ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস Logo দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা, নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ Logo প্রত্যেক উপজেলায় সংসদ সদস্যদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ বরাদ্দ   Logo হরমুজ এড়িয়ে সৌদি থেকে তেল নিয়ে চট্টগ্রাম আসছে জাহাজ Logo জ্বালানি সাশ্রয়ে বুধ-বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারকাজ চলবে ভার্চুয়ালি Logo এনসিপিতে যোগদানের হিড়িক Logo ৫ দফা দাবী সহ শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের মানববন্ধন কর্মসূচি

প্রতিকূলতা একদিন হার মানবেই: মাকসুদা সাত্তার অদিতি।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৮:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • / 66

মাকসুদা সাত্তার অদিতি।

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—নারী শুধু একটি পরিচয় নয়; নারী সাহস, ধৈর্য ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক জীবন্ত প্রতীক। সমাজের তৈরি দেয়াল, পারিবারিক দায়িত্ব আর হাজারো প্রতিকূলতার মাঝেও নারীরা বারবার প্রমাণ করেছেন যে, প্রবল ইচ্ছা থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। একজন নারীর সংগ্রাম কেবল তার ব্যক্তিগত জয়ের গল্প নয়, বরং তা হাজারো নারীর এগিয়ে যাওয়ার পথের মশাল।

আমার জীবনপথও ছিল স্বপ্ন আর বাস্তবতার এক নিরন্তর লড়াই। যশোরের বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে ২০০৯ সালে শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ার পর, ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজ থেকে ২০১৩ সালে স্নাতক এবং ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সম্পন্ন করি। উচ্চশিক্ষার এই যাত্রা আমার স্বপ্নের অংশ ছিল ঠিকই, কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে দায়িত্বের বোঝা এসে পড়েছিল খুব অল্প বয়সেই।

অল্প বয়সে বিয়ে এবং খুব দ্রুত মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়া এই দুই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে আমার জীবন আমূল বদলে যায়। একদিকে সংসার সামলানো, অন্যদিকে সন্তানের লালন-পালন; এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে নিজের অস্তিত্ব বা স্বপ্নকে টিকিয়ে রাখা ছিল এক কঠিন পরীক্ষা। তবে মনের কোণে একটি বিশ্বাস সবসময় অটুট ছিল লক্ষ্য যদি স্থির থাকে, তবে প্রতিকূলতা একদিন হার মানবেই।

পড়াশোনা শেষ করার পর শুরু হয় পেশাজীবনে প্রবেশের দীর্ঘ সংগ্রাম। চাকরির বাজার আর জীবনের বাস্তবতার মাঝে বারবার হোঁচট খেয়েছি। অনেক ব্যর্থতা এসেছে, অনেক দরজা বন্ধ হয়ে গেছে মুখের ওপর। মাঝে মাঝে হতাশায় ডুবেছি, কিন্তু থেমে থাকিনি। প্রতিটি ব্যর্থতা আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে হয়।

দীর্ঘ প্রতীক্ষা, ধৈর্য আর নিরলস প্রচেষ্টার ফল হিসেবে অবশেষে আমি একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরির সুযোগ পাই। বর্তমানে আমি সেখানে অফিসার হিসেবে কর্মরত আছি। আজকের এই অবস্থান হয়তো অনেকের কাছে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু এর পেছনে রয়েছে অসংখ্য নির্ঘুম রাত, ত্যাগ আর লড়াইয়ের এক অদৃশ্য মহাকাব্য।

আমার এই যাত্রা হয়তো কোটি নারীর সাধারণ গল্পের মতোই একটি, কিন্তু এর গভীরে লুকানো সত্যটি চিরন্তন—‘একজন নারী যদি নিজের ইচ্ছাশক্তিকে শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে, তবে পৃথিবীর কোনো বাধাই তাকে অবরুদ্ধ করতে পারবে না।’

নারী দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়; এটি আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার এবং নতুন করে স্বপ্ন দেখার দিন। প্রতিটি নারী যদি নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখে, তবে সে কেবল নিজের জীবনই বদলাবে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ তথা গোটা জাতির আলোকবর্তিকা হয়ে উঠবে। নারীর প্রকৃত শক্তি নিহিত তার ধৈর্যের গভীরতায় এবং হার না মানা মানসিকতায়। সেই শক্তিই তাকে প্রতিটি অন্ধকার পেরিয়ে নতুন এক সম্ভাবনাময় ভোরের দিকে নিয়ে যায়।

লেখক- ব্যাংকার

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রতিকূলতা একদিন হার মানবেই: মাকসুদা সাত্তার অদিতি।

আপডেট সময় : ০৯:৪৮:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—নারী শুধু একটি পরিচয় নয়; নারী সাহস, ধৈর্য ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক জীবন্ত প্রতীক। সমাজের তৈরি দেয়াল, পারিবারিক দায়িত্ব আর হাজারো প্রতিকূলতার মাঝেও নারীরা বারবার প্রমাণ করেছেন যে, প্রবল ইচ্ছা থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। একজন নারীর সংগ্রাম কেবল তার ব্যক্তিগত জয়ের গল্প নয়, বরং তা হাজারো নারীর এগিয়ে যাওয়ার পথের মশাল।

আমার জীবনপথও ছিল স্বপ্ন আর বাস্তবতার এক নিরন্তর লড়াই। যশোরের বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে ২০০৯ সালে শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ার পর, ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজ থেকে ২০১৩ সালে স্নাতক এবং ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সম্পন্ন করি। উচ্চশিক্ষার এই যাত্রা আমার স্বপ্নের অংশ ছিল ঠিকই, কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে দায়িত্বের বোঝা এসে পড়েছিল খুব অল্প বয়সেই।

অল্প বয়সে বিয়ে এবং খুব দ্রুত মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়া এই দুই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে আমার জীবন আমূল বদলে যায়। একদিকে সংসার সামলানো, অন্যদিকে সন্তানের লালন-পালন; এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে নিজের অস্তিত্ব বা স্বপ্নকে টিকিয়ে রাখা ছিল এক কঠিন পরীক্ষা। তবে মনের কোণে একটি বিশ্বাস সবসময় অটুট ছিল লক্ষ্য যদি স্থির থাকে, তবে প্রতিকূলতা একদিন হার মানবেই।

পড়াশোনা শেষ করার পর শুরু হয় পেশাজীবনে প্রবেশের দীর্ঘ সংগ্রাম। চাকরির বাজার আর জীবনের বাস্তবতার মাঝে বারবার হোঁচট খেয়েছি। অনেক ব্যর্থতা এসেছে, অনেক দরজা বন্ধ হয়ে গেছে মুখের ওপর। মাঝে মাঝে হতাশায় ডুবেছি, কিন্তু থেমে থাকিনি। প্রতিটি ব্যর্থতা আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে হয়।

দীর্ঘ প্রতীক্ষা, ধৈর্য আর নিরলস প্রচেষ্টার ফল হিসেবে অবশেষে আমি একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরির সুযোগ পাই। বর্তমানে আমি সেখানে অফিসার হিসেবে কর্মরত আছি। আজকের এই অবস্থান হয়তো অনেকের কাছে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু এর পেছনে রয়েছে অসংখ্য নির্ঘুম রাত, ত্যাগ আর লড়াইয়ের এক অদৃশ্য মহাকাব্য।

আমার এই যাত্রা হয়তো কোটি নারীর সাধারণ গল্পের মতোই একটি, কিন্তু এর গভীরে লুকানো সত্যটি চিরন্তন—‘একজন নারী যদি নিজের ইচ্ছাশক্তিকে শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে, তবে পৃথিবীর কোনো বাধাই তাকে অবরুদ্ধ করতে পারবে না।’

নারী দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়; এটি আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার এবং নতুন করে স্বপ্ন দেখার দিন। প্রতিটি নারী যদি নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখে, তবে সে কেবল নিজের জীবনই বদলাবে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ তথা গোটা জাতির আলোকবর্তিকা হয়ে উঠবে। নারীর প্রকৃত শক্তি নিহিত তার ধৈর্যের গভীরতায় এবং হার না মানা মানসিকতায়। সেই শক্তিই তাকে প্রতিটি অন্ধকার পেরিয়ে নতুন এক সম্ভাবনাময় ভোরের দিকে নিয়ে যায়।

লেখক- ব্যাংকার