ঢাকা ১০:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

কেন সুখের দিনে দোয়া জরুরি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 216

প্রতীকী ছবি

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মানুষের স্বভাব হলো- যখন সে সুখে থাকে, তখন সে রবকে ভুলে যায়। আর যখন বিপদ বা মসিবত আসে, তখন রবের দরজায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে। কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলার কাছে সেই বান্দা অধিক প্রিয়, যে সচ্ছলতা ও সুখের সময়ও তাঁকে সমানভাবে স্মরণ করে। রাসুলুল্লাহ (স.) আমাদের শিখিয়েছেন, যারা সুখের দিনে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর রাখে, বিপদের দিনে আল্লাহ তাদের ডাকে দ্রুত সাড়া দেন।

হাদিসের নির্দেশনা

এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (স.) এক অনন্য মূলনীতি ঘোষণা করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَسْتَجِيبَ اللَّهُ لَهُ عِنْدَ الشَّدَائِدِ وَالْكُرَبِ فَلْيُكْثِرِ الدُّعَاءَ فِي الرَّخَاءِ অর্থ: ‘যে ব্যক্তি এটা পছন্দ করে যে, সংকট ও বিপদের মুহূর্তে আল্লাহ তার দোয়া কবুল করুন, সে যেন সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যের সময় বেশি বেশি দোয়া করে।’ (সুনানে তিরমিজি: ৩৩৮২; মুস্তাদরাকে হাকেম: ১৮০২; হাদিসটি হাসান)

কেন সুখের দিনে দোয়া জরুরি ?

সুখের সময় দোয়া করা হলো- আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আনুগত্যের চূড়ান্ত পরীক্ষা। কারণ, অভাব না থাকলে মানুষ সাধারণত চায় না। কিন্তু অভাব না থাকা সত্ত্বেও যে বান্দা আল্লাহর কাছে হাত পাতে, সে প্রমাণ করে যে, সে তার ‘সম্পদ বা সুস্থতার’ পূজা করে না, বরং সে একমাত্র ‘আল্লাহর’ ইবাদত করে। এই ইখলাস বা একনিষ্ঠতাই বিপদের সময় ঢাল হয়ে দাঁড়ায়।

 

অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন- تَعَرَّفْ إِلَى اللَّهِ فِي الرَّخَاءِ يَعْرِفْكَ فِي الشِّدَّةِ অর্থ:  ‘তুমি স্বচ্ছলতার সময়ে আল্লাহকে চিনে রাখো (স্মরণ করো), তিনি বিপদের সময়ে তোমাকে চিনবেন (সাহায্য করবেন)।’ (মুসনাদে আহমদ: ২৮০৩ (তাখরিজ শুয়াইব আরনাউত); মুস্তাদরাকে হাকেম: ৬৩০৩)

কোরআনের দলিল ও ঐতিহাসিক প্রমাণ

কোরআন মাজিদে সুখের দিনের আমল কীভাবে বিপদের দিনে কাজে আসে, তার দুটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে।

১. ইউনুস (আ.)-এর ঘটনা (ইতিবাচক উদাহরণ)
মাছের পেটে ঘোর বিপদে পড়ার পর ইউনুস (আ.) দোয়া করেছিলেন। আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করেছিলেন। কিন্তু কেন? আল্লাহ নিজেই এর কারণ জানিয়ে বলেন- ‘সে যদি (আগে থেকেই) আল্লাহর তাসবিহ পাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হতো, তবে সে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত মাছের পেটেই থেকে যেত।’ (সুরা সাফফাত: ১৪৩-১৪৪)
অর্থাৎ, সুখের দিনের ইবাদত ও জিকির বিপদের দিনে তাঁর মুক্তির কারণ হয়েছিল।

২. ফেরাউনের ঘটনা (নেতিবাচক উদাহরণ)
ফেরাউন সারাজীবন সুখ ও ক্ষমতায় মত্ত থেকে আল্লাহকে ভুলে ছিল। যখন লোহিত সাগরে ডুবে মরার উপক্রম হলো, তখন সে ঈমান আনার ও দোয়া করার চেষ্টা করল। কিন্তু আল্লাহ তার সেই বিপদের দোয়া প্রত্যাখ্যান করলেন। আল্লাহ বলেন- ‘এখন (ঈমান আনছ)? অথচ এর আগে তো তুমি অবাধ্যতা করেছ এবং তুমি ছিলে ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সুরা ইউনুস: ৯১)

মুমিনের করণীয় কী?

সুখের দিনে দোয়া বলতে শুধু চাওয়া নয়, বরং নিচের আমলগুলো করা বোঝায়-

১. শোকরগুজার হওয়া: সুস্থতা ও সম্পদ থাকলে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা এবং এই নেয়ামত যেন কেড়ে নেওয়া না হয়, সেই দোয়া করা।

২. ইস্তেগফার করা: বিপদ আসার আগেই পাপের জন্য ক্ষমা চাওয়া।

৩. অন্যের জন্য দোয়া করা: নিজের সমস্যা নেই, তাই বিপদগ্রস্ত ভাইদের জন্য দোয়া করা।

আমরা যেন শুধু মৌসুমি ইবাদতকারী না হই। বরং সুখে-দুঃখে সর্বাবস্থায় আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখি। যে বান্দা স্বাচ্ছন্দ্যের সময় আল্লাহকে ডাকে, আল্লাহ তাকে সংকটের সময় একা ছেড়ে দেন না। এটাই আল্লাহর ওয়াদা। আল্লাহ আমাদের সুখের দিনে বেশি বেশি শোকর ও দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তের কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ, রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ কৃষি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান, এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় সীমান্ত এলাকার ৮০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি জাতের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো অধিক উচ্চতার ফসলের পরিবর্তে ধানসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কেন সুখের দিনে দোয়া জরুরি

আপডেট সময় : ০২:৩০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

মানুষের স্বভাব হলো- যখন সে সুখে থাকে, তখন সে রবকে ভুলে যায়। আর যখন বিপদ বা মসিবত আসে, তখন রবের দরজায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে। কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলার কাছে সেই বান্দা অধিক প্রিয়, যে সচ্ছলতা ও সুখের সময়ও তাঁকে সমানভাবে স্মরণ করে। রাসুলুল্লাহ (স.) আমাদের শিখিয়েছেন, যারা সুখের দিনে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর রাখে, বিপদের দিনে আল্লাহ তাদের ডাকে দ্রুত সাড়া দেন।

হাদিসের নির্দেশনা

এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (স.) এক অনন্য মূলনীতি ঘোষণা করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَسْتَجِيبَ اللَّهُ لَهُ عِنْدَ الشَّدَائِدِ وَالْكُرَبِ فَلْيُكْثِرِ الدُّعَاءَ فِي الرَّخَاءِ অর্থ: ‘যে ব্যক্তি এটা পছন্দ করে যে, সংকট ও বিপদের মুহূর্তে আল্লাহ তার দোয়া কবুল করুন, সে যেন সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যের সময় বেশি বেশি দোয়া করে।’ (সুনানে তিরমিজি: ৩৩৮২; মুস্তাদরাকে হাকেম: ১৮০২; হাদিসটি হাসান)

কেন সুখের দিনে দোয়া জরুরি ?

সুখের সময় দোয়া করা হলো- আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আনুগত্যের চূড়ান্ত পরীক্ষা। কারণ, অভাব না থাকলে মানুষ সাধারণত চায় না। কিন্তু অভাব না থাকা সত্ত্বেও যে বান্দা আল্লাহর কাছে হাত পাতে, সে প্রমাণ করে যে, সে তার ‘সম্পদ বা সুস্থতার’ পূজা করে না, বরং সে একমাত্র ‘আল্লাহর’ ইবাদত করে। এই ইখলাস বা একনিষ্ঠতাই বিপদের সময় ঢাল হয়ে দাঁড়ায়।

 

অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন- تَعَرَّفْ إِلَى اللَّهِ فِي الرَّخَاءِ يَعْرِفْكَ فِي الشِّدَّةِ অর্থ:  ‘তুমি স্বচ্ছলতার সময়ে আল্লাহকে চিনে রাখো (স্মরণ করো), তিনি বিপদের সময়ে তোমাকে চিনবেন (সাহায্য করবেন)।’ (মুসনাদে আহমদ: ২৮০৩ (তাখরিজ শুয়াইব আরনাউত); মুস্তাদরাকে হাকেম: ৬৩০৩)

কোরআনের দলিল ও ঐতিহাসিক প্রমাণ

কোরআন মাজিদে সুখের দিনের আমল কীভাবে বিপদের দিনে কাজে আসে, তার দুটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে।

১. ইউনুস (আ.)-এর ঘটনা (ইতিবাচক উদাহরণ)
মাছের পেটে ঘোর বিপদে পড়ার পর ইউনুস (আ.) দোয়া করেছিলেন। আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করেছিলেন। কিন্তু কেন? আল্লাহ নিজেই এর কারণ জানিয়ে বলেন- ‘সে যদি (আগে থেকেই) আল্লাহর তাসবিহ পাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হতো, তবে সে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত মাছের পেটেই থেকে যেত।’ (সুরা সাফফাত: ১৪৩-১৪৪)
অর্থাৎ, সুখের দিনের ইবাদত ও জিকির বিপদের দিনে তাঁর মুক্তির কারণ হয়েছিল।

২. ফেরাউনের ঘটনা (নেতিবাচক উদাহরণ)
ফেরাউন সারাজীবন সুখ ও ক্ষমতায় মত্ত থেকে আল্লাহকে ভুলে ছিল। যখন লোহিত সাগরে ডুবে মরার উপক্রম হলো, তখন সে ঈমান আনার ও দোয়া করার চেষ্টা করল। কিন্তু আল্লাহ তার সেই বিপদের দোয়া প্রত্যাখ্যান করলেন। আল্লাহ বলেন- ‘এখন (ঈমান আনছ)? অথচ এর আগে তো তুমি অবাধ্যতা করেছ এবং তুমি ছিলে ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সুরা ইউনুস: ৯১)

মুমিনের করণীয় কী?

সুখের দিনে দোয়া বলতে শুধু চাওয়া নয়, বরং নিচের আমলগুলো করা বোঝায়-

১. শোকরগুজার হওয়া: সুস্থতা ও সম্পদ থাকলে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা এবং এই নেয়ামত যেন কেড়ে নেওয়া না হয়, সেই দোয়া করা।

২. ইস্তেগফার করা: বিপদ আসার আগেই পাপের জন্য ক্ষমা চাওয়া।

৩. অন্যের জন্য দোয়া করা: নিজের সমস্যা নেই, তাই বিপদগ্রস্ত ভাইদের জন্য দোয়া করা।

আমরা যেন শুধু মৌসুমি ইবাদতকারী না হই। বরং সুখে-দুঃখে সর্বাবস্থায় আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখি। যে বান্দা স্বাচ্ছন্দ্যের সময় আল্লাহকে ডাকে, আল্লাহ তাকে সংকটের সময় একা ছেড়ে দেন না। এটাই আল্লাহর ওয়াদা। আল্লাহ আমাদের সুখের দিনে বেশি বেশি শোকর ও দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।