ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

কেউ কবরের পাশে দাঁড়ালে মৃত ব্যক্তি কি টের পান?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / 283
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৃত্যু জীবনের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী। জন্ম নিলে একদিন মারা যেতে হবে। মায়াঘেরা দুনিয়ার রূপ-রঙ ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমাতে হবে- যেখানে কেউ কারও বন্ধু হবে না, হবে না শত্রুও। নিজের দায়িত্ব নিজেই নিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে রাব্বুল আলামিন আল কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং তোমরা নিজ নিজ কাজের প্রতিফল সম্পূর্ণভাবেই কিয়ামতের দিন পাবে।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৮৫, সুরা আনকাবুত : ৫৭)

সুরা নাহলে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অতঃপর নির্ধারিত সময়ে যখন তাদের মৃত্যু এসে যাবে, তখন এক মুহূর্তও বিলম্বিত কিংবা ত্বরান্বিত করতে পারবে না।’ (আয়াত : ৬১)সুরা আবাসাতে রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘সেদিন মানুষ নিজের ভাই, নিজের মা, নিজের পিতা, নিজের স্ত্রী ও সন্তানাদি থেকে পালাবে। তাদের মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর সেদিন এমন সময় এসে পড়বে, সে নিজেকে ছাড়া আর কারও প্রতি লক্ষ করার মতো অবস্থায় থাকবে না।’ (আয়াত : ৩৪-৩৭) মৃত্যু নিশ্চিত’ এ কথা সব ধর্মের মানুষই বিশ্বাস করেন। আর কোনো মুসলমান মারা গেলে অপর মুসলমানের ওপর মৃতের গোসল, কাফন, জানাজা ও দাফন করা আবশ্যক হয়ে যায়। আবার দাফন-কাফন সম্পন্ন করার পর তার কবর জিয়ারত করাও সুন্নত।

হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, এখন থেকে কবর জিয়ারত কর। কারণ তা দুনিয়াবিমুখতা এনে দেয় এবং আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৫৭১)

এ প্রেক্ষাপটে অনেকেই জানতে চান, ‘কবর জিয়ারত করলে বা সালাম দিলে মৃত ব্যক্তি কি টের পান?’ চলুন, জেনে নিই শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশেষজ্ঞ আলেমদরে মতামত—

ওলামায়ে কেরামের ভাষ্য

প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক আলোচনায় বলেন, ইমাম ইবনে আব্দুল বার (রাহি.), ইবনুল কায়ুমসহ (রাহি.) অধিকাংশ সালাফদের মতে, আমরা যখন কোনো মৃত ব্যক্তির কবরের পাশে দাঁড়াই, সালাম পেশ করি, জেয়ারত করি— তখন তারা সেটা টের পান।

কারণ, তাদের ধ্বংসাবশেষ মাটির সঙ্গে মিশে গেলেও আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বারযাখি জীবনে (মৃত্যুর পর থেকে হাশরের ময়দানের আগ মুহূর্ত) তাদের এক প্রকারের রুহ দান করেন, যার মাধ্যমে তারা বিশেষ কিছু জিনিস অনুভব করার ক্ষমতা লাভ করেন।

এই বিশেষ জিনিসগুলোর মধ্য থেকে একটি হলো জিয়ারত। অর্থাৎ, কেউ যখন মৃত ব্যক্তির কবর জিয়ারতে যান, তখন তারা টের পান। এ ছাড়া জিয়ারতকারী যখন সালাম দেন, মৃত ব্যক্তি সেই সালামের উত্তরও দেন। কিন্তু আমরা সেটা শুনতে পাই না। জাস্ট এটুকুই।

হাদিসের ভাষ্য

রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো মুসলিম ব্যক্তি দুনিয়ায় পরিচিত তার কোনো মৃত ভাইয়ের কবরের পাশ দিয়ে গমন করে এবং তাকে সালাম দেয়, তখন তার সালামের জবাব দেওয়ার জন্য আল্লাহ ওই মৃত ব্যক্তির রুহকে ফেরত দেন।’ (আল-ইসতিজকার : ১/১৮৫)। রাসুল (সা.) কবরবাসীদের জীবিতদের মতো সম্বোধন করে সালাম দিতে বলেছেন। তিনি (সা.) জানিয়েছেন, তোমরা এভাবে সালমা দাও, ‘তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, হে মুমিনদের গৃহে বসবাসকারী।’ (মুসলিম : ২৪৯)

উল্লিখিত হাদিস দ্বারা বোঝা যায় যে, মৃত ব্যক্তি তাকে চিনতে পারেন এবং তার সালামের জবাব দেন। এ ছাড়াও মুসলিম শরিফের অন্য এক হাদিসে বলা হয়েছে, ‘মৃত ব্যক্তির জানাজার পর তার কবরের পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করা সে পছন্দ করে ও ভালোবাসে।’ (হাদিস-১২১)

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তের কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ, রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ কৃষি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান, এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় সীমান্ত এলাকার ৮০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি জাতের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো অধিক উচ্চতার ফসলের পরিবর্তে ধানসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কেউ কবরের পাশে দাঁড়ালে মৃত ব্যক্তি কি টের পান?

আপডেট সময় : ০৭:২১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

মৃত্যু জীবনের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী। জন্ম নিলে একদিন মারা যেতে হবে। মায়াঘেরা দুনিয়ার রূপ-রঙ ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমাতে হবে- যেখানে কেউ কারও বন্ধু হবে না, হবে না শত্রুও। নিজের দায়িত্ব নিজেই নিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে রাব্বুল আলামিন আল কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং তোমরা নিজ নিজ কাজের প্রতিফল সম্পূর্ণভাবেই কিয়ামতের দিন পাবে।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৮৫, সুরা আনকাবুত : ৫৭)

সুরা নাহলে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অতঃপর নির্ধারিত সময়ে যখন তাদের মৃত্যু এসে যাবে, তখন এক মুহূর্তও বিলম্বিত কিংবা ত্বরান্বিত করতে পারবে না।’ (আয়াত : ৬১)সুরা আবাসাতে রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘সেদিন মানুষ নিজের ভাই, নিজের মা, নিজের পিতা, নিজের স্ত্রী ও সন্তানাদি থেকে পালাবে। তাদের মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর সেদিন এমন সময় এসে পড়বে, সে নিজেকে ছাড়া আর কারও প্রতি লক্ষ করার মতো অবস্থায় থাকবে না।’ (আয়াত : ৩৪-৩৭) মৃত্যু নিশ্চিত’ এ কথা সব ধর্মের মানুষই বিশ্বাস করেন। আর কোনো মুসলমান মারা গেলে অপর মুসলমানের ওপর মৃতের গোসল, কাফন, জানাজা ও দাফন করা আবশ্যক হয়ে যায়। আবার দাফন-কাফন সম্পন্ন করার পর তার কবর জিয়ারত করাও সুন্নত।

হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, এখন থেকে কবর জিয়ারত কর। কারণ তা দুনিয়াবিমুখতা এনে দেয় এবং আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৫৭১)

এ প্রেক্ষাপটে অনেকেই জানতে চান, ‘কবর জিয়ারত করলে বা সালাম দিলে মৃত ব্যক্তি কি টের পান?’ চলুন, জেনে নিই শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশেষজ্ঞ আলেমদরে মতামত—

ওলামায়ে কেরামের ভাষ্য

প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক আলোচনায় বলেন, ইমাম ইবনে আব্দুল বার (রাহি.), ইবনুল কায়ুমসহ (রাহি.) অধিকাংশ সালাফদের মতে, আমরা যখন কোনো মৃত ব্যক্তির কবরের পাশে দাঁড়াই, সালাম পেশ করি, জেয়ারত করি— তখন তারা সেটা টের পান।

কারণ, তাদের ধ্বংসাবশেষ মাটির সঙ্গে মিশে গেলেও আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বারযাখি জীবনে (মৃত্যুর পর থেকে হাশরের ময়দানের আগ মুহূর্ত) তাদের এক প্রকারের রুহ দান করেন, যার মাধ্যমে তারা বিশেষ কিছু জিনিস অনুভব করার ক্ষমতা লাভ করেন।

এই বিশেষ জিনিসগুলোর মধ্য থেকে একটি হলো জিয়ারত। অর্থাৎ, কেউ যখন মৃত ব্যক্তির কবর জিয়ারতে যান, তখন তারা টের পান। এ ছাড়া জিয়ারতকারী যখন সালাম দেন, মৃত ব্যক্তি সেই সালামের উত্তরও দেন। কিন্তু আমরা সেটা শুনতে পাই না। জাস্ট এটুকুই।

হাদিসের ভাষ্য

রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো মুসলিম ব্যক্তি দুনিয়ায় পরিচিত তার কোনো মৃত ভাইয়ের কবরের পাশ দিয়ে গমন করে এবং তাকে সালাম দেয়, তখন তার সালামের জবাব দেওয়ার জন্য আল্লাহ ওই মৃত ব্যক্তির রুহকে ফেরত দেন।’ (আল-ইসতিজকার : ১/১৮৫)। রাসুল (সা.) কবরবাসীদের জীবিতদের মতো সম্বোধন করে সালাম দিতে বলেছেন। তিনি (সা.) জানিয়েছেন, তোমরা এভাবে সালমা দাও, ‘তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, হে মুমিনদের গৃহে বসবাসকারী।’ (মুসলিম : ২৪৯)

উল্লিখিত হাদিস দ্বারা বোঝা যায় যে, মৃত ব্যক্তি তাকে চিনতে পারেন এবং তার সালামের জবাব দেন। এ ছাড়াও মুসলিম শরিফের অন্য এক হাদিসে বলা হয়েছে, ‘মৃত ব্যক্তির জানাজার পর তার কবরের পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করা সে পছন্দ করে ও ভালোবাসে।’ (হাদিস-১২১)