ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

শেষ দশক কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০২:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • / 171
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রহমত ও মাগফিরাতের বসন্ত পেরিয়ে পবিত্র মাহে রমজান প্রবেশ করেছে শেষ দশকে। ইসলামি পরিভাষায় রমজানের এই শেষ দশ দিনকে বলা হয় ‘নাজাতের দশক’। ‘নাজাত’ অর্থ মুক্তি। অর্থাৎ, এই দশ দিনে আল্লাহ তায়ালা তাঁর অসংখ্য বান্দাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করে নেন।

একজন মুমিনের জন্য রমজানের প্রথম ২০ দিনের চেয়েও শেষ ১০ দিন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই দশকেই লুকিয়ে আছে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রজনী ‘লাইলাতুল কদর’। তাই নবী কারিম (সা.) এই দশকে ইবাদতের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতেন।

শেষ দশক কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

রমজানের শেষ দশক হলো ইবাদতের চূড়ান্ত সময়। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যখন রমজানের শেষ দশক আসত, নবী কারিম (সা.) তাঁর লুঙ্গি শক্ত করে বাঁধতেন (অর্থাৎ ইবাদতের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিতেন), রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং তাঁর পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন।” (সহিহ বুখারি: ২০২৪)

এই হাদিস থেকেই বোঝা যায়, শেষ দশকে রাসুল (সা.) দুনিয়াবি সব ব্যস্ততা কমিয়ে পুরোপুরি আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন হতেন। এই দশকে এমন একটি রাত রয়েছে, যে রাতের ইবাদত হাজার বছরের ইবাদতের চেয়েও উত্তম।

কোরআন ও হাদিসের আলোকে শেষ দশকের বিশেষ আমলসমূহ

নাজাতের এই দশ দিনে নিজেকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করতে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট আমল রয়েছে:

১. ইতিকাফ করা:

শেষ দশকের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সুন্নাত আমল হলো ইতিকাফ। দুনিয়ার সব কোলাহল থেকে মুক্ত হয়ে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় মসজিদে অবস্থান করাকে
ইতিকাফ বলে।

 

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, “রাসুলুল্লাহ (সা.) ইন্তেকাল অবধি রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করেছেন। তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর স্ত্রীগণও ইতিকাফ করেছেন।” (সহিহ বুখারি: ২০২৬)

২. লাইলাতুল কদর অন্বেষণ:

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।” (সুরা কদর, আয়াত: ৩)।

রমজানের শেষ দশকের যেকোনো বেজোড় রাতে এই মহিমান্বিত রজনী লুকিয়ে আছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, “তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে শবে কদর তালাশ করো।” (সহিহ বুখারি: ২০১৭)। ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯তম রাতে বিশেষ ইবাদতের মাধ্যমে কদর তালাশ করতে হবে।

৩. কদরের বিশেষ দোয়া পড়া

লাইলাতুল কদর পেলে কী দোয়া পড়তে হবে, তা রাসুল (সা.) শিখিয়ে দিয়েছেন। হজরত আয়েশা (রা.) রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি জানতে পারি যে আজ লাইলাতুল কদর, তাহলে আমি কী দোয়া পড়ব? তিনি বললেন, তুমি পড়বে—

“আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউয়ুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।”

(অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। কাজেই আমাকে ক্ষমা করে দিন।) —(সুনানে তিরমিজি: ৩৫১৩)

৪. কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ আদায়

শেষ দশকে রাতে না ঘুমিয়ে বেশি বেশি নফল নামাজ, বিশেষ করে তাহাজ্জুদ আদায় করা উচিত। রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদতে দাঁড়াবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।” (সহিহ বুখারি: ১৯০১)

৫. বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির

রমজান হলো কোরআন নাজিলের মাস। তাই শেষ দশকে কোরআন তিলাওয়াত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। পাশাপাশি চলতে-ফিরতে, উঠতে-বসতে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং বেশি বেশি ইস্তেগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করতে হবে। জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য “আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার” (হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন)—এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়া উচিত।

৬. দান-সদকা ও ফিতরা আদায়

রমজান মাসে যেকোনো নেক আমলের সওয়াব ৭০ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তাই শেষ দশকে বেশি বেশি দান-সদকা করা উচিত। কদরের রাতে দান করলে তা হাজার মাস বা ৮৩ বছর দান করার সওয়াব এনে দেবে। এছাড়া ঈদুল ফিতরের নামাজের আগেই গরিব-দুঃখীদের হক ‘সদকাতুল ফিতর’ আদায় করে দেওয়া এই দশকের অন্যতম করণীয়।

রমজানের প্রথম ২০ দিন যদি কোনো কারণে অবহেলায় চলেও যায়, তবু শেষ ১০ দিন হতে পারে ঘুরে দাঁড়ানোর মোক্ষম সুযোগ। দৌড় প্রতিযোগিতায় শেষ মুহূর্তে যেমন প্রতিযোগীরা সর্বশক্তি প্রয়োগ করে, মুমিনের জন্যও শেষ দশক হলো জান্নাত লাভের সেই চূড়ান্ত দৌড়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে রমজানের শেষ দশকে বেশি বেশি ইবাদত করার এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত পাওয়ার তওফিক দান করুন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তের কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ, রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ কৃষি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান, এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় সীমান্ত এলাকার ৮০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি জাতের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো অধিক উচ্চতার ফসলের পরিবর্তে ধানসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শেষ দশক কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ?

আপডেট সময় : ১২:০২:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

রহমত ও মাগফিরাতের বসন্ত পেরিয়ে পবিত্র মাহে রমজান প্রবেশ করেছে শেষ দশকে। ইসলামি পরিভাষায় রমজানের এই শেষ দশ দিনকে বলা হয় ‘নাজাতের দশক’। ‘নাজাত’ অর্থ মুক্তি। অর্থাৎ, এই দশ দিনে আল্লাহ তায়ালা তাঁর অসংখ্য বান্দাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করে নেন।

একজন মুমিনের জন্য রমজানের প্রথম ২০ দিনের চেয়েও শেষ ১০ দিন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই দশকেই লুকিয়ে আছে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রজনী ‘লাইলাতুল কদর’। তাই নবী কারিম (সা.) এই দশকে ইবাদতের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতেন।

শেষ দশক কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

রমজানের শেষ দশক হলো ইবাদতের চূড়ান্ত সময়। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যখন রমজানের শেষ দশক আসত, নবী কারিম (সা.) তাঁর লুঙ্গি শক্ত করে বাঁধতেন (অর্থাৎ ইবাদতের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিতেন), রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং তাঁর পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন।” (সহিহ বুখারি: ২০২৪)

এই হাদিস থেকেই বোঝা যায়, শেষ দশকে রাসুল (সা.) দুনিয়াবি সব ব্যস্ততা কমিয়ে পুরোপুরি আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন হতেন। এই দশকে এমন একটি রাত রয়েছে, যে রাতের ইবাদত হাজার বছরের ইবাদতের চেয়েও উত্তম।

কোরআন ও হাদিসের আলোকে শেষ দশকের বিশেষ আমলসমূহ

নাজাতের এই দশ দিনে নিজেকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করতে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট আমল রয়েছে:

১. ইতিকাফ করা:

শেষ দশকের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সুন্নাত আমল হলো ইতিকাফ। দুনিয়ার সব কোলাহল থেকে মুক্ত হয়ে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় মসজিদে অবস্থান করাকে
ইতিকাফ বলে।

 

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, “রাসুলুল্লাহ (সা.) ইন্তেকাল অবধি রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করেছেন। তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর স্ত্রীগণও ইতিকাফ করেছেন।” (সহিহ বুখারি: ২০২৬)

২. লাইলাতুল কদর অন্বেষণ:

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।” (সুরা কদর, আয়াত: ৩)।

রমজানের শেষ দশকের যেকোনো বেজোড় রাতে এই মহিমান্বিত রজনী লুকিয়ে আছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, “তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে শবে কদর তালাশ করো।” (সহিহ বুখারি: ২০১৭)। ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯তম রাতে বিশেষ ইবাদতের মাধ্যমে কদর তালাশ করতে হবে।

৩. কদরের বিশেষ দোয়া পড়া

লাইলাতুল কদর পেলে কী দোয়া পড়তে হবে, তা রাসুল (সা.) শিখিয়ে দিয়েছেন। হজরত আয়েশা (রা.) রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি জানতে পারি যে আজ লাইলাতুল কদর, তাহলে আমি কী দোয়া পড়ব? তিনি বললেন, তুমি পড়বে—

“আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউয়ুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।”

(অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। কাজেই আমাকে ক্ষমা করে দিন।) —(সুনানে তিরমিজি: ৩৫১৩)

৪. কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ আদায়

শেষ দশকে রাতে না ঘুমিয়ে বেশি বেশি নফল নামাজ, বিশেষ করে তাহাজ্জুদ আদায় করা উচিত। রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদতে দাঁড়াবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।” (সহিহ বুখারি: ১৯০১)

৫. বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির

রমজান হলো কোরআন নাজিলের মাস। তাই শেষ দশকে কোরআন তিলাওয়াত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। পাশাপাশি চলতে-ফিরতে, উঠতে-বসতে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং বেশি বেশি ইস্তেগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করতে হবে। জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য “আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার” (হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন)—এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়া উচিত।

৬. দান-সদকা ও ফিতরা আদায়

রমজান মাসে যেকোনো নেক আমলের সওয়াব ৭০ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তাই শেষ দশকে বেশি বেশি দান-সদকা করা উচিত। কদরের রাতে দান করলে তা হাজার মাস বা ৮৩ বছর দান করার সওয়াব এনে দেবে। এছাড়া ঈদুল ফিতরের নামাজের আগেই গরিব-দুঃখীদের হক ‘সদকাতুল ফিতর’ আদায় করে দেওয়া এই দশকের অন্যতম করণীয়।

রমজানের প্রথম ২০ দিন যদি কোনো কারণে অবহেলায় চলেও যায়, তবু শেষ ১০ দিন হতে পারে ঘুরে দাঁড়ানোর মোক্ষম সুযোগ। দৌড় প্রতিযোগিতায় শেষ মুহূর্তে যেমন প্রতিযোগীরা সর্বশক্তি প্রয়োগ করে, মুমিনের জন্যও শেষ দশক হলো জান্নাত লাভের সেই চূড়ান্ত দৌড়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে রমজানের শেষ দশকে বেশি বেশি ইবাদত করার এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত পাওয়ার তওফিক দান করুন।