ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

দৈনন্দিন জীবনে সংযম ও ধৈর্যের বাস্তব আমল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 162
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা, বিরক্তি ও টেনশনের মুখোমুখি হতে হয় আমাদের। এসব বিরক্তির সূচনা হয় একেবারে বাসা-বাড়ি থেকে বের হতেই। ধরুন সকালে বের হয়ে ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়লেন, কেউ ৫ মিনিটের কথা বলে ৩০ মিনিট অপেক্ষায় রাখলো, অফিসে হঠাৎসহকর্মী খারাপ ব্যবহার করে বসলো, বাড়িতে ছোটখাটো বিষয়ে ঝগড়া হলো, দোকানে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হলো দীর্ঘ সময়, একটু পর পর ইন্টারনেট স্লো হলো। খালি চোখে এসব সামান্য বিষয় মনে হলেও এর মাধ্যমে আমাদের ধৈর্য ও ধৈর্যের পরীক্ষা চলে। 

এই ছোট অসুবিধাগুলোতে  অস্থির হয়ে রেগে গেলে বড় বিপদে ধৈর্যধারণ কঠিন হয়ে পড়ে। ইসলাম এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকেই ধৈর্য ও সংযমের সর্বোত্তম অনুশীলনের সুযোগ হিসেবে দেখে।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের সাহায্য গ্রহণ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫৩)

এই আয়াতের ব্যাপকতা আমাদের শিক্ষা দেয়, বড় ধরনের বিপদাপদ ছাড়াও  দৈনন্দিন ছোটখাটো বিপদ ও অসুবিধায় ধৈর্যধারণ করতে হয়। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে থাকেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.)  বলেন, ‘যে মুমিন মানুষের সাথে মিশে এবং তাদের বিরক্তি সহ্য করে, তার প্রতিদান তার চেয়ে বেশি যে মানুষের সাথে মিশে না এবং তাদের বিরক্তি সহ্য করে না।’ (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪০৩২)

এই হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, দৈনন্দিন জীবনে মানুষের খারাপ ব্যবহার, অসুবিধা বা বিরক্তি সহ্য করাই সবচেয়ে বড় প্রতিদানের কারণ।

আরও একটি মূল্যবান হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলিমের ওপর কোনো ক্লান্তি, রোগ, দুশ্চিন্তা, দুঃখ, কষ্ট, মানসিক অস্থিরতা এমনকি কাঁটার আঁচড়ও লাগে না, কিন্তু আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেন তার ধৈর্যের কারণে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৪১)

এখানে ‘কাঁটার আঁচড়’-এর কথা বলা হয়েছে। যা সবচেয়ে ছোট কষ্ট বা অসুবিধা, তাও গুনাহ মাফের কারণ হয়ে যদি ধৈর্য ধারণ করা হয়। এতে আমাদের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, দৈনন্দিন সামান্য ঝামেলাগুলোই আসলে আল্লাহর কাছে বড় মর্যাদা ও প্রতিদানের সুযোগ তৈরি করে।

দৈনন্দিন সমস্যায় নবীজির (সা.) ধৈর্যধারণ

আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামিল নবীজির (সা.) পথে আবর্জনা ফেলে দিতেন তাকে বিরক্ত করার জন্য। নবীজি (সা.) কখনো রাগ করেননি, অভিযোগ করেননি বা প্রতিশোধ নেননি। (তাফসীরে তাবারী, সুরা লাহাব)

দৈনন্দিন জীবনে সংযম ও ধৈর্যের বাস্তব আমল  

সামান্য অসুবিধায় ধৈর্যের জন্য ব্যবহারিক পদ্ধতি শিখিয়েছে ইসলাম। যেমন —

  • রাগের সময় চুপ থাকা। নবীজি (সা.) বলেন, ‘রাগ হলে চুপ করে থাকো।’ ( মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৪৭৮৬)
  • ‘আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ পড়া।
  • অজু করে নেওয়া, কারণ রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে এবং শয়তান আগুন থেকে সৃষ্ট।

ছোটখাটো অসুবিধায় ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ বলে আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়া। এসব আমল দৈনন্দিন জীবনকে শান্তিময় করে তোলে এবং আল্লাহর নৈকট্য বাড়ায়।

দৈনন্দিন ছোট ছোট সমস্যায় ধৈর্যের ফল

আমরা যখন ট্রাফিক জ্যামে ধৈর্য ধরি, কারো খারাপ কথায় সংযম রাখি, অপেক্ষায় অস্থিরতা প্রকাশ না করি, তখন আল্লাহ আমাদের গুনাহ মাফ করেন, প্রতিদান দেন এবং হৃদয়কে প্রশান্তি করেন। এটি আমাদের চরিত্রকে মজবুত করে, সম্পর্ককে সুন্দর করে এবং জীবনকে সহজ করে।

ব্যস্ততা ও উত্তেজনাপূর্ণ ছোট ছোট অসুবিধা আমাদের ঈমানের প্রকৃত পরীক্ষা। ইসলাম আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, সত্যিকারের ধৈর্য ও সংযম এই ছোট মুহূর্তগুলোতেই প্রকাশ পায়। যদি আমরা এতে অটল থাকি, আল্লাহ আমাদের সাথে থাকবেন এবং প্রতিদান অপরিসীম হবে।

নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের সাথে আল্লাহ আছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তের কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ, রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ কৃষি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান, এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় সীমান্ত এলাকার ৮০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি জাতের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো অধিক উচ্চতার ফসলের পরিবর্তে ধানসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দৈনন্দিন জীবনে সংযম ও ধৈর্যের বাস্তব আমল

আপডেট সময় : ০৭:১৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা, বিরক্তি ও টেনশনের মুখোমুখি হতে হয় আমাদের। এসব বিরক্তির সূচনা হয় একেবারে বাসা-বাড়ি থেকে বের হতেই। ধরুন সকালে বের হয়ে ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়লেন, কেউ ৫ মিনিটের কথা বলে ৩০ মিনিট অপেক্ষায় রাখলো, অফিসে হঠাৎসহকর্মী খারাপ ব্যবহার করে বসলো, বাড়িতে ছোটখাটো বিষয়ে ঝগড়া হলো, দোকানে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হলো দীর্ঘ সময়, একটু পর পর ইন্টারনেট স্লো হলো। খালি চোখে এসব সামান্য বিষয় মনে হলেও এর মাধ্যমে আমাদের ধৈর্য ও ধৈর্যের পরীক্ষা চলে। 

এই ছোট অসুবিধাগুলোতে  অস্থির হয়ে রেগে গেলে বড় বিপদে ধৈর্যধারণ কঠিন হয়ে পড়ে। ইসলাম এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকেই ধৈর্য ও সংযমের সর্বোত্তম অনুশীলনের সুযোগ হিসেবে দেখে।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের সাহায্য গ্রহণ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫৩)

এই আয়াতের ব্যাপকতা আমাদের শিক্ষা দেয়, বড় ধরনের বিপদাপদ ছাড়াও  দৈনন্দিন ছোটখাটো বিপদ ও অসুবিধায় ধৈর্যধারণ করতে হয়। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে থাকেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.)  বলেন, ‘যে মুমিন মানুষের সাথে মিশে এবং তাদের বিরক্তি সহ্য করে, তার প্রতিদান তার চেয়ে বেশি যে মানুষের সাথে মিশে না এবং তাদের বিরক্তি সহ্য করে না।’ (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪০৩২)

এই হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, দৈনন্দিন জীবনে মানুষের খারাপ ব্যবহার, অসুবিধা বা বিরক্তি সহ্য করাই সবচেয়ে বড় প্রতিদানের কারণ।

আরও একটি মূল্যবান হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলিমের ওপর কোনো ক্লান্তি, রোগ, দুশ্চিন্তা, দুঃখ, কষ্ট, মানসিক অস্থিরতা এমনকি কাঁটার আঁচড়ও লাগে না, কিন্তু আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেন তার ধৈর্যের কারণে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৪১)

এখানে ‘কাঁটার আঁচড়’-এর কথা বলা হয়েছে। যা সবচেয়ে ছোট কষ্ট বা অসুবিধা, তাও গুনাহ মাফের কারণ হয়ে যদি ধৈর্য ধারণ করা হয়। এতে আমাদের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, দৈনন্দিন সামান্য ঝামেলাগুলোই আসলে আল্লাহর কাছে বড় মর্যাদা ও প্রতিদানের সুযোগ তৈরি করে।

দৈনন্দিন সমস্যায় নবীজির (সা.) ধৈর্যধারণ

আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামিল নবীজির (সা.) পথে আবর্জনা ফেলে দিতেন তাকে বিরক্ত করার জন্য। নবীজি (সা.) কখনো রাগ করেননি, অভিযোগ করেননি বা প্রতিশোধ নেননি। (তাফসীরে তাবারী, সুরা লাহাব)

দৈনন্দিন জীবনে সংযম ও ধৈর্যের বাস্তব আমল  

সামান্য অসুবিধায় ধৈর্যের জন্য ব্যবহারিক পদ্ধতি শিখিয়েছে ইসলাম। যেমন —

  • রাগের সময় চুপ থাকা। নবীজি (সা.) বলেন, ‘রাগ হলে চুপ করে থাকো।’ ( মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৪৭৮৬)
  • ‘আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ পড়া।
  • অজু করে নেওয়া, কারণ রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে এবং শয়তান আগুন থেকে সৃষ্ট।

ছোটখাটো অসুবিধায় ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ বলে আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়া। এসব আমল দৈনন্দিন জীবনকে শান্তিময় করে তোলে এবং আল্লাহর নৈকট্য বাড়ায়।

দৈনন্দিন ছোট ছোট সমস্যায় ধৈর্যের ফল

আমরা যখন ট্রাফিক জ্যামে ধৈর্য ধরি, কারো খারাপ কথায় সংযম রাখি, অপেক্ষায় অস্থিরতা প্রকাশ না করি, তখন আল্লাহ আমাদের গুনাহ মাফ করেন, প্রতিদান দেন এবং হৃদয়কে প্রশান্তি করেন। এটি আমাদের চরিত্রকে মজবুত করে, সম্পর্ককে সুন্দর করে এবং জীবনকে সহজ করে।

ব্যস্ততা ও উত্তেজনাপূর্ণ ছোট ছোট অসুবিধা আমাদের ঈমানের প্রকৃত পরীক্ষা। ইসলাম আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, সত্যিকারের ধৈর্য ও সংযম এই ছোট মুহূর্তগুলোতেই প্রকাশ পায়। যদি আমরা এতে অটল থাকি, আল্লাহ আমাদের সাথে থাকবেন এবং প্রতিদান অপরিসীম হবে।

নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের সাথে আল্লাহ আছেন।