ঢাকা ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা, খুলেছে ২০৪ আশ্রয়কেন্দ্র Logo এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলায় খুলনায় প্রতিবাদ মিছিল Logo হরিপুরে সরকারি সহায়তা পেলেন রোগী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও প্রতিবন্ধীরা Logo প্রত্যয় সংগঠনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন পিএবিএম-এর উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া Logo বিএডিসিতে গণবদলি নিয়ে তোলপাড়: চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা Logo মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে কাজী নজরুলকে প্রধান দিশারি হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo স্টেডফাস্ট কুরিয়ার কার্যালয় পরিদর্শনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, শান্তিপূর্ণ সমাধানে আইনানুগ নির্দেশনা Logo সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাকোপে কে.সি. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠিত Logo জৈব সারের নামে বর্জ্য বিতরণ, বদলি করা হয়েছে কামারখন্দের সেই কৃষি কর্মকর্তাকে Logo সুপারভাইজার বলেছিল ‘তুই মরলেও ছুটি নাই’

পেছনের দরজায় গিয়ে ‘হ্যালো কোনো বার্গার কি বেঁচে গেছে ? বলা সেই ছোট্ট রোনালদো

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • / 73
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১৯৯৭ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে রোনালদো নিজের শহর মেইদেইরা ছেড়ে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে আসেন স্পোর্টিং সিপির একাডেমিতে যোগ দিতে।

 

একাডেমি থেকে খেলোয়াড়দের থাকার জায়গা দেওয়া হলেও তখন স্পোর্টিং লিসবনের আর্থিক অবস্থা আজকের মতো ছিলো না।

তরুণ ফুটবলারদের পুষ্টির জন্য পর্যাপ্ত খাবার বা সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার মতো বাজেট একাডেমির ছিলো না।

 

একবার এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেছিলেন,

“আমরা তখন বাচ্চা, বয়স ১১ বা ১২। আমাদের কোনো টাকা ছিলো না। আমরা লিসবনের একই ব্যারাকে থাকতাম। প্রতি রাতে আমাদের ক্ষুধা পেতো। স্টেডিয়ামের পাশেই একটা ম্যাকডোনাল্ডস ছিলো, আমরা পেছনের দরজায় গিয়ে নক করে বলতাম, ‘হ্যালো, কোনো বার্গার কি বেঁচে গেছে ?'”

তিনি আরও যোগ করেন, “সেখানে এডনা নামের একজন নারী এবং আরও দুজন মেয়ে ছিলেন। তারা আমাদের কিছু বার্গার দিতেন। আমি সেই মেয়েগুলোকে আর কখনো খুঁজে পাইনি। আমি পর্তুগালের লোকেদের জিজ্ঞেস করেছি, সেই ম্যাকডোনাল্ডস বন্ধ হয়ে গেছে।

কিন্তু এই সাক্ষাৎকারের উসিলায় যদি তাদের খোঁজ পাওয়া যায়, আমি খুব খুশি হবো। আমি তাদের তুরিন বা লিসবনে আমার বাসায় নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানাতে চাই। আমি তাদের সেই ঋণ শোধ করতে চাই।”

সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হওয়ার পরপরই বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। পর্তুগালের সংবাদমাধ্যমগুলো সেই নারীদের খুঁজতে মরিয়া হয়ে ওঠে। অবশেষে সেই তিন নারীর মধ্যে দুজনের খোঁজ পাওয়া যায়।

পর্তুগালের একটি রেডিও স্টেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পলা ক্রুস নামের এক নারী নিশ্চিত করেন যে, তিনি সেই সময় ম্যাকডোনাল্ডসে কাজ করতেন।

 

পলা বলেন, “ওরা (রোনালদো ও তার বন্ধুরা) প্রায় প্রতি রাতেই দোকানের সামনে আসতো। যখন অনেকগুলো বার্গার বেঁচে যেতো, আমাদের ম্যানেজার আমাদের সেগুলো দেওয়ার অনুমতি দিতেন। সেই ছেলেদের মধ্যে একজন ছিলো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, যে ছিলো সবচেয়ে লাজুক।”

 

রোনালদো যার নাম বিশেষভাবে মনে রেখেছিলেন, সেই এডনাকেও খুঁজে পাওয়া যায়। তিনিও রোনালদোর এই কৃতজ্ঞতাবোধ দেখে অত্যন্ত আপ্লুত হয়েছিলেন।

রোনালদো শুধু মুখে বলেই থেমে থাকেননি। খোঁজ পাওয়ার পর তিনি এডনা এবং পলাকে ধন্যবাদ জানান।

 

পলা ক্রুস এক সাক্ষাৎকারে মজা করে বলেছিলেন, “আমার ছেলে তো বিশ্বাসই করতে পারছিলো না যে তার মা একসময় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে বার্গার খাওয়াতো!”

 

রোনালদো তাদের লিসবনে তার ব্যক্তিগত রেস্তোরাঁয় এবং জুভেন্টাসের ম্যাচে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।

 

জীবনের চরম সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেও, শত কোটি টাকার মালিক হয়েও, ১২ বছর বয়সের সেই ক্ষুধার্ত দিনগুলোতে সামান্য ৩-৪টি ফ্রি বার্গার খাওয়ানো নারীদের কথা ভুলে না যাওয়াটাই প্রমাণ করে কেন তিনি মাঠ এবং মাঠের বাইরে এত বড় মাপের একজন মানুষ।

 

রোনালদোর এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে, জীবনের সফলতার আকাশে যতই উঁচুতে আমরা উড়ি না কেন, মাটির শিকড় আর কঠিন সময়ে বাড়িয়ে দেওয়া সাহায্যের হাতগুলোকে কখনো ভুলে যেতে নেই। একটি ছোট মানবিক কাজও একজনের জীবনে কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, এটি তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পেছনের দরজায় গিয়ে ‘হ্যালো কোনো বার্গার কি বেঁচে গেছে ? বলা সেই ছোট্ট রোনালদো

আপডেট সময় : ০৭:০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

১৯৯৭ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে রোনালদো নিজের শহর মেইদেইরা ছেড়ে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে আসেন স্পোর্টিং সিপির একাডেমিতে যোগ দিতে।

 

একাডেমি থেকে খেলোয়াড়দের থাকার জায়গা দেওয়া হলেও তখন স্পোর্টিং লিসবনের আর্থিক অবস্থা আজকের মতো ছিলো না।

তরুণ ফুটবলারদের পুষ্টির জন্য পর্যাপ্ত খাবার বা সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার মতো বাজেট একাডেমির ছিলো না।

 

একবার এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেছিলেন,

“আমরা তখন বাচ্চা, বয়স ১১ বা ১২। আমাদের কোনো টাকা ছিলো না। আমরা লিসবনের একই ব্যারাকে থাকতাম। প্রতি রাতে আমাদের ক্ষুধা পেতো। স্টেডিয়ামের পাশেই একটা ম্যাকডোনাল্ডস ছিলো, আমরা পেছনের দরজায় গিয়ে নক করে বলতাম, ‘হ্যালো, কোনো বার্গার কি বেঁচে গেছে ?'”

তিনি আরও যোগ করেন, “সেখানে এডনা নামের একজন নারী এবং আরও দুজন মেয়ে ছিলেন। তারা আমাদের কিছু বার্গার দিতেন। আমি সেই মেয়েগুলোকে আর কখনো খুঁজে পাইনি। আমি পর্তুগালের লোকেদের জিজ্ঞেস করেছি, সেই ম্যাকডোনাল্ডস বন্ধ হয়ে গেছে।

কিন্তু এই সাক্ষাৎকারের উসিলায় যদি তাদের খোঁজ পাওয়া যায়, আমি খুব খুশি হবো। আমি তাদের তুরিন বা লিসবনে আমার বাসায় নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানাতে চাই। আমি তাদের সেই ঋণ শোধ করতে চাই।”

সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হওয়ার পরপরই বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। পর্তুগালের সংবাদমাধ্যমগুলো সেই নারীদের খুঁজতে মরিয়া হয়ে ওঠে। অবশেষে সেই তিন নারীর মধ্যে দুজনের খোঁজ পাওয়া যায়।

পর্তুগালের একটি রেডিও স্টেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পলা ক্রুস নামের এক নারী নিশ্চিত করেন যে, তিনি সেই সময় ম্যাকডোনাল্ডসে কাজ করতেন।

 

পলা বলেন, “ওরা (রোনালদো ও তার বন্ধুরা) প্রায় প্রতি রাতেই দোকানের সামনে আসতো। যখন অনেকগুলো বার্গার বেঁচে যেতো, আমাদের ম্যানেজার আমাদের সেগুলো দেওয়ার অনুমতি দিতেন। সেই ছেলেদের মধ্যে একজন ছিলো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, যে ছিলো সবচেয়ে লাজুক।”

 

রোনালদো যার নাম বিশেষভাবে মনে রেখেছিলেন, সেই এডনাকেও খুঁজে পাওয়া যায়। তিনিও রোনালদোর এই কৃতজ্ঞতাবোধ দেখে অত্যন্ত আপ্লুত হয়েছিলেন।

রোনালদো শুধু মুখে বলেই থেমে থাকেননি। খোঁজ পাওয়ার পর তিনি এডনা এবং পলাকে ধন্যবাদ জানান।

 

পলা ক্রুস এক সাক্ষাৎকারে মজা করে বলেছিলেন, “আমার ছেলে তো বিশ্বাসই করতে পারছিলো না যে তার মা একসময় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে বার্গার খাওয়াতো!”

 

রোনালদো তাদের লিসবনে তার ব্যক্তিগত রেস্তোরাঁয় এবং জুভেন্টাসের ম্যাচে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।

 

জীবনের চরম সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেও, শত কোটি টাকার মালিক হয়েও, ১২ বছর বয়সের সেই ক্ষুধার্ত দিনগুলোতে সামান্য ৩-৪টি ফ্রি বার্গার খাওয়ানো নারীদের কথা ভুলে না যাওয়াটাই প্রমাণ করে কেন তিনি মাঠ এবং মাঠের বাইরে এত বড় মাপের একজন মানুষ।

 

রোনালদোর এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে, জীবনের সফলতার আকাশে যতই উঁচুতে আমরা উড়ি না কেন, মাটির শিকড় আর কঠিন সময়ে বাড়িয়ে দেওয়া সাহায্যের হাতগুলোকে কখনো ভুলে যেতে নেই। একটি ছোট মানবিক কাজও একজনের জীবনে কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, এটি তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।