ঢাকা ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

অবৈধ ক্রসিং, অরক্ষিত রেলপথ ও লাইনের পাশে গড়ে ওঠা বাজারে বাড়ছে দুর্ঘটনা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • / 91
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অবৈধ ক্রসিং, অরক্ষিত রেলপথ ও লাইনের পাশে গড়ে ওঠা বাজারে বাড়ছে দুর্ঘটনা

শাকিল আহমেদ  স্টাফ রিপোর্টার

শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত গাজীপুর জেলায় দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে রেলপথকেন্দ্রিক দুর্ঘটনা। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রেল ক্রসিং এখন পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে। অধিকাংশ ক্রসিংয়ে নেই গেট, গেটম্যান, সিগন্যাল কিংবা কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যারিয়ার। ফলে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে, বাড়ছে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনাও।
বিশেষ করে জয়দেবপুর, টঙ্গী, শ্রীপুর, কালিয়াকৈর ও বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলসংলগ্ন এলাকায় অসংখ্য অরক্ষিত রেল ক্রসিং রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে সাধারণ মানুষের। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত এসব রেলপথে যানবাহন ও পথচারীদের চাপ থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রায় নেই বললেই চলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অনেক স্থানে স্থানীয়ভাবে বা প্রভাবশালীদের উদ্যোগে অনুমতি ছাড়াই অবৈধ রেল ক্রসিং তৈরি করা হয়েছে। এসব ক্রসিংয়ে ট্রেন আসার পূর্ব সতর্কতা, গেট বন্ধ কিংবা সংকেত প্রদানের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
এদিকে রেললাইনের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ বাজার, দোকানপাট ও ভাসমান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কোথাও সবজি বাজার, কোথাও মাছ-মাংসের দোকান, আবার কোথাও অস্থায়ী হকারদের দখলে রেলপথের আশপাশ। এতে করে রেললাইনের পাশে সবসময় মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। অনেকেই অসাবধানতাবশত লাইনের ওপর দিয়ে চলাচল করেন, শিশু-কিশোররা খেলাধুলাও করে রেললাইনের পাশে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, ট্রেনের হুইসেল বা সিগন্যাল অনেক সময় বাজারের কোলাহলে শোনা যায় না। এতে পথচারী ও ব্যবসায়ীরা হঠাৎ ট্রেনের সামনে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। এছাড়া ব্যস্ত সময়গুলোতে যানজটের কারণে অনেক যানবাহন রেললাইনের ওপর আটকে পড়ে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রেল দুর্ঘটনার পেছনে মানবসৃষ্ট ভুল, যান্ত্রিক ত্রুটি, দুর্বল সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত গতিতে ট্রেন চলাচলকেও দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেক সময় চালক ও পথচারীদের অসচেতনতা, তাড়াহুড়ো করে রেললাইন পার হওয়ার প্রবণতা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের অভাব ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।
জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মাহমুদুল হাসান বলেন, অনুমতি ছাড়া নির্মিত রেল ক্রসিংগুলো নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন। এসব স্থানে ট্রেন চলাচলের সময় কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা পূর্ব সতর্কতা না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, সচেতনতার অভাব এবং নিয়ম অমান্যের প্রবণতার কারণেও ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে।
এদিকে সচেতন মহল বলছে, শুধু দুর্ঘটনার পর তদন্ত বা দায়সারা বক্তব্য দিলেই হবে না, প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান। ঝুঁকিপূর্ণ রেল ক্রসিংগুলোতে দ্রুত গেট স্থাপন, গেটম্যান নিয়োগ, আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু এবং অবৈধ ক্রসিং বন্ধে কার্যকর অভিযান পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি রেললাইনের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ বাজার উচ্ছেদ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তের কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ, রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ কৃষি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান, এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় সীমান্ত এলাকার ৮০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি জাতের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো অধিক উচ্চতার ফসলের পরিবর্তে ধানসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অবৈধ ক্রসিং, অরক্ষিত রেলপথ ও লাইনের পাশে গড়ে ওঠা বাজারে বাড়ছে দুর্ঘটনা

আপডেট সময় : ০৩:৪৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

অবৈধ ক্রসিং, অরক্ষিত রেলপথ ও লাইনের পাশে গড়ে ওঠা বাজারে বাড়ছে দুর্ঘটনা

শাকিল আহমেদ  স্টাফ রিপোর্টার

শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত গাজীপুর জেলায় দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে রেলপথকেন্দ্রিক দুর্ঘটনা। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রেল ক্রসিং এখন পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে। অধিকাংশ ক্রসিংয়ে নেই গেট, গেটম্যান, সিগন্যাল কিংবা কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যারিয়ার। ফলে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে, বাড়ছে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনাও।
বিশেষ করে জয়দেবপুর, টঙ্গী, শ্রীপুর, কালিয়াকৈর ও বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলসংলগ্ন এলাকায় অসংখ্য অরক্ষিত রেল ক্রসিং রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে সাধারণ মানুষের। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত এসব রেলপথে যানবাহন ও পথচারীদের চাপ থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রায় নেই বললেই চলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অনেক স্থানে স্থানীয়ভাবে বা প্রভাবশালীদের উদ্যোগে অনুমতি ছাড়াই অবৈধ রেল ক্রসিং তৈরি করা হয়েছে। এসব ক্রসিংয়ে ট্রেন আসার পূর্ব সতর্কতা, গেট বন্ধ কিংবা সংকেত প্রদানের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
এদিকে রেললাইনের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ বাজার, দোকানপাট ও ভাসমান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কোথাও সবজি বাজার, কোথাও মাছ-মাংসের দোকান, আবার কোথাও অস্থায়ী হকারদের দখলে রেলপথের আশপাশ। এতে করে রেললাইনের পাশে সবসময় মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। অনেকেই অসাবধানতাবশত লাইনের ওপর দিয়ে চলাচল করেন, শিশু-কিশোররা খেলাধুলাও করে রেললাইনের পাশে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, ট্রেনের হুইসেল বা সিগন্যাল অনেক সময় বাজারের কোলাহলে শোনা যায় না। এতে পথচারী ও ব্যবসায়ীরা হঠাৎ ট্রেনের সামনে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। এছাড়া ব্যস্ত সময়গুলোতে যানজটের কারণে অনেক যানবাহন রেললাইনের ওপর আটকে পড়ে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রেল দুর্ঘটনার পেছনে মানবসৃষ্ট ভুল, যান্ত্রিক ত্রুটি, দুর্বল সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত গতিতে ট্রেন চলাচলকেও দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেক সময় চালক ও পথচারীদের অসচেতনতা, তাড়াহুড়ো করে রেললাইন পার হওয়ার প্রবণতা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের অভাব ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।
জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মাহমুদুল হাসান বলেন, অনুমতি ছাড়া নির্মিত রেল ক্রসিংগুলো নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন। এসব স্থানে ট্রেন চলাচলের সময় কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা পূর্ব সতর্কতা না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, সচেতনতার অভাব এবং নিয়ম অমান্যের প্রবণতার কারণেও ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে।
এদিকে সচেতন মহল বলছে, শুধু দুর্ঘটনার পর তদন্ত বা দায়সারা বক্তব্য দিলেই হবে না, প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান। ঝুঁকিপূর্ণ রেল ক্রসিংগুলোতে দ্রুত গেট স্থাপন, গেটম্যান নিয়োগ, আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু এবং অবৈধ ক্রসিং বন্ধে কার্যকর অভিযান পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি রেললাইনের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ বাজার উচ্ছেদ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।