে উঠে এসেছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনের চাঞ্চল্যকর তথ্য। এমনকি মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনাও দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
কথোপকথনটি পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো—
শেখ হাসিনা : হ্যালো।
তাপস : জি, সালামালাইকুম।
শেখ হাসিনা : হ্যাঁ, ওয়ালাইকুম আসসালাম।
তাপস : জি।
শেখ হাসিনা : বল বাবা, তুমি নরমাল ফোনে কল দেও, ইন্টারনেটের অবস্থা ভালো না।
তাপস : নরমাল ফোনেই, নরমাল ফোনেই।
শেখ হাসিনা : আচ্ছা বল বাবা।
তাপস : জি, সন্ত্রাসীরা তো বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন সময় ঘুরতেছে, এখন কোথায় কি আক্রমণ করে যাচ্ছে না তো।
শেখ হাসিনা : না, আমরা ওদের ব্যবস্থা নিচ্ছি, আমি। আর আবাহনী ক্লাবে কি আগুন দিছে?
তাপস : ওরা মনে হয় সচিবালয়ে আক্রমণ করছে, আবাহনী ক্লাবেও।
শেখ হাসিনা : কোথায়?
তাপস : সচিবালয়ে তো আক্রমণ করছে, আপনি জানেন না।
শেখ হাসিনা : না
তাপস : হ্যাঁ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো ওখানে আছে। সচিবালয়ে কয়েকবার ওরা আক্রমণ করছে। ওরা তো রাতে যদি আবার কোথাও কোথাও বিভিন্ন সংবেদনশীল বাসা বাড়িতে আক্রমণ করে তাহলে তো ইয়ে হবে।
শেখ হাসিনা : রাতের বেলা সব ভিজিলেন্স থাকবে। আচ্ছা ঠিক আছে আমি এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি। একটু আস্তে আস্তে অনেক জায়গায় গেদারিং ক্লিয়ার হচ্ছে।
তাপস : ওরা মনে হচ্ছে না ইয়ে করবে, রাতে মনে হয় ওদের আরও অনেক কিছু পরিকল্পনা আছে, মনে হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো আমাকে তাই বললো, আভাস দিলো। আপনাকেও মনে হয় বলছে কিছু, রাতে যদি সর্বোচ্চ সর্বোচ্চ না ইয়ে করে করবেন নাকি?
শেখ হাসিনা : কি করবো?
তাপস : মানে সেনাবাহিনী দিবেন?
শেখ হাসিনা : বাবা, একটু চিন্তা করে কথা কইও।
তাপস : জি
শেখ হাসিনা : এটাই তাদের আকাঙ্ক্ষা।
তাপস : বুঝতেছি আমি টেকনিক্যালি এইটা বুঝতেছি। কিন্তু ওরা মনে হয় ওই পথে নেওয়ার জন্য ইয়ে করছে।
শেখ হাসিনা : দরকার নাই, ওটা দরকার নাই। আমি সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলছি ওরা রেডি থাকবে, ঠিক আছে, এখনতো আমরা অন্য ইয়ে করতেছি। ড্রোন দিয়ে ছবি নিচ্ছি আর হেলিকপ্টারে ইয়ে হচ্ছে মানে কয়েক জায়গায়।
তাপস : তাহলে ওই কিছু ছবি দেখে পাকড়াও করা যায় না, রাতের মধ্যে।
শেখ হাসিনা : সবগুলোকে এরেস্ট করতে বলেছি, রাত্রে।
তাপস : হ্যাঁ, পাকড়াও করলে ওদেরকে।
শেখ হাসিনা : না ওটা বলা হয়ে গেছে, ওটা নিয়ে র‍্যাব, ডিজিএফআই, এনএসআই সবাইকে বলা হইছে যে যেখান থেকে যে কয়টা পারবা ধইরা ফেলো
তাপস : জি
শেখ হাসিনা : ওটা বলা আছে, আর যেখানে গেদারিং দেখবে সেখানে ওই ওপর থেকে, এখন ওপর থেকে করাচ্ছি, অলরেডি শুরু হইছে কয়েকটা জায়গায়।
তাপস : জি।
শেখ হাসিনা : হইয়া গেছে।
তাপস : জি জি, মোহাম্মদপুর থানার দিকে মনে হয় ওরা যাচ্ছে এটা আমাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললো।
শেখ হাসিনা : মোহাম্মদপুর থানার দিকে।
তাপস : হ্যাঁ।
শেখ হাসিনা : ওখানে পাঠাইয়া দিক র‍্যাব।
তাপস : জি, তাহলে আপনার নির্দেশনা লাগবে।
শেখ হাসিনা : আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে, ওপেন নির্দেশনা দিয়ে দিছি, এখন লিথাল ওয়েপন ব্যবহার করবে। যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে।
তাপস : জি
শেখ হাসিনা : ওটা বলা আছে। আমি এতদিন বাধা দিয়ে রাখছিলাম। ওই যে স্টুডেন্টরা ছিল ওদের স্ট্যাডির কথা চিন্তা করে। তারপর তো।
তাপস : না রাতে স্টুডেন্ট না, রাতে হলো ওরা সন্ত্রাসী।
শেখ হাসিনা : কি করছে তোমার, ওই যে আমাদের রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুলের একটা বাচ্চা ছেলে, তার শিক্ষক তাকে ডাইকা নিয়ে আসছে, শিক্ষক নাকি আবার শিবির করতো, ওরা জানে না। তারপর সেই ছেলেটা মারা গেছে, তার মাত্র বুকে একটা গুলি অথচ পুলিশ কিন্তু কোনো রিভলবার ব্যবহার করেনি।
তাপস : হ…জি।
শেখ হাসিনা : এরকম ঘটনা তারা ঘটাইছে।
তাপস : জি, আপনি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ইয়ে করেন।
শেখ হাসিনা : সব জায়গায় আগুন.. বিআরটি, বিটিআরসি বন্ধ করে দিছে, পোড়াইয়া দিছে, বিটিভি পোড়াইয়া দিছে, এখনতো ইন্টারনেট বন্ধ। সব পোড়াইয়া দিছে, এখন চলবে কিভাবে।
তাপস : জি, এটা ভালো হইছে, জি।
শেখ হাসিনা : না পোড়াইয়া দিছে, মেশিনপত্র সব পুড়ে গেছে। আমি বলছি যা যা পোড়াতে.., ও আমাদের সেতু ভবন পোড়াইছে।
তাপস : জি, ওরা রাতে মনে হয় আরো ব্যাপক আক্রমণ করবে।
শেখ হাসিনা : হ্যাঁ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সেটা পোড়াইছে।
তাপস : জি, কারণ এই যে আমি ফিরলাম। আমি দেখলাম যে রাস্তায় রাস্তায় ওরা বিভিন্ন জায়গায় ইয়ে করতেছে।
শেখ হাসিনা : কোন কোন জায়গায়?
তাপস : বনানীতে। বনানী-গুলশানে তো সচরাচর করে না। কিন্তু বনানী-গুলশানে ওরা ইয়েতে চলে আসছে… কোথাও কোথাও ইয়ে করতে পারে, মুভমেন্ট আছে সব জায়গায়।
শেখ হাসিনা : ঠিক আছে আমি দেখছি।
তাপস : জি
শেখ হাসিনা : তোমরা সাবধানে থেকো।
তাপস : জি, আমি সাবধানে আছি।
শেখ হাসিনা : আচ্ছা।
তাপস : ধরপাকড় করতে হবে। সব ধরে ফেলতে হবে, রাতের মধ্যে।
শেখ হাসিনা : না না ওটা বলে দেওয়া আছে অলরেডি। আর একটু আর একটু রাইত গাঢ় হলেই শুরু হবে।
তাপস : জি, জি।
শেখ হাসিনা : অন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।
তাপস : জি, জি।
শেখ হাসিনা : আচ্ছা।
তাপস : সালামালাইকুম।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একপর্যায়ে এ মামলায় দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে রাজসাক্ষী হন সাবেক আইজিপি। এরই মধ্যে সাক্ষ্যও দিয়েছেন তিনি। আজ সকালেও তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে। তার উপস্থিতিতেই জবানবন্দি দিচ্ছেন সাক্ষীরা। এ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলেও যুক্তিতর্ক পর্ব শুরু হবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
ট্রাইব্যুনালে আজ প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যান্যরা।