ঢাকা ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

বিচারকের আসনে বসার আগে মানুষ হও, নইলে অবিচারই হবে সমাজের নিয়তি

মোঃ আইনুল ইসলাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 163

এআই দ্বারা প্রতীকী ছবি

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিক্ষামূলক মতামতভিত্তিক প্রতিবেদন: 

 

একজন জ্ঞানী ব্যক্তির গভীর তাৎপর্যপূর্ণ বাণী—“বিচার করার আগে সাধক হও আগে।”এই একটি বাক্যের ভেতরেই লুকিয়ে আছে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মৌলিক দর্শন। কারণ, সাধক না হয়ে বিচার করতে গেলে সেই বিচার আর ন্যায় থাকে না—তা রূপ নেয় অবিচারে।

আর ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে অবিচার কোনো সাধারণ অপরাধ নয়; এটি এমন এক অপরাধ, যার জবাবদিহিতা সরাসরি আল্লাহ পাকের দরবারে দিতে হবে। কেননা—
“সমস্ত বিচারকের মাথার উপর একজন মহা বিচারক রয়েছেন, তিনি হলেন আল্লাহ।”

 

সমস্যা কোথায়?
আমাদের সমাজে দুঃখজনকভাবে এমন একটি শ্রেণি তৈরি হয়েছে— যারা আত্মসমালোচনার বদলে অন্যের দোষ খুঁজতেই বেশি ব্যস্ত। নিজের ভেতরের অসঙ্গতি, নৈতিক দুর্বলতা কিংবা দায়ীত্বহীনতা তারা দেখেন না; কিন্তু অন্যের সামান্য ত্রুটি তাদের চোখে পাহাড়সম হয়ে ওঠে।

এই মানসিকতা থেকেই জন্ম নেয়—
মানুষের মাঝে বিবাদ সৃষ্টি, সামাজিক বিভাজন, অপপ্রচার, অন্যায়ের নীরব সহযোগিতা, এবং সম্মানহানির সংস্কৃতি সমাজবিজ্ঞান বলে, যে ব্যক্তি নিজের সংশোধনে আগ্রহী নয়, সে কখনো সমাজ সংশোধনের যোগ্য হতে পারে না।

 

যুক্তির জায়গা
অজ্ঞতা যখন আত্মবিশ্বাসের মুখোশ পরে আসে, তখন যুক্তি আর কাজ করে না।
কারণ— যুক্তি বোঝার জন্য দরকার মন,
মন খোলার জন্য দরকার বিনয়, আর বিনয়ের জন্য দরকার আত্মজ্ঞান, যার ভেতরে এই তিনটির কোনোটিই নেই, তার কাছে যুক্তি দেওয়া মানে—পাথরে বীজ বপন করা।

এমন মানসিকতা সম্পর্কে কুরআনের একটি গভীর ইশারা প্রযোজ্য হয়ে ওঠে—
“তাদের চোখ আছে, কিন্তু তারা দেখে না;
তাদের হৃদয় আছে, কিন্তু তারা উপলব্ধি করে না।” এরা শারীরিকভাবে জীবিত, কিন্তু নৈতিকভাবে অচল।

 

সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য পরিণতি
প্রশ্ন উঠতেই পারে—এই ধরনের মানসিকতা থেকে কি পারিবারিক কল্যাণ সম্ভব, সামাজিক স্থিতি? রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন? উত্তর বাস্তবতা থেকেই আসে—যেখানে আত্মশুদ্ধি নেই, সেখানে দায়ীত্ববোধ জন্মায় না।

যেখানে দায়ীত্ববোধ নেই, সেখানে কল্যাণ কেবল কাগজে থাকে—বাস্তবে নয়। ঠিক যেমন— বিষাক্ত পানি যেদিকে গড়ায়, সেদিকের পরিবেশ ধ্বংস করে, তেমনি বিষাক্ত চিন্তা যেখানেই প্রভাব বিস্তার করে, সেখানেই নষ্ট হয় সম্পর্ক, সমাজ ও বিশ্বাস।

 

করণীয় কী?
সমাধান খুব জটিল নয়, কিন্তু কঠিন নিজেকে বিচার করার সাহস অর্জন করা।
অন্যকে প্রশ্ন করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা
দোষ ধরার আগে দায়ীত্ব বোঝা,বিচার করার আগে মানবিক হওয়া,এটাই সভ্য সমাজের ভিত্তি।

 

উপসংহার
আজ সমাজের সবচেয়ে বড় সংকট দারিদ্র্য নয়, অশিক্ষাও নয়—সবচেয়ে বড় সংকট হলো নৈতিক আত্মসমালোচনার অভাব।
যে ব্যক্তি নিজেকে সংশোধন করতে শেখে, সে একাই সমাজ বদলাতে পারে। আর যে ব্যক্তি শুধু অন্যকে বিচার করতেই জানে—সে নিজেই সমাজের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
বিচার করার আগে মানুষ হও—কারণ আল্লাহর আদালতে কোনো ভুল বিচার ক্ষমা পায় না।

 

লেখক : মোঃ আইনুল ইসলাম ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তের কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ, রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ কৃষি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান, এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় সীমান্ত এলাকার ৮০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি জাতের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো অধিক উচ্চতার ফসলের পরিবর্তে ধানসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিচারকের আসনে বসার আগে মানুষ হও, নইলে অবিচারই হবে সমাজের নিয়তি

আপডেট সময় : ০৭:৫৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিক্ষামূলক মতামতভিত্তিক প্রতিবেদন: 

 

একজন জ্ঞানী ব্যক্তির গভীর তাৎপর্যপূর্ণ বাণী—“বিচার করার আগে সাধক হও আগে।”এই একটি বাক্যের ভেতরেই লুকিয়ে আছে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মৌলিক দর্শন। কারণ, সাধক না হয়ে বিচার করতে গেলে সেই বিচার আর ন্যায় থাকে না—তা রূপ নেয় অবিচারে।

আর ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে অবিচার কোনো সাধারণ অপরাধ নয়; এটি এমন এক অপরাধ, যার জবাবদিহিতা সরাসরি আল্লাহ পাকের দরবারে দিতে হবে। কেননা—
“সমস্ত বিচারকের মাথার উপর একজন মহা বিচারক রয়েছেন, তিনি হলেন আল্লাহ।”

 

সমস্যা কোথায়?
আমাদের সমাজে দুঃখজনকভাবে এমন একটি শ্রেণি তৈরি হয়েছে— যারা আত্মসমালোচনার বদলে অন্যের দোষ খুঁজতেই বেশি ব্যস্ত। নিজের ভেতরের অসঙ্গতি, নৈতিক দুর্বলতা কিংবা দায়ীত্বহীনতা তারা দেখেন না; কিন্তু অন্যের সামান্য ত্রুটি তাদের চোখে পাহাড়সম হয়ে ওঠে।

এই মানসিকতা থেকেই জন্ম নেয়—
মানুষের মাঝে বিবাদ সৃষ্টি, সামাজিক বিভাজন, অপপ্রচার, অন্যায়ের নীরব সহযোগিতা, এবং সম্মানহানির সংস্কৃতি সমাজবিজ্ঞান বলে, যে ব্যক্তি নিজের সংশোধনে আগ্রহী নয়, সে কখনো সমাজ সংশোধনের যোগ্য হতে পারে না।

 

যুক্তির জায়গা
অজ্ঞতা যখন আত্মবিশ্বাসের মুখোশ পরে আসে, তখন যুক্তি আর কাজ করে না।
কারণ— যুক্তি বোঝার জন্য দরকার মন,
মন খোলার জন্য দরকার বিনয়, আর বিনয়ের জন্য দরকার আত্মজ্ঞান, যার ভেতরে এই তিনটির কোনোটিই নেই, তার কাছে যুক্তি দেওয়া মানে—পাথরে বীজ বপন করা।

এমন মানসিকতা সম্পর্কে কুরআনের একটি গভীর ইশারা প্রযোজ্য হয়ে ওঠে—
“তাদের চোখ আছে, কিন্তু তারা দেখে না;
তাদের হৃদয় আছে, কিন্তু তারা উপলব্ধি করে না।” এরা শারীরিকভাবে জীবিত, কিন্তু নৈতিকভাবে অচল।

 

সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য পরিণতি
প্রশ্ন উঠতেই পারে—এই ধরনের মানসিকতা থেকে কি পারিবারিক কল্যাণ সম্ভব, সামাজিক স্থিতি? রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন? উত্তর বাস্তবতা থেকেই আসে—যেখানে আত্মশুদ্ধি নেই, সেখানে দায়ীত্ববোধ জন্মায় না।

যেখানে দায়ীত্ববোধ নেই, সেখানে কল্যাণ কেবল কাগজে থাকে—বাস্তবে নয়। ঠিক যেমন— বিষাক্ত পানি যেদিকে গড়ায়, সেদিকের পরিবেশ ধ্বংস করে, তেমনি বিষাক্ত চিন্তা যেখানেই প্রভাব বিস্তার করে, সেখানেই নষ্ট হয় সম্পর্ক, সমাজ ও বিশ্বাস।

 

করণীয় কী?
সমাধান খুব জটিল নয়, কিন্তু কঠিন নিজেকে বিচার করার সাহস অর্জন করা।
অন্যকে প্রশ্ন করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা
দোষ ধরার আগে দায়ীত্ব বোঝা,বিচার করার আগে মানবিক হওয়া,এটাই সভ্য সমাজের ভিত্তি।

 

উপসংহার
আজ সমাজের সবচেয়ে বড় সংকট দারিদ্র্য নয়, অশিক্ষাও নয়—সবচেয়ে বড় সংকট হলো নৈতিক আত্মসমালোচনার অভাব।
যে ব্যক্তি নিজেকে সংশোধন করতে শেখে, সে একাই সমাজ বদলাতে পারে। আর যে ব্যক্তি শুধু অন্যকে বিচার করতেই জানে—সে নিজেই সমাজের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
বিচার করার আগে মানুষ হও—কারণ আল্লাহর আদালতে কোনো ভুল বিচার ক্ষমা পায় না।

 

লেখক : মোঃ আইনুল ইসলাম ।