ঢাকা ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

গণতন্ত্র ফেরানোর সংগ্রাম চলমান : তারেক রহমান

মোজো ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:২৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 273
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি: সংগৃহীত


গণতন্ত্রবিরোধী পরাজিত শক্তির পুনরুত্থান রোধে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ‘স্বৈরাচার পতন দিবস’ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার এক বাণীতে তিনি এই আহবান জানান। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ফেরানোর সংগ্রাম এখনো চলমান।
তারেক রহমান বলেন, ৬ ডিসেম্বর জাতীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন, ১৯৯০ সালের যেদিন দীর্ঘ রক্তাক্ত আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী এরশাদ শাসনের অবসান ঘটে।
তিনি আরো বলেন, ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করে এরশাদ অসাংবিধানিক শাসন জারি করেন, যা ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্রের ওপর
সরাসরি আঘাত, যে গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, স্বৈরশাসক এরশাদ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেন। এই পরিস্থিতিতে ৯ বছর আপসহীন আন্দোলন করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দেন বেগম খালেদা জিয়া, যার ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ছাত্র-জনতা একত্রিত হয়ে স্বৈরাচার পতন ঘটায়।
তারেক রহমান আরো উল্লেখ করেন, ১৯৯০-এর সেই গণ-আন্দোলনের চেতনা থেকেই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণরা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাস্ত করেছে।
বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের ভয়ংকর শত্রু। শেখ হাসিনার দুঃশাসনের অবসানের পর এখন গণতন্ত্রের পূর্ণ পুনরুজ্জীবন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় নিরলস সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।
অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর দোয়া কামনা করে তারেক রহমান বলেন, শেখ হাসিনার আমলে ‘গণতন্ত্রের মা’ খালেদা জিয়ার ওপর জেল-জুলুম ও নানামাত্রিক নিপীড়ন চালানো হয়েছে, যার ফলে তাঁর জীবন এখন সংকটাপন্ন অবস্থায়। একই সঙ্গে লাখ লাখ জাতীয়তাবাদী নেতাকর্মীর ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
তারেক রহমান ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।
এ ছাড়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রবিরোধী পরাজিত শক্তির পুনরুত্থান রোধে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে সব সময় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
এদিকে ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বাণীতে আশির দশকের ছাত্র গণ-আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বরের স্বৈরাচার পতন দেশের গণতন্ত্র যাত্রার নতুন সূচনা ছিল। কিন্তু গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি কখনোই নিষ্ক্রিয় ছিল না; বরং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলিত হয়ে ক্রমাগত গণতন্ত্রকে দুর্বল করেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার যৌথভাবে দেশকে একদলীয় দুঃশাসনের এক অনতি ক্রান্তি বৃত্তের মধ্যে ঠেলে দেয়। নাগরিক অধিকার ও বহুদলীয় গণতন্ত্র বারবার বাধাগ্রস্ত হলেও দেশের মানুষ প্রতিবারই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে আবারও গণতন্ত্র শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশ যেন আর কখনো গুম, গুপ্তহত্যা ও ক্রসফায়ারের নিষ্ঠুর পরিকাঠামোতে না পড়ে, রাষ্ট্র ও সমাজে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গণতন্ত্রকামী জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। স্বৈরাচার পতন দিবসে এটাই হোক আমাদের দৃপ্ত শপথ।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তের কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ, রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ কৃষি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান, এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় সীমান্ত এলাকার ৮০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি জাতের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো অধিক উচ্চতার ফসলের পরিবর্তে ধানসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গণতন্ত্র ফেরানোর সংগ্রাম চলমান : তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০৬:২৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত


গণতন্ত্রবিরোধী পরাজিত শক্তির পুনরুত্থান রোধে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ‘স্বৈরাচার পতন দিবস’ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার এক বাণীতে তিনি এই আহবান জানান। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ফেরানোর সংগ্রাম এখনো চলমান।
তারেক রহমান বলেন, ৬ ডিসেম্বর জাতীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন, ১৯৯০ সালের যেদিন দীর্ঘ রক্তাক্ত আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী এরশাদ শাসনের অবসান ঘটে।
তিনি আরো বলেন, ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করে এরশাদ অসাংবিধানিক শাসন জারি করেন, যা ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্রের ওপর
সরাসরি আঘাত, যে গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, স্বৈরশাসক এরশাদ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেন। এই পরিস্থিতিতে ৯ বছর আপসহীন আন্দোলন করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দেন বেগম খালেদা জিয়া, যার ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ছাত্র-জনতা একত্রিত হয়ে স্বৈরাচার পতন ঘটায়।
তারেক রহমান আরো উল্লেখ করেন, ১৯৯০-এর সেই গণ-আন্দোলনের চেতনা থেকেই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণরা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাস্ত করেছে।
বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের ভয়ংকর শত্রু। শেখ হাসিনার দুঃশাসনের অবসানের পর এখন গণতন্ত্রের পূর্ণ পুনরুজ্জীবন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় নিরলস সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।
অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর দোয়া কামনা করে তারেক রহমান বলেন, শেখ হাসিনার আমলে ‘গণতন্ত্রের মা’ খালেদা জিয়ার ওপর জেল-জুলুম ও নানামাত্রিক নিপীড়ন চালানো হয়েছে, যার ফলে তাঁর জীবন এখন সংকটাপন্ন অবস্থায়। একই সঙ্গে লাখ লাখ জাতীয়তাবাদী নেতাকর্মীর ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
তারেক রহমান ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।
এ ছাড়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রবিরোধী পরাজিত শক্তির পুনরুত্থান রোধে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে সব সময় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
এদিকে ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বাণীতে আশির দশকের ছাত্র গণ-আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বরের স্বৈরাচার পতন দেশের গণতন্ত্র যাত্রার নতুন সূচনা ছিল। কিন্তু গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি কখনোই নিষ্ক্রিয় ছিল না; বরং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলিত হয়ে ক্রমাগত গণতন্ত্রকে দুর্বল করেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার যৌথভাবে দেশকে একদলীয় দুঃশাসনের এক অনতি ক্রান্তি বৃত্তের মধ্যে ঠেলে দেয়। নাগরিক অধিকার ও বহুদলীয় গণতন্ত্র বারবার বাধাগ্রস্ত হলেও দেশের মানুষ প্রতিবারই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে আবারও গণতন্ত্র শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশ যেন আর কখনো গুম, গুপ্তহত্যা ও ক্রসফায়ারের নিষ্ঠুর পরিকাঠামোতে না পড়ে, রাষ্ট্র ও সমাজে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গণতন্ত্রকামী জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। স্বৈরাচার পতন দিবসে এটাই হোক আমাদের দৃপ্ত শপথ।’