ঢাকা ০৪:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

দুদকের মামলার আসামি ইসলামী ব্যাংকের এমডি

মোজো ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:২৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 163
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. ওমর ফারুক।
দুর্নীতি দমন কমিশন ও ইসলামী ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
যদিও ব্যাংক-কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো ব্যাংকের এমডি ও সিইও নিয়োগ বা পুনর্নিয়োগের জন্য ব্যক্তির যোগ্যতা ও উপযুক্ততা বাছাই করতে হয়। কোনো ব্যক্তি জালজালিয়াতি, আর্থিক অপরাধ বা অন্য কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলে ব্যাংকের এমডি হতে পারেন না।
বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণত ঋণ আদায় না হলে গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মাঝেমধ্যে ব্যাংকের নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও আসামি করা হয়। খুব কম ক্ষেত্রে এমডির নাম আসে। শুধু দুদকের মামলায় শীর্ষ স্তরের কারও নাম আসে।
দুদকের মামলার আসামি ব্যাংকের কোনো এমডি হতে পারে কি না, জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো মামলার আসামি ব্যাংকের এমডি হতে পারেন না।
আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গ্রাহকের আমানত রক্ষায় নিয়োজিত থাকেন। সেই এমডি যদি অর্থ আত্মসাতের মামলায় আসামি হন তাহলে সেই ব্যাংকের আমানতকারীদের আমানত কে রক্ষা করবে? এটি খুবই দুঃখজনক বিষয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ এবং ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, গ্রাহকের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই ব্যাংকের এমডির অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এর ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন অনিয়ম ও জালজালিয়াতিতে জড়িয়ে পড়ছেন ব্যাংকের এমডিরা। এটি খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। বাংলাদেশ ব্যাংককে এ বিষয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
দুদকের মামলায় বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) মো. ওমর ফারুক খানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে জালজালিয়াতি ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র ও দলিলাদি সৃজনপূর্বক নামে-বেনামে কয়েক হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের নামে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, মামলাটি তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিরা দোষী সাব্যস্ত হলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ইসলামী ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন কারণে অন্য অনেক ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অপসারণ করেছে। বাস্তবতা হলো, ওমর ফারুকের বিরুদ্ধেও একই অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তাদের মতে, ওমর ফারুক ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের সঙ্গে মুনাফেকি করেছেন, বেইমানি করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তের কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ, রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ কৃষি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান, এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় সীমান্ত এলাকার ৮০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি জাতের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো অধিক উচ্চতার ফসলের পরিবর্তে ধানসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দুদকের মামলার আসামি ইসলামী ব্যাংকের এমডি

আপডেট সময় : ০৭:২৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. ওমর ফারুক।
দুর্নীতি দমন কমিশন ও ইসলামী ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
যদিও ব্যাংক-কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো ব্যাংকের এমডি ও সিইও নিয়োগ বা পুনর্নিয়োগের জন্য ব্যক্তির যোগ্যতা ও উপযুক্ততা বাছাই করতে হয়। কোনো ব্যক্তি জালজালিয়াতি, আর্থিক অপরাধ বা অন্য কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলে ব্যাংকের এমডি হতে পারেন না।
বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণত ঋণ আদায় না হলে গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মাঝেমধ্যে ব্যাংকের নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও আসামি করা হয়। খুব কম ক্ষেত্রে এমডির নাম আসে। শুধু দুদকের মামলায় শীর্ষ স্তরের কারও নাম আসে।
দুদকের মামলার আসামি ব্যাংকের কোনো এমডি হতে পারে কি না, জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো মামলার আসামি ব্যাংকের এমডি হতে পারেন না।
আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গ্রাহকের আমানত রক্ষায় নিয়োজিত থাকেন। সেই এমডি যদি অর্থ আত্মসাতের মামলায় আসামি হন তাহলে সেই ব্যাংকের আমানতকারীদের আমানত কে রক্ষা করবে? এটি খুবই দুঃখজনক বিষয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ এবং ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, গ্রাহকের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই ব্যাংকের এমডির অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এর ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন অনিয়ম ও জালজালিয়াতিতে জড়িয়ে পড়ছেন ব্যাংকের এমডিরা। এটি খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। বাংলাদেশ ব্যাংককে এ বিষয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
দুদকের মামলায় বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) মো. ওমর ফারুক খানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে জালজালিয়াতি ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র ও দলিলাদি সৃজনপূর্বক নামে-বেনামে কয়েক হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের নামে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, মামলাটি তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিরা দোষী সাব্যস্ত হলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ইসলামী ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন কারণে অন্য অনেক ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অপসারণ করেছে। বাস্তবতা হলো, ওমর ফারুকের বিরুদ্ধেও একই অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তাদের মতে, ওমর ফারুক ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের সঙ্গে মুনাফেকি করেছেন, বেইমানি করেছেন।