ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo [আপডেট] রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা, খুলেছে ২০৪ আশ্রয়কেন্দ্র Logo এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলায় খুলনায় প্রতিবাদ মিছিল Logo হরিপুরে সরকারি সহায়তা পেলেন রোগী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও প্রতিবন্ধীরা Logo প্রত্যয় সংগঠনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন পিএবিএম-এর উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া Logo বিএডিসিতে গণবদলি নিয়ে তোলপাড়: চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা Logo মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে কাজী নজরুলকে প্রধান দিশারি হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo স্টেডফাস্ট কুরিয়ার কার্যালয় পরিদর্শনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, শান্তিপূর্ণ সমাধানে আইনানুগ নির্দেশনা Logo সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাকোপে কে.সি. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠিত Logo জৈব সারের নামে বর্জ্য বিতরণ, বদলি করা হয়েছে কামারখন্দের সেই কৃষি কর্মকর্তাকে Logo সুপারভাইজার বলেছিল ‘তুই মরলেও ছুটি নাই’

বড় ধরনের কাটছাঁট বড় আকারের অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪০:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 172

ছবি: সংগৃহীত

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি কমে আসায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরের জন্য এডিপির মোট বরাদ্দ নেমে এসেছে ২ লাখ কোটি টাকায়।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে (আরএডিপি) তা কমিয়ে আনা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাস্তবায়ন অগ্রগতি কম থাকায় বিশেষ করে বড় আকারের অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর বরাদ্দে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে।

২০২৫–২৬ অর্থবছরের আরএডিপিতে সরকারি তহবিল থেকে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে ৭২ হাজার কোটি টাকা। এতে মূল এডিপির তুলনায় সরকারি তহবিলের বরাদ্দ কমেছে ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ কমেছে ১৪ হাজার কোটি টাকা।

মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় কাটছাঁট করা হয়েছে মেট্রোরেল লাইন-১ (এমআরটি লাইন-১) প্রকল্পে। এই প্রকল্পে চলমান এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৮ হাজার ৬৩১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। সংশোধিত এডিপিতে তা কমিয়ে ৮০১ কোটি টাকা করা হয়েছে। ফলে প্রকল্পটির বরাদ্দ কমেছে ৭ হাজার ৮৩০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৯১ শতাংশ।

বরাদ্দ কমার তালিকায় পরের অবস্থানে রয়েছে মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প। এতে বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে তা কমিয়ে ১ হাজার ৮৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বরাদ্দ কমেছে ২ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৭৩ শতাংশ,

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পেও বড় অঙ্কের বরাদ্দ কমানো হয়েছে। প্রকল্পটির বরাদ্দ ১ হাজার ৩৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৩০৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। এতে বরাদ্দ কমেছে ৭৩২ কোটি ৯১ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৭১ শতাংশ।

এ ছাড়া বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পে বরাদ্দ ৪২৫ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ১৬৮ কোটি ৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। এতে বরাদ্দ কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ।

মেট্রোরেল লাইন-৫ (এমআরটি লাইন-৫) প্রকল্পে বরাদ্দ ১ হাজার ৪৯০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৫৯২ কোটি ৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রায় ৬০ শতাংশ কম।

মেট্রোরেল লাইন-৬ (এমআরটি লাইন-৬) প্রকল্পে বরাদ্দ ১ হাজার ৩৪৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ২৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা করা হয়েছে। এতে বরাদ্দ কমেছে প্রায় ২৪ শতাংশ।

আপগ্রেডিং অব হাটিকুমরুল–রংপুর হাইওয়ে টু ফোর লেন প্রকল্পেও কাটছাঁট করা হয়েছে। এ প্রকল্পে বরাদ্দ ১ হাজার ৮৭২ কোটি ৫ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৫৬২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বরাদ্দ কমেছে প্রায় ১৭ শতাংশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বড় ধরনের কাটছাঁট বড় আকারের অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর

আপডেট সময় : ১১:৪০:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি কমে আসায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরের জন্য এডিপির মোট বরাদ্দ নেমে এসেছে ২ লাখ কোটি টাকায়।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে (আরএডিপি) তা কমিয়ে আনা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাস্তবায়ন অগ্রগতি কম থাকায় বিশেষ করে বড় আকারের অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর বরাদ্দে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে।

২০২৫–২৬ অর্থবছরের আরএডিপিতে সরকারি তহবিল থেকে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে ৭২ হাজার কোটি টাকা। এতে মূল এডিপির তুলনায় সরকারি তহবিলের বরাদ্দ কমেছে ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ কমেছে ১৪ হাজার কোটি টাকা।

মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় কাটছাঁট করা হয়েছে মেট্রোরেল লাইন-১ (এমআরটি লাইন-১) প্রকল্পে। এই প্রকল্পে চলমান এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৮ হাজার ৬৩১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। সংশোধিত এডিপিতে তা কমিয়ে ৮০১ কোটি টাকা করা হয়েছে। ফলে প্রকল্পটির বরাদ্দ কমেছে ৭ হাজার ৮৩০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৯১ শতাংশ।

বরাদ্দ কমার তালিকায় পরের অবস্থানে রয়েছে মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প। এতে বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে তা কমিয়ে ১ হাজার ৮৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বরাদ্দ কমেছে ২ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৭৩ শতাংশ,

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পেও বড় অঙ্কের বরাদ্দ কমানো হয়েছে। প্রকল্পটির বরাদ্দ ১ হাজার ৩৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৩০৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। এতে বরাদ্দ কমেছে ৭৩২ কোটি ৯১ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৭১ শতাংশ।

এ ছাড়া বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পে বরাদ্দ ৪২৫ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ১৬৮ কোটি ৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। এতে বরাদ্দ কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ।

মেট্রোরেল লাইন-৫ (এমআরটি লাইন-৫) প্রকল্পে বরাদ্দ ১ হাজার ৪৯০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৫৯২ কোটি ৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রায় ৬০ শতাংশ কম।

মেট্রোরেল লাইন-৬ (এমআরটি লাইন-৬) প্রকল্পে বরাদ্দ ১ হাজার ৩৪৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ২৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা করা হয়েছে। এতে বরাদ্দ কমেছে প্রায় ২৪ শতাংশ।

আপগ্রেডিং অব হাটিকুমরুল–রংপুর হাইওয়ে টু ফোর লেন প্রকল্পেও কাটছাঁট করা হয়েছে। এ প্রকল্পে বরাদ্দ ১ হাজার ৮৭২ কোটি ৫ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৫৬২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বরাদ্দ কমেছে প্রায় ১৭ শতাংশ।