পেছনের দরজায় গিয়ে ‘হ্যালো কোনো বার্গার কি বেঁচে গেছে ? বলা সেই ছোট্ট রোনালদো
- আপডেট সময় : ০৭:০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
- / 73
১৯৯৭ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে রোনালদো নিজের শহর মেইদেইরা ছেড়ে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে আসেন স্পোর্টিং সিপির একাডেমিতে যোগ দিতে।
একাডেমি থেকে খেলোয়াড়দের থাকার জায়গা দেওয়া হলেও তখন স্পোর্টিং লিসবনের আর্থিক অবস্থা আজকের মতো ছিলো না।
তরুণ ফুটবলারদের পুষ্টির জন্য পর্যাপ্ত খাবার বা সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার মতো বাজেট একাডেমির ছিলো না।
একবার এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেছিলেন,
“আমরা তখন বাচ্চা, বয়স ১১ বা ১২। আমাদের কোনো টাকা ছিলো না। আমরা লিসবনের একই ব্যারাকে থাকতাম। প্রতি রাতে আমাদের ক্ষুধা পেতো। স্টেডিয়ামের পাশেই একটা ম্যাকডোনাল্ডস ছিলো, আমরা পেছনের দরজায় গিয়ে নক করে বলতাম, ‘হ্যালো, কোনো বার্গার কি বেঁচে গেছে ?'”
তিনি আরও যোগ করেন, “সেখানে এডনা নামের একজন নারী এবং আরও দুজন মেয়ে ছিলেন। তারা আমাদের কিছু বার্গার দিতেন। আমি সেই মেয়েগুলোকে আর কখনো খুঁজে পাইনি। আমি পর্তুগালের লোকেদের জিজ্ঞেস করেছি, সেই ম্যাকডোনাল্ডস বন্ধ হয়ে গেছে।
কিন্তু এই সাক্ষাৎকারের উসিলায় যদি তাদের খোঁজ পাওয়া যায়, আমি খুব খুশি হবো। আমি তাদের তুরিন বা লিসবনে আমার বাসায় নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানাতে চাই। আমি তাদের সেই ঋণ শোধ করতে চাই।”
সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হওয়ার পরপরই বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। পর্তুগালের সংবাদমাধ্যমগুলো সেই নারীদের খুঁজতে মরিয়া হয়ে ওঠে। অবশেষে সেই তিন নারীর মধ্যে দুজনের খোঁজ পাওয়া যায়।
পর্তুগালের একটি রেডিও স্টেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পলা ক্রুস নামের এক নারী নিশ্চিত করেন যে, তিনি সেই সময় ম্যাকডোনাল্ডসে কাজ করতেন।
পলা বলেন, “ওরা (রোনালদো ও তার বন্ধুরা) প্রায় প্রতি রাতেই দোকানের সামনে আসতো। যখন অনেকগুলো বার্গার বেঁচে যেতো, আমাদের ম্যানেজার আমাদের সেগুলো দেওয়ার অনুমতি দিতেন। সেই ছেলেদের মধ্যে একজন ছিলো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, যে ছিলো সবচেয়ে লাজুক।”
রোনালদো যার নাম বিশেষভাবে মনে রেখেছিলেন, সেই এডনাকেও খুঁজে পাওয়া যায়। তিনিও রোনালদোর এই কৃতজ্ঞতাবোধ দেখে অত্যন্ত আপ্লুত হয়েছিলেন।
রোনালদো শুধু মুখে বলেই থেমে থাকেননি। খোঁজ পাওয়ার পর তিনি এডনা এবং পলাকে ধন্যবাদ জানান।
পলা ক্রুস এক সাক্ষাৎকারে মজা করে বলেছিলেন, “আমার ছেলে তো বিশ্বাসই করতে পারছিলো না যে তার মা একসময় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে বার্গার খাওয়াতো!”
রোনালদো তাদের লিসবনে তার ব্যক্তিগত রেস্তোরাঁয় এবং জুভেন্টাসের ম্যাচে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।
জীবনের চরম সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেও, শত কোটি টাকার মালিক হয়েও, ১২ বছর বয়সের সেই ক্ষুধার্ত দিনগুলোতে সামান্য ৩-৪টি ফ্রি বার্গার খাওয়ানো নারীদের কথা ভুলে না যাওয়াটাই প্রমাণ করে কেন তিনি মাঠ এবং মাঠের বাইরে এত বড় মাপের একজন মানুষ।
রোনালদোর এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে, জীবনের সফলতার আকাশে যতই উঁচুতে আমরা উড়ি না কেন, মাটির শিকড় আর কঠিন সময়ে বাড়িয়ে দেওয়া সাহায্যের হাতগুলোকে কখনো ভুলে যেতে নেই। একটি ছোট মানবিক কাজও একজনের জীবনে কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, এটি তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

































