ঢাকা ০৭:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

প্রতিকূলতা একদিন হার মানবেই: মাকসুদা সাত্তার অদিতি।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৮:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • / 88

মাকসুদা সাত্তার অদিতি।

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—নারী শুধু একটি পরিচয় নয়; নারী সাহস, ধৈর্য ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক জীবন্ত প্রতীক। সমাজের তৈরি দেয়াল, পারিবারিক দায়িত্ব আর হাজারো প্রতিকূলতার মাঝেও নারীরা বারবার প্রমাণ করেছেন যে, প্রবল ইচ্ছা থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। একজন নারীর সংগ্রাম কেবল তার ব্যক্তিগত জয়ের গল্প নয়, বরং তা হাজারো নারীর এগিয়ে যাওয়ার পথের মশাল।

আমার জীবনপথও ছিল স্বপ্ন আর বাস্তবতার এক নিরন্তর লড়াই। যশোরের বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে ২০০৯ সালে শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ার পর, ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজ থেকে ২০১৩ সালে স্নাতক এবং ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সম্পন্ন করি। উচ্চশিক্ষার এই যাত্রা আমার স্বপ্নের অংশ ছিল ঠিকই, কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে দায়িত্বের বোঝা এসে পড়েছিল খুব অল্প বয়সেই।

অল্প বয়সে বিয়ে এবং খুব দ্রুত মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়া এই দুই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে আমার জীবন আমূল বদলে যায়। একদিকে সংসার সামলানো, অন্যদিকে সন্তানের লালন-পালন; এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে নিজের অস্তিত্ব বা স্বপ্নকে টিকিয়ে রাখা ছিল এক কঠিন পরীক্ষা। তবে মনের কোণে একটি বিশ্বাস সবসময় অটুট ছিল লক্ষ্য যদি স্থির থাকে, তবে প্রতিকূলতা একদিন হার মানবেই।

পড়াশোনা শেষ করার পর শুরু হয় পেশাজীবনে প্রবেশের দীর্ঘ সংগ্রাম। চাকরির বাজার আর জীবনের বাস্তবতার মাঝে বারবার হোঁচট খেয়েছি। অনেক ব্যর্থতা এসেছে, অনেক দরজা বন্ধ হয়ে গেছে মুখের ওপর। মাঝে মাঝে হতাশায় ডুবেছি, কিন্তু থেমে থাকিনি। প্রতিটি ব্যর্থতা আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে হয়।

দীর্ঘ প্রতীক্ষা, ধৈর্য আর নিরলস প্রচেষ্টার ফল হিসেবে অবশেষে আমি একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরির সুযোগ পাই। বর্তমানে আমি সেখানে অফিসার হিসেবে কর্মরত আছি। আজকের এই অবস্থান হয়তো অনেকের কাছে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু এর পেছনে রয়েছে অসংখ্য নির্ঘুম রাত, ত্যাগ আর লড়াইয়ের এক অদৃশ্য মহাকাব্য।

আমার এই যাত্রা হয়তো কোটি নারীর সাধারণ গল্পের মতোই একটি, কিন্তু এর গভীরে লুকানো সত্যটি চিরন্তন—‘একজন নারী যদি নিজের ইচ্ছাশক্তিকে শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে, তবে পৃথিবীর কোনো বাধাই তাকে অবরুদ্ধ করতে পারবে না।’

নারী দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়; এটি আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার এবং নতুন করে স্বপ্ন দেখার দিন। প্রতিটি নারী যদি নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখে, তবে সে কেবল নিজের জীবনই বদলাবে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ তথা গোটা জাতির আলোকবর্তিকা হয়ে উঠবে। নারীর প্রকৃত শক্তি নিহিত তার ধৈর্যের গভীরতায় এবং হার না মানা মানসিকতায়। সেই শক্তিই তাকে প্রতিটি অন্ধকার পেরিয়ে নতুন এক সম্ভাবনাময় ভোরের দিকে নিয়ে যায়।

লেখক- ব্যাংকার

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তের কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ, রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ কৃষি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান, এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় সীমান্ত এলাকার ৮০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি জাতের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো অধিক উচ্চতার ফসলের পরিবর্তে ধানসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিকূলতা একদিন হার মানবেই: মাকসুদা সাত্তার অদিতি।

আপডেট সময় : ০৯:৪৮:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—নারী শুধু একটি পরিচয় নয়; নারী সাহস, ধৈর্য ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক জীবন্ত প্রতীক। সমাজের তৈরি দেয়াল, পারিবারিক দায়িত্ব আর হাজারো প্রতিকূলতার মাঝেও নারীরা বারবার প্রমাণ করেছেন যে, প্রবল ইচ্ছা থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। একজন নারীর সংগ্রাম কেবল তার ব্যক্তিগত জয়ের গল্প নয়, বরং তা হাজারো নারীর এগিয়ে যাওয়ার পথের মশাল।

আমার জীবনপথও ছিল স্বপ্ন আর বাস্তবতার এক নিরন্তর লড়াই। যশোরের বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে ২০০৯ সালে শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ার পর, ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজ থেকে ২০১৩ সালে স্নাতক এবং ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সম্পন্ন করি। উচ্চশিক্ষার এই যাত্রা আমার স্বপ্নের অংশ ছিল ঠিকই, কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে দায়িত্বের বোঝা এসে পড়েছিল খুব অল্প বয়সেই।

অল্প বয়সে বিয়ে এবং খুব দ্রুত মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়া এই দুই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে আমার জীবন আমূল বদলে যায়। একদিকে সংসার সামলানো, অন্যদিকে সন্তানের লালন-পালন; এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে নিজের অস্তিত্ব বা স্বপ্নকে টিকিয়ে রাখা ছিল এক কঠিন পরীক্ষা। তবে মনের কোণে একটি বিশ্বাস সবসময় অটুট ছিল লক্ষ্য যদি স্থির থাকে, তবে প্রতিকূলতা একদিন হার মানবেই।

পড়াশোনা শেষ করার পর শুরু হয় পেশাজীবনে প্রবেশের দীর্ঘ সংগ্রাম। চাকরির বাজার আর জীবনের বাস্তবতার মাঝে বারবার হোঁচট খেয়েছি। অনেক ব্যর্থতা এসেছে, অনেক দরজা বন্ধ হয়ে গেছে মুখের ওপর। মাঝে মাঝে হতাশায় ডুবেছি, কিন্তু থেমে থাকিনি। প্রতিটি ব্যর্থতা আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে হয়।

দীর্ঘ প্রতীক্ষা, ধৈর্য আর নিরলস প্রচেষ্টার ফল হিসেবে অবশেষে আমি একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরির সুযোগ পাই। বর্তমানে আমি সেখানে অফিসার হিসেবে কর্মরত আছি। আজকের এই অবস্থান হয়তো অনেকের কাছে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু এর পেছনে রয়েছে অসংখ্য নির্ঘুম রাত, ত্যাগ আর লড়াইয়ের এক অদৃশ্য মহাকাব্য।

আমার এই যাত্রা হয়তো কোটি নারীর সাধারণ গল্পের মতোই একটি, কিন্তু এর গভীরে লুকানো সত্যটি চিরন্তন—‘একজন নারী যদি নিজের ইচ্ছাশক্তিকে শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে, তবে পৃথিবীর কোনো বাধাই তাকে অবরুদ্ধ করতে পারবে না।’

নারী দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়; এটি আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার এবং নতুন করে স্বপ্ন দেখার দিন। প্রতিটি নারী যদি নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখে, তবে সে কেবল নিজের জীবনই বদলাবে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ তথা গোটা জাতির আলোকবর্তিকা হয়ে উঠবে। নারীর প্রকৃত শক্তি নিহিত তার ধৈর্যের গভীরতায় এবং হার না মানা মানসিকতায়। সেই শক্তিই তাকে প্রতিটি অন্ধকার পেরিয়ে নতুন এক সম্ভাবনাময় ভোরের দিকে নিয়ে যায়।

লেখক- ব্যাংকার