ঢাকা ০৭:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

প্রয়োজনে আপন, স্বার্থ শেষেই অচেনা—নীরব মানুষের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বাস্তব চরিত্র

মোঃ আইনুল ইসলাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৯:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • / 130
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ আইনুল ইসলাম
দিনাজপুর প্রতিনিধি,দেশবর্ণ নিউজ।

 

ডিজিটাল যুগে যোগাযোগ এখন হাতের মুঠোয়। একটি মেসেজ, একটি ফোন কল—মুহূর্তেই মানুষের সাথে যোগাযোগ সম্ভব। কিন্তু প্রযুক্তির এই সহজতার মাঝেও সমাজে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সৌজন্য, মানবিকতা ও পারস্পরিক সম্মানবোধ।

বর্তমান বাস্তবতায় প্রায়ই দেখা যায়—অনেক মানুষ মেসেজ পাঠালে সেটি পড়েও কোনো উত্তর দেয় না। ফোন দিলে রিসিভ করে না, এমনকি পরে সময় পাওয়ার পরও ভদ্রতা বা সম্মানের খাতিরে একটি ফোন ব্যাক করার ন্যূনতম সৌজন্যটুকুও দেখায় না।
প্রশ্ন হলো—এই নীরবতার পেছনে কী লুকিয়ে আছে?

সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, এদের একটি বড় অংশ হচ্ছে স্বার্থকেন্দ্রিক বা সুবিধাভোগী মানসিকতার মানুষ। প্রয়োজনের সময় তারা ঘনিষ্ঠতা দেখায়, মিষ্টি কথা বলে, সম্পর্ক গড়ে তোলে। কিন্তু যখন সেই স্বার্থে সামান্য ব্যাঘাত ঘটে বা কাজ শেষ হয়ে যায়—তখন তারা নীরব হয়ে যায়, ধীরে ধীরে দূরে সরে পড়ে।

এই ধরনের মানুষকে অনেকেই একটি প্রবাদ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন—
“যেদিকে বৃষ্টি পড়ে, সেদিকেই ছাতা মেলে ধরে।” অর্থাৎ সুবিধা যেখানে, সম্পর্কও সেখানে। আরেকটি পরিচিত উপমা হলো—“গোল আলু”। যেমন গোল আলু প্রায় সব তরকারিতেই মানিয়ে যায়, তেমনি এই ধরনের মানুষও সবার সাথে মিশতে পারে, সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলতে পারে। কিন্তু সেই হাসির আড়ালে অনেক সময় লুকিয়ে থাকে ব্যক্তিগত স্বার্থের হিসাব।

তাদের কথাবার্তা, আচরণ ও মিশুক স্বভাব দেখে অনেকেই প্রথমে বিভ্রান্ত হন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বোঝা যায়—তাদের সম্পর্কের ভিতটা আসলে স্বার্থের উপর দাঁড়িয়ে আছে, সৌজন্যের উপর নয়। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, মানুষের প্রকৃত চরিত্র বড় বড় কথায় নয়, বরং ছোট ছোট আচরণে প্রকাশ পায়—একটি মেসেজের উত্তর, একটি ফোন ব্যাক, অথবা একটি ছোট্ট সৌজন্যমূলক প্রতিক্রিয়া।
এই সামান্য বিষয়গুলোই মানুষকে বড় করে তোলে।

তাই সচেতন মানুষদের উচিত—বাহ্যিক হাসি বা মিষ্টি কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে মানুষের আচরণ, দায়িত্ববোধ ও সৌজন্যবোধ দেখে তাকে মূল্যায়ন করা। কারণ শেষ পর্যন্ত একটি সত্য সবসময় স্পষ্ট হয়ে যায়—মানুষের পরিচয় তার কথায় নয়, তার আচরণেই প্রকাশ পায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তের কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ, রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ কৃষি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান, এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় সীমান্ত এলাকার ৮০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি জাতের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো অধিক উচ্চতার ফসলের পরিবর্তে ধানসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রয়োজনে আপন, স্বার্থ শেষেই অচেনা—নীরব মানুষের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বাস্তব চরিত্র

আপডেট সময় : ০১:০৯:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

মোঃ আইনুল ইসলাম
দিনাজপুর প্রতিনিধি,দেশবর্ণ নিউজ।

 

ডিজিটাল যুগে যোগাযোগ এখন হাতের মুঠোয়। একটি মেসেজ, একটি ফোন কল—মুহূর্তেই মানুষের সাথে যোগাযোগ সম্ভব। কিন্তু প্রযুক্তির এই সহজতার মাঝেও সমাজে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সৌজন্য, মানবিকতা ও পারস্পরিক সম্মানবোধ।

বর্তমান বাস্তবতায় প্রায়ই দেখা যায়—অনেক মানুষ মেসেজ পাঠালে সেটি পড়েও কোনো উত্তর দেয় না। ফোন দিলে রিসিভ করে না, এমনকি পরে সময় পাওয়ার পরও ভদ্রতা বা সম্মানের খাতিরে একটি ফোন ব্যাক করার ন্যূনতম সৌজন্যটুকুও দেখায় না।
প্রশ্ন হলো—এই নীরবতার পেছনে কী লুকিয়ে আছে?

সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, এদের একটি বড় অংশ হচ্ছে স্বার্থকেন্দ্রিক বা সুবিধাভোগী মানসিকতার মানুষ। প্রয়োজনের সময় তারা ঘনিষ্ঠতা দেখায়, মিষ্টি কথা বলে, সম্পর্ক গড়ে তোলে। কিন্তু যখন সেই স্বার্থে সামান্য ব্যাঘাত ঘটে বা কাজ শেষ হয়ে যায়—তখন তারা নীরব হয়ে যায়, ধীরে ধীরে দূরে সরে পড়ে।

এই ধরনের মানুষকে অনেকেই একটি প্রবাদ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন—
“যেদিকে বৃষ্টি পড়ে, সেদিকেই ছাতা মেলে ধরে।” অর্থাৎ সুবিধা যেখানে, সম্পর্কও সেখানে। আরেকটি পরিচিত উপমা হলো—“গোল আলু”। যেমন গোল আলু প্রায় সব তরকারিতেই মানিয়ে যায়, তেমনি এই ধরনের মানুষও সবার সাথে মিশতে পারে, সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলতে পারে। কিন্তু সেই হাসির আড়ালে অনেক সময় লুকিয়ে থাকে ব্যক্তিগত স্বার্থের হিসাব।

তাদের কথাবার্তা, আচরণ ও মিশুক স্বভাব দেখে অনেকেই প্রথমে বিভ্রান্ত হন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বোঝা যায়—তাদের সম্পর্কের ভিতটা আসলে স্বার্থের উপর দাঁড়িয়ে আছে, সৌজন্যের উপর নয়। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, মানুষের প্রকৃত চরিত্র বড় বড় কথায় নয়, বরং ছোট ছোট আচরণে প্রকাশ পায়—একটি মেসেজের উত্তর, একটি ফোন ব্যাক, অথবা একটি ছোট্ট সৌজন্যমূলক প্রতিক্রিয়া।
এই সামান্য বিষয়গুলোই মানুষকে বড় করে তোলে।

তাই সচেতন মানুষদের উচিত—বাহ্যিক হাসি বা মিষ্টি কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে মানুষের আচরণ, দায়িত্ববোধ ও সৌজন্যবোধ দেখে তাকে মূল্যায়ন করা। কারণ শেষ পর্যন্ত একটি সত্য সবসময় স্পষ্ট হয়ে যায়—মানুষের পরিচয় তার কথায় নয়, তার আচরণেই প্রকাশ পায়।