কাজী নজরুলের সমাধির পাশে শেষ বিশ্রামে শরীফ ওসমান হাদি
- আপডেট সময় : ০৩:০০:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৬১৮ বার পড়া হয়েছে
কাজী নজরুলের সমাধির পাশে শেষ বিশ্রামে শরীফ ওসমান হাদি
প্রতিবেদন
নাদিম শেখ আদর
___________________
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও প্রতিবাদী কণ্ঠ শরীফ ওসমান হাদি। শনিবার বিকেলে জাতীয় কবির সমাধি চত্বরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও ধর্মীয় রীতিতে তাকে দাফন করা হয়।
—শরীফ ওসমান হাদি। যিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেননি, যিনি বিশ্বাস করতেন ‘বল বীর, চির উন্নত মম শির’—সেই মন্ত্রই যেন তাকে এনে দিল নজরুলের পাশের চূড়ান্ত ঠিকানা।
গুলি তাকে থামাতে পারেনি, ভয় তাকে নীরব করতে পারেনি। হাসপাতালের বিছানা, দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশের চিকিৎসাকেন্দ্র—সব পেরিয়েও তিনি ছিলেন সংগ্রামের প্রতীক। শেষ পর্যন্ত যখন নিথর দেহটি দেশে ফিরল, তখন আর তিনি কথা বলেনন, কিন্তু তার নীরবতাই হয়ে উঠল সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ প্রতিবাদ। চোখের জলে ভিজে উঠল সংসদের প্রাঙ্গণ, কাঁপল সহযোদ্ধাদের কণ্ঠ, আর ইতিহাসে যুক্ত হলো আরেকটি রক্তাক্ত অধ্যায়।
নজরুলের সমাধির পাশে তাকে সমাহিত করার মধ্য দিয়ে যেন বিদ্রোহ, সত্য ও সাহস এক সূত্রে গাঁথা হলো। একজন মানুষ চলে গেলেন, কিন্তু রেখে গেলেন মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দায়—যা এখন বহন করবে একটি প্রজন্ম।
জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানে থাকা শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন সাহসী প্রতিবাদের প্রতীক। একাধিকবার হামলার শিকার হলেও তিনি কখনো পথ বদলাননি। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত আর ফেরানো যায়নি তাকে।
মরদেহ দেশে ফেরার পর সর্বস্তরের মানুষ তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন। জানাজা ও দাফনের সময় সহযোদ্ধা, রাজনৈতিক সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের চোখে ছিল গভীর শোক আর ক্ষোভের ছাপ। শোকাহত কণ্ঠে তারা বলেন, “শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু শুধু একজন মানুষের বিদায় নয়, এটি একটি প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেওয়ার নির্মম ইতিহাস”।
নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে সমাহিত করার বিষয়টি অনেকের কাছে প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে। বিদ্রোহী কবির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আজীবন সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এই নেতার শেষ ঠিকানাও হলো সেই বিদ্রোহের ভূমি।
শরীফ ওসমান হাদি চলে গেলেও তার রেখে যাওয়া আদর্শ, সাহস ও প্রতিবাদের চেতনা নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।















































