ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo খালেদা জিয়ার পক্ষে স্বাধীনতা পদক নিলেন জাইমা রহমান Logo ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর-এর মমতাময়ী মায়ের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে সরকার Logo মাদক ও মানব পাচার নির্মূলে শিগগিরই বিশেষ অভিযান শুরু হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে আনন্দঘন পরিবেশে বাংলা নববর্ষ বরণ Logo কৃষক কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে টাঙ্গাইল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo নারী উদ্যোক্তা এবং প্রবাসীদের নিয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার Logo বাংলার যয়যাত্রাএর হরমুজ প্রণালী পার হতে কেন বাধা দিল ইরান Logo রায়ে ‘অসন্তুষ্ট’ শহীদ আবু সাঈদের পরিবার

দীর্ঘসময় কাজ করার ফলে স্ট্রোক ও হৃদরোগ ঝুকি অত্যন্ত্য বেশী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৭:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 19
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বেশিরভাগ অফিসে কর্মঘণ্টা আট ঘণ্টা নির্ধারিত থাকলেও তা কেবল খাতা-কলমেই। অনেকেই এর চেয়েও বেশি সময় ধরে কাজ করেন। অতিরিক্ত সময় ধরে কাজ করা কারো কারো দৈনন্দিন রুটিন হয়ে দাঁড়ায়। আর এই দীর্ঘসময় কাজের অভ্যাসই ডাকছে মৃত্যু। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিবেদনে জানা গেছে, প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে অতিরিক্ত কাজের চাপে।

এ সংক্রান্ত প্রথম বৈশ্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৬ সালে দীর্ঘসময় কাজ করার ফলে স্ট্রোক ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭ লাখ ৪৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

জাপানে প্রচলিত একটি শব্দ রয়েছে ‘কারোশি’ নামে। যার মানে অতিরিক্ত কাজ করতে করতে মৃত্যু। দেশটিতে সরকারিভাবেই কারোশিতে আক্রান্ত হয়ে ২০১৭ সালে ২৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে জাপান সরকার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় বলা হয়, দীর্ঘসময় কাজ করার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানুষ।

গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে ৩৫ থেকে ৪০ ঘণ্টা কাজ করেন এমন ব্যক্তিদের তুলনায় যারা সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করেন তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩৫ শতাংশ বেড়ে যায় এবং হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৭ শতাংশ বেশি থাকে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সঙ্গে যৌথভাবে করা এ গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দীর্ঘসময় কাজের কারণে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই মধ্যবয়সী বা বয়স্ক পুরুষ। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘসময় কাজ করার অনেক বছর পর, কখনো কখনো দশক পর, এই মৃত্যুগুলো ঘটে।

করোনা মহামারির পর বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত কাজ করার প্রবণতা অনেক বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টেকনিক্যাল অফিসার ফ্র্যাঙ্ক পেগা বলেন, আমাদের কাছে কিছু প্রমাণ আছে যে, যখন কোনো দেশে লকডাউন হয়, তখন কাজের সময় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে যায়।

দীর্ঘসময় কাজ করা মোট কাজ-সংক্রান্ত রোগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী। অর্থাৎ বলা যায়, দীর্ঘসময় কাজের অভ্যাস বাড়িয়ে দেয় পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি।

গবেষকরা বলেছেন, দীর্ঘসময় কাজ করলে দুইভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়– প্রথমত, অতিরিক্ত চাপ থেকে শরীর ও মনে সরাসরি প্রভাব পড়ে। মানসিক চাপ বৃদ্ধির কারণে দেখা দেয় অবসাদ। শরীরেও ব্যথা হয় এমনকি কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ল্যানসেট জার্নালে উঠে এসেছে, এতে হার্টের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ সংক্রামক রোগ, ডায়াবেটিস ও পেশীর সমস্যাও দেখা দেয়।

দ্বিতীয়ত, বেশি সময় কাজ করলে মানুষ ধূমপান, মদ পান, কম ঘুম, কম ব্যায়াম এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার মতো ক্ষতিকর অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ে।

ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রাহাত হোসেন বলেন, আগের চাকরিতে দীর্ঘসময় কাজ তার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলেছিল। সপ্তাহে ৬০ থেকে ৬৫ ঘণ্টা কাজ করাটা ছিল স্বাভাবিক। অনেক সময় টানা কয়েক সপ্তাহ বাড়ির বাইরে থাকতে হতো।

 

pressure_3

তিনি বলেন, ‘কাজের এতে স্ট্রেস নিতে নিতে আমি ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছিলাম। সবসময় মেজাজ খিটখিটে থাকতে। কাজ শেষে শরীর-মন সব ভেঙে পড়তে।’ চার বছর পর তিনি সেই চাকরি ছেড়ে দেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, কর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে নিয়োগদাতাদের এখন এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। ফ্র্যাঙ্ক পেগার মতে, কাজের সময় সীমিত করা নিয়োগদাতাদের জন্যও ভালো, কারণ এতে উৎপাদনশীলতা বাড়ে।

তিনি মনে করেন ‘অর্থনৈতিক সংকটের সময় কাজের ঘণ্টা বাড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ নয়।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দীর্ঘসময় কাজ করার ফলে স্ট্রোক ও হৃদরোগ ঝুকি অত্যন্ত্য বেশী

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

বেশিরভাগ অফিসে কর্মঘণ্টা আট ঘণ্টা নির্ধারিত থাকলেও তা কেবল খাতা-কলমেই। অনেকেই এর চেয়েও বেশি সময় ধরে কাজ করেন। অতিরিক্ত সময় ধরে কাজ করা কারো কারো দৈনন্দিন রুটিন হয়ে দাঁড়ায়। আর এই দীর্ঘসময় কাজের অভ্যাসই ডাকছে মৃত্যু। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিবেদনে জানা গেছে, প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে অতিরিক্ত কাজের চাপে।

এ সংক্রান্ত প্রথম বৈশ্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৬ সালে দীর্ঘসময় কাজ করার ফলে স্ট্রোক ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭ লাখ ৪৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

জাপানে প্রচলিত একটি শব্দ রয়েছে ‘কারোশি’ নামে। যার মানে অতিরিক্ত কাজ করতে করতে মৃত্যু। দেশটিতে সরকারিভাবেই কারোশিতে আক্রান্ত হয়ে ২০১৭ সালে ২৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে জাপান সরকার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় বলা হয়, দীর্ঘসময় কাজ করার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানুষ।

গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে ৩৫ থেকে ৪০ ঘণ্টা কাজ করেন এমন ব্যক্তিদের তুলনায় যারা সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করেন তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩৫ শতাংশ বেড়ে যায় এবং হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৭ শতাংশ বেশি থাকে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সঙ্গে যৌথভাবে করা এ গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দীর্ঘসময় কাজের কারণে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই মধ্যবয়সী বা বয়স্ক পুরুষ। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘসময় কাজ করার অনেক বছর পর, কখনো কখনো দশক পর, এই মৃত্যুগুলো ঘটে।

করোনা মহামারির পর বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত কাজ করার প্রবণতা অনেক বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টেকনিক্যাল অফিসার ফ্র্যাঙ্ক পেগা বলেন, আমাদের কাছে কিছু প্রমাণ আছে যে, যখন কোনো দেশে লকডাউন হয়, তখন কাজের সময় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে যায়।

দীর্ঘসময় কাজ করা মোট কাজ-সংক্রান্ত রোগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী। অর্থাৎ বলা যায়, দীর্ঘসময় কাজের অভ্যাস বাড়িয়ে দেয় পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি।

গবেষকরা বলেছেন, দীর্ঘসময় কাজ করলে দুইভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়– প্রথমত, অতিরিক্ত চাপ থেকে শরীর ও মনে সরাসরি প্রভাব পড়ে। মানসিক চাপ বৃদ্ধির কারণে দেখা দেয় অবসাদ। শরীরেও ব্যথা হয় এমনকি কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ল্যানসেট জার্নালে উঠে এসেছে, এতে হার্টের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ সংক্রামক রোগ, ডায়াবেটিস ও পেশীর সমস্যাও দেখা দেয়।

দ্বিতীয়ত, বেশি সময় কাজ করলে মানুষ ধূমপান, মদ পান, কম ঘুম, কম ব্যায়াম এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার মতো ক্ষতিকর অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ে।

ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রাহাত হোসেন বলেন, আগের চাকরিতে দীর্ঘসময় কাজ তার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলেছিল। সপ্তাহে ৬০ থেকে ৬৫ ঘণ্টা কাজ করাটা ছিল স্বাভাবিক। অনেক সময় টানা কয়েক সপ্তাহ বাড়ির বাইরে থাকতে হতো।

 

pressure_3

তিনি বলেন, ‘কাজের এতে স্ট্রেস নিতে নিতে আমি ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছিলাম। সবসময় মেজাজ খিটখিটে থাকতে। কাজ শেষে শরীর-মন সব ভেঙে পড়তে।’ চার বছর পর তিনি সেই চাকরি ছেড়ে দেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, কর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে নিয়োগদাতাদের এখন এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। ফ্র্যাঙ্ক পেগার মতে, কাজের সময় সীমিত করা নিয়োগদাতাদের জন্যও ভালো, কারণ এতে উৎপাদনশীলতা বাড়ে।

তিনি মনে করেন ‘অর্থনৈতিক সংকটের সময় কাজের ঘণ্টা বাড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ নয়।’