ঢাকা ১২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

হরমুজ প্রণালি নিয়ে এক নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছে ইরান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 119
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাঝেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে এক নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তেহরান এখন এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে ‘ট্রানজিট ফি’ বা টোল আদায়ের দাবি তুলছে। ইরানের এই ১০-দফা শান্তি প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো—প্রণালির ওপর তাদের ডি-ফ্যাক্টো (কার্যত) নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজ থেকে মাশুল আদায় করা।

 

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান তাদের এই দাবি আদায়ের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আর্থিক ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে:

 

ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পেমেন্ট: ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরান শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে এই টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে।

মাশুলের হার: রয়টার্সের তথ্যমতে, প্রাথমিকভাবে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার করে টোল দাবি করা হচ্ছে। জাহাজের ধরন, মালামালের পরিমাণ এবং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই ফি কম-বেশি হতে পারে।

 

লাইসেন্স ও পারমিট: ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, তাঁরা ওমানের সঙ্গে মিলে একটি প্রোটোকল তৈরি করছেন যেখানে প্রতিটি জাহাজকে প্রণালি পার হওয়ার জন্য বিশেষ লাইসেন্স নিতে হবে। তবে ওমান সরকার এই প্রস্তাবে সায় না দিয়ে জানিয়েছে, তাদের এমন কোনো পরিকল্পনা নেই।

আন্তর্জাতিক আইন বনাম ইরানের দাবি

 

ইরানের এই দাবি আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের (ইউএনসিএলওএস) মৌলিক নীতির পরিপন্থী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ জাতিসংঘ কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র প্রাকৃতিকভাবে তৈরি আন্তর্জাতিক প্রণালিতে কেবল প্রবেশের অনুমতির জন্য কোনো মাশুল আদায় করতে পারে না। তবে পাইলটিং, টাগবোট বা বন্দর পরিষেবার মতো সুনির্দিষ্ট সেবার জন্য ফি নেওয়া যেতে পারে।

 

তবে সুয়েজ বা পানামা খাল কৃত্রিমভাবে খনন করা বলে সেখানে টোল নেওয়া বৈধ। কিন্তু মালাক্কা প্রণালির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী সিঙ্গাপুর প্রণালি বা হরমুজের মতো প্রাকৃতিক পথে টোল আদায়ের কোনো নজির আধুনিক ইতিহাসে নেই। তুরস্কের বসফরাস প্রণালিতেও ১৯৩৬ সালের মনট্রিক্স কনভেনশন অনুযায়ী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য টোল-মুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই দাবিকে ‘অসম্মানজনক’ ও ‘জবরদস্তি’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘তেলবাহী জাহাজ প্রবাহিত হবেই, ইরান থাকুক বা না থাকুক।’ মুক্ত নৌ-চলাচল নিশ্চিত না করলে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

 

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও ইরানের এই পদক্ষেপে দারুণভাবে উদ্বিগ্ন। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে কোনো নির্দিষ্ট দেশ ‘জিম্মি’ করে রাখতে পারে না। কাতারও জানিয়েছে, যে কোনো আর্থিক ব্যবস্থার আলোচনা জলপথ পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার পর হওয়া উচিত।

 

এদিকে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি চীন এই সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা ইরানের অন্যতম মিত্র এবং এই রুট দিয়ে জ্বালানি আমদানিতে শীর্ষ দেশ। ফলে চীনের ওপর ইরানের এই দাবি বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

 

কেন ইরানকে থামানো কঠিন?

 

বিশ্লেষকেরা বলছেন, দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে লক্ষ্য করে বিধ্বংসী হামলা চালালেও তাকে নতিস্বীকার করানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

 

ভৌগোলিক সুবিধা: ৩৪ কিলোমিটার চওড়া এই প্রণালির উত্তর তীর জুড়ে রয়েছে ইরানের খাড়া পাহাড় ও সামরিক অবস্থান। এখান থেকে খুব সহজেই যে কোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব।

 

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকি: সামরিক উপায়ে এই পথ উন্মুক্ত রাখতে গেলে পাহাড় ঘেরা এই উপকূলে একটি বিশাল ও দীর্ঘমেয়াদি স্থলযুদ্ধের প্রয়োজন হবে, যা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

 

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ইতিমধ্যে অন্তত একটি জাহাজ ২ মিলিয়ন ডলার টোল দিয়ে প্রণালি পার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে (যদিও তা যাচাই করা যায়নি)। শেষ পর্যন্ত ইরান যদি এই দাবিতে সফল হয়, তবে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তের কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ, রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ কৃষি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান, এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় সীমান্ত এলাকার ৮০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি জাতের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো অধিক উচ্চতার ফসলের পরিবর্তে ধানসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে এক নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছে ইরান

আপডেট সময় : ১০:৫৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাঝেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে এক নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তেহরান এখন এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে ‘ট্রানজিট ফি’ বা টোল আদায়ের দাবি তুলছে। ইরানের এই ১০-দফা শান্তি প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো—প্রণালির ওপর তাদের ডি-ফ্যাক্টো (কার্যত) নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজ থেকে মাশুল আদায় করা।

 

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান তাদের এই দাবি আদায়ের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আর্থিক ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে:

 

ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পেমেন্ট: ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরান শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে এই টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে।

মাশুলের হার: রয়টার্সের তথ্যমতে, প্রাথমিকভাবে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার করে টোল দাবি করা হচ্ছে। জাহাজের ধরন, মালামালের পরিমাণ এবং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই ফি কম-বেশি হতে পারে।

 

লাইসেন্স ও পারমিট: ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, তাঁরা ওমানের সঙ্গে মিলে একটি প্রোটোকল তৈরি করছেন যেখানে প্রতিটি জাহাজকে প্রণালি পার হওয়ার জন্য বিশেষ লাইসেন্স নিতে হবে। তবে ওমান সরকার এই প্রস্তাবে সায় না দিয়ে জানিয়েছে, তাদের এমন কোনো পরিকল্পনা নেই।

আন্তর্জাতিক আইন বনাম ইরানের দাবি

 

ইরানের এই দাবি আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের (ইউএনসিএলওএস) মৌলিক নীতির পরিপন্থী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ জাতিসংঘ কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র প্রাকৃতিকভাবে তৈরি আন্তর্জাতিক প্রণালিতে কেবল প্রবেশের অনুমতির জন্য কোনো মাশুল আদায় করতে পারে না। তবে পাইলটিং, টাগবোট বা বন্দর পরিষেবার মতো সুনির্দিষ্ট সেবার জন্য ফি নেওয়া যেতে পারে।

 

তবে সুয়েজ বা পানামা খাল কৃত্রিমভাবে খনন করা বলে সেখানে টোল নেওয়া বৈধ। কিন্তু মালাক্কা প্রণালির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী সিঙ্গাপুর প্রণালি বা হরমুজের মতো প্রাকৃতিক পথে টোল আদায়ের কোনো নজির আধুনিক ইতিহাসে নেই। তুরস্কের বসফরাস প্রণালিতেও ১৯৩৬ সালের মনট্রিক্স কনভেনশন অনুযায়ী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য টোল-মুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই দাবিকে ‘অসম্মানজনক’ ও ‘জবরদস্তি’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘তেলবাহী জাহাজ প্রবাহিত হবেই, ইরান থাকুক বা না থাকুক।’ মুক্ত নৌ-চলাচল নিশ্চিত না করলে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

 

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও ইরানের এই পদক্ষেপে দারুণভাবে উদ্বিগ্ন। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে কোনো নির্দিষ্ট দেশ ‘জিম্মি’ করে রাখতে পারে না। কাতারও জানিয়েছে, যে কোনো আর্থিক ব্যবস্থার আলোচনা জলপথ পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার পর হওয়া উচিত।

 

এদিকে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি চীন এই সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা ইরানের অন্যতম মিত্র এবং এই রুট দিয়ে জ্বালানি আমদানিতে শীর্ষ দেশ। ফলে চীনের ওপর ইরানের এই দাবি বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

 

কেন ইরানকে থামানো কঠিন?

 

বিশ্লেষকেরা বলছেন, দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে লক্ষ্য করে বিধ্বংসী হামলা চালালেও তাকে নতিস্বীকার করানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

 

ভৌগোলিক সুবিধা: ৩৪ কিলোমিটার চওড়া এই প্রণালির উত্তর তীর জুড়ে রয়েছে ইরানের খাড়া পাহাড় ও সামরিক অবস্থান। এখান থেকে খুব সহজেই যে কোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব।

 

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকি: সামরিক উপায়ে এই পথ উন্মুক্ত রাখতে গেলে পাহাড় ঘেরা এই উপকূলে একটি বিশাল ও দীর্ঘমেয়াদি স্থলযুদ্ধের প্রয়োজন হবে, যা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

 

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ইতিমধ্যে অন্তত একটি জাহাজ ২ মিলিয়ন ডলার টোল দিয়ে প্রণালি পার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে (যদিও তা যাচাই করা যায়নি)। শেষ পর্যন্ত ইরান যদি এই দাবিতে সফল হয়, তবে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।