ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

রমজানের প্রভাব: অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ পাঠক কম

আবির মোহাম্মদ
  • আপডেট সময় : ১০:০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • / 139

ছবি : দেশবর্ন ।

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রতিবেদন: আবির মোহাম্মদ

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক আয়োজন অমর একুশে বইমেলা। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পাঠক, লেখক ও প্রকাশকের মিলনমেলায় পরিণত হয় এই আয়োজন। তবে ২০২৬ সালের বইমেলায় আগের বছরের তুলনায় পাঠক উপস্থিতি ও বই বিক্রি – দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে কম বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা।

মেলায় অংশ নেওয়া বেশ কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের মেলায় প্রতিদিনই দর্শনার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। বিশেষ করে সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনগুলোতে অনেক স্টলেই পাঠকের ভিড় চোখে পড়ছে না। ফলে বই বিক্রিও আশানুরূপ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা।

প্রকাশকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে বইমেলায় পাঠকের আগ্রহ অনেক বেশি থাকলেও এবার সেই চিত্র কিছুটা ভিন্ন। অনেক প্রকাশক জানিয়েছেন, নতুন বই প্রকাশ করা হলেও বিক্রির গতি খুবই ধীর, যা তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এবারের মেলায় পাঠক উপস্থিতি কম হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে অনেকেই উল্লেখ করছেন রমজান মাসকে। রোজার কারণে অনেক মানুষ দিনের বেলায় বাইরে কম বের হচ্ছেন এবং ইফতার ও তারাবির নামাজকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যার সময়ও অনেকের পক্ষে মেলায় আসা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া কিছু প্রকাশকের মতে, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল মাধ্যমের প্রতি মানুষের ঝোঁক, ব্যস্ত জীবনযাপন এবং অর্থনৈতিক চাপ এসব কারণেও বই কেনার প্রবণতা কিছুটা কমে যেতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, মেলার প্রচার ও আয়োজনের কিছু দিক আরও আকর্ষণীয় করা গেলে পাঠকের উপস্থিতি বাড়তে পারত।

তবে হতাশার মাঝেও আশা ছাড়ছেন না প্রকাশক ও লেখকরা। তাদের বিশ্বাস, মেলার শেষের দিনগুলোতে পাঠকের ভিড় বাড়তে পারে এবং তখন বই বিক্রির পরিস্থিতিও কিছুটা ইতিবাচক হতে পারে।

বাংলা ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে আয়োজিত এই বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার স্থান নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, জ্ঞানচর্চা ও সাহিত্যপ্রেমের অন্যতম প্রতীক। তাই সংশ্লিষ্টদের মতে, পাঠকদের আরও বেশি করে বইমুখী করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের বইমেলা নিয়ে প্রকাশনা জগতে যেমন কিছুটা হতাশা রয়েছে, তেমনি শেষ সময়ে পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়ানোর আশাও রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তের কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ, রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ কৃষি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান, এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় সীমান্ত এলাকার ৮০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি জাতের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো অধিক উচ্চতার ফসলের পরিবর্তে ধানসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রমজানের প্রভাব: অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ পাঠক কম

আপডেট সময় : ১০:০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

প্রতিবেদন: আবির মোহাম্মদ

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক আয়োজন অমর একুশে বইমেলা। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পাঠক, লেখক ও প্রকাশকের মিলনমেলায় পরিণত হয় এই আয়োজন। তবে ২০২৬ সালের বইমেলায় আগের বছরের তুলনায় পাঠক উপস্থিতি ও বই বিক্রি – দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে কম বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা।

মেলায় অংশ নেওয়া বেশ কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের মেলায় প্রতিদিনই দর্শনার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। বিশেষ করে সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনগুলোতে অনেক স্টলেই পাঠকের ভিড় চোখে পড়ছে না। ফলে বই বিক্রিও আশানুরূপ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা।

প্রকাশকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে বইমেলায় পাঠকের আগ্রহ অনেক বেশি থাকলেও এবার সেই চিত্র কিছুটা ভিন্ন। অনেক প্রকাশক জানিয়েছেন, নতুন বই প্রকাশ করা হলেও বিক্রির গতি খুবই ধীর, যা তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এবারের মেলায় পাঠক উপস্থিতি কম হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে অনেকেই উল্লেখ করছেন রমজান মাসকে। রোজার কারণে অনেক মানুষ দিনের বেলায় বাইরে কম বের হচ্ছেন এবং ইফতার ও তারাবির নামাজকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যার সময়ও অনেকের পক্ষে মেলায় আসা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া কিছু প্রকাশকের মতে, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল মাধ্যমের প্রতি মানুষের ঝোঁক, ব্যস্ত জীবনযাপন এবং অর্থনৈতিক চাপ এসব কারণেও বই কেনার প্রবণতা কিছুটা কমে যেতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, মেলার প্রচার ও আয়োজনের কিছু দিক আরও আকর্ষণীয় করা গেলে পাঠকের উপস্থিতি বাড়তে পারত।

তবে হতাশার মাঝেও আশা ছাড়ছেন না প্রকাশক ও লেখকরা। তাদের বিশ্বাস, মেলার শেষের দিনগুলোতে পাঠকের ভিড় বাড়তে পারে এবং তখন বই বিক্রির পরিস্থিতিও কিছুটা ইতিবাচক হতে পারে।

বাংলা ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে আয়োজিত এই বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার স্থান নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, জ্ঞানচর্চা ও সাহিত্যপ্রেমের অন্যতম প্রতীক। তাই সংশ্লিষ্টদের মতে, পাঠকদের আরও বেশি করে বইমুখী করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের বইমেলা নিয়ে প্রকাশনা জগতে যেমন কিছুটা হতাশা রয়েছে, তেমনি শেষ সময়ে পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়ানোর আশাও রয়েছে।