ঢাকা ০১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা, খুলেছে ২০৪ আশ্রয়কেন্দ্র Logo এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলায় খুলনায় প্রতিবাদ মিছিল Logo হরিপুরে সরকারি সহায়তা পেলেন রোগী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও প্রতিবন্ধীরা Logo প্রত্যয় সংগঠনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন পিএবিএম-এর উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া Logo বিএডিসিতে গণবদলি নিয়ে তোলপাড়: চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা Logo মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে কাজী নজরুলকে প্রধান দিশারি হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo স্টেডফাস্ট কুরিয়ার কার্যালয় পরিদর্শনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, শান্তিপূর্ণ সমাধানে আইনানুগ নির্দেশনা Logo সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাকোপে কে.সি. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠিত Logo জৈব সারের নামে বর্জ্য বিতরণ, বদলি করা হয়েছে কামারখন্দের সেই কৃষি কর্মকর্তাকে Logo সুপারভাইজার বলেছিল ‘তুই মরলেও ছুটি নাই’

যে তেল আপনাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে !

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • / 105

ছবি : দেশবর্ন গ্রাফিক্স ।

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বর্তমান সময়ে রান্নার অন্যতম প্রচলিত উপাদান সয়াবিন তেল—যা আমরা প্রতিদিনই ব্যবহার করছি প্রায় অচেতনভাবেই। কিন্তু এই তেলই কি ধীরে ধীরে আমাদের শরীর, বিশেষ করে হৃদযন্ত্রের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সয়াবিন তেল পুরোপুরি ক্ষতিকর না হলেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। উচ্চ তাপে বারবার ব্যবহার বা অতিরিক্ত পরিশোধনের ফলে এতে ট্রান্সফ্যাট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

এছাড়া সয়াবিন তেলে থাকা অতিরিক্ত ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরে প্রদাহ (inflammation) সৃষ্টি করতে পারে, যদি খাদ্যে ওমেগা-৩ এর ভারসাম্য না থাকে। এই প্রদাহ দীর্ঘমেয়াদে ধমনীর ক্ষতি করে, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। কিছু ক্ষেত্রে রক্তনালীতে প্লাক জমে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

শুধু হার্টই নয়, অতিরিক্ত সয়াবিন তেল ওজন বৃদ্ধি, ফ্যাটি লিভার এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে—পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করলে সয়াবিন তেলে থাকা মনো-আনস্যাচুরেটেড (MUFA) ও পলি-আনস্যাচুরেটেড (PUFA) ফ্যাট খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। তাই একে পুরোপুরি বাদ না দিয়ে সচেতন ব্যবহারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

হার্ট সুস্থ রাখতে বিশেষজ্ঞরা অলিভ অয়েল, সরিষার তেল, রাইস ব্র্যান অয়েল, ক্যানোলা অয়েল, সূর্যমুখী তেল ও বাদাম তেলের মতো স্বাস্থ্যকর বিকল্প ব্যবহারের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি একটি তেলের ওপর নির্ভর না করে তেল পরিবর্তন করে ব্যবহার করা এবং রান্নায় তেলের পরিমাণ কমানোই হতে পারে সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।

মনে রাখবেন—তেল নয়, আপনার ব্যবহারই নির্ধারণ করে এটি ওষুধ হবে, নাকি বিষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যে তেল আপনাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে !

আপডেট সময় : ০৮:৪৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

বর্তমান সময়ে রান্নার অন্যতম প্রচলিত উপাদান সয়াবিন তেল—যা আমরা প্রতিদিনই ব্যবহার করছি প্রায় অচেতনভাবেই। কিন্তু এই তেলই কি ধীরে ধীরে আমাদের শরীর, বিশেষ করে হৃদযন্ত্রের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সয়াবিন তেল পুরোপুরি ক্ষতিকর না হলেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। উচ্চ তাপে বারবার ব্যবহার বা অতিরিক্ত পরিশোধনের ফলে এতে ট্রান্সফ্যাট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

এছাড়া সয়াবিন তেলে থাকা অতিরিক্ত ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরে প্রদাহ (inflammation) সৃষ্টি করতে পারে, যদি খাদ্যে ওমেগা-৩ এর ভারসাম্য না থাকে। এই প্রদাহ দীর্ঘমেয়াদে ধমনীর ক্ষতি করে, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। কিছু ক্ষেত্রে রক্তনালীতে প্লাক জমে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

শুধু হার্টই নয়, অতিরিক্ত সয়াবিন তেল ওজন বৃদ্ধি, ফ্যাটি লিভার এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে—পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করলে সয়াবিন তেলে থাকা মনো-আনস্যাচুরেটেড (MUFA) ও পলি-আনস্যাচুরেটেড (PUFA) ফ্যাট খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। তাই একে পুরোপুরি বাদ না দিয়ে সচেতন ব্যবহারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

হার্ট সুস্থ রাখতে বিশেষজ্ঞরা অলিভ অয়েল, সরিষার তেল, রাইস ব্র্যান অয়েল, ক্যানোলা অয়েল, সূর্যমুখী তেল ও বাদাম তেলের মতো স্বাস্থ্যকর বিকল্প ব্যবহারের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি একটি তেলের ওপর নির্ভর না করে তেল পরিবর্তন করে ব্যবহার করা এবং রান্নায় তেলের পরিমাণ কমানোই হতে পারে সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।

মনে রাখবেন—তেল নয়, আপনার ব্যবহারই নির্ধারণ করে এটি ওষুধ হবে, নাকি বিষ।