ঢাকা ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

যে মসজিদকে সাত পাহাড়ের মুকুট বলা হয়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • / 80
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের ফাতিহ জেলায় ঐতিহাসিক নগরপ্রাচীরের পাশে অবস্থিত এদিরনেকাপি মিহরিমাহ সুলতান মসজিদ। প্রখ্যাত অটোমান স্থপতি মিমার সিনানের নকশায় নির্মিত এই মসজিদ প্রাকৃতিক আলো ও অনন্য স্থাপত্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

অটোমান সুলতান সুলায়মান দ্য ম্যাগনিফিসেন্টের কন্যা মিহরিমাহ সুলতানের উদ্যোগে এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মিমার সিনানের নকশায় ১৫৬৩ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ১৫৬৬ সালে তা সম্পন্ন হয়। নির্মাণের পর থেকেই এটি নিয়মিত ইবাদতের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

ইস্তাম্বুলের সাতটি পাহাড়ের একটির ওপর উঁচু জায়গায় মসজিদটি নির্মিত। ফলে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে এটি সহজেই চোখে পড়ে। ইস্তাম্বুলের আকাশরেখায় এর একটি বিশেষ স্থান তৈরি হয়েছে।

মসজিদটির নামাজঘর প্রশস্ত এবং একটি বড় গম্বুজের নিচে অবস্থিত। খিলানভিত্তিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই গম্বুজ অটোমান ধ্রুপদি স্থাপত্যের একটি দৃষ্টিনন্দন উদাহরণ। নামাজঘরের দেয়ালে অসংখ্য জানালা রয়েছে, যার মাধ্যমে ভেতরে প্রচুর প্রাকৃতিক আলো প্রবেশ করে।

মসজিদের অভ্যন্তরে মার্বেলের কারুকাজ ও সূক্ষ্ম অলংকরণ এর শিল্পমূল্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মসজিদটিতে একটি মাত্র মিনার রয়েছে। এই কমপ্লেক্সে মাদরাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, সমাধি, হাম্মাম এবং বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা ছিল।

স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য এবং অবস্থানের কারণে এই মসজিদকে ইস্তাম্বুলের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একই সঙ্গে আলো ও স্থান ব্যবহারে মিমার সিনানের দক্ষতারও একটি অনন্য উদাহরণ এটি।

ইস্তাম্বুল মেডেনিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের তুর্কি-ইসলামিক শিল্প ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ড. বেলকিস দোগান বলেন, মসজিদটিতে নির্মাণসংক্রান্ত কোনো শিলালিপি না থাকলেও ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, মিহরিমাহ সুলতানের জন্য এটি নির্মাণ করেছিলেন মিমার সিনান। তিনি মূলত সুলতান সুলায়মান ও তার পরিবারের জন্যই তার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্যকর্মগুলো নির্মাণ করেছিলেন।

তিনি জানান, ইস্তাম্বুলে মিহরিমাহ সুলতানের নামে দুটি মসজিদ রয়েছে। অন্য সুলতানারা সাধারণত রাজধানীর বাইরে স্থাপনা নির্মাণ করলেও মিহরিমাহ সুলতানের নামে রাজধানী শহরেই দুটি মসজিদ নির্মিত হয়েছে, যা তাকে বিশেষভাবে আলাদা করে তুলে।

মসজিদের অবস্থান ও নকশা প্রসঙ্গে ড. দোগান বলেন, নগরপ্রাচীরের ভেতরে ইস্তাম্বুলের সাত পাহাড়ের মধ্যে সবচেয়ে উঁচু স্থানে এটি নির্মিত হয়েছে। ফলে শহরের প্রায় সব দিক থেকেই এটি স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এটি মিমার সিনানের পরবর্তী শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকর্মগুলোর পূর্বসূরি হিসেবেও বিবেচিত হয়।

মসজিদের প্রধান নামাজঘর বর্গাকার হলেও পাশের অংশগুলোতে তিনটি করে ছোট গম্বুজ যুক্ত করে সিনান এটিকে আয়তাকার রূপ দিয়েছেন। প্রায় ২০ মিটার বিস্তৃত প্রধান গম্বুজটি সে সময়ের জন্য বেশ বড় এবং স্থাপত্যগত দৃষ্টিতে এটি ছিল একটি সাহসী উদ্যোগ।

ড. দোগান বলেন, উস্কুদারে অবস্থিত মিহরিমাহ সুলতান মসজিদের তুলনায় এদিরনেকাপির মসজিদটি অনেক বেশি উজ্জ্বল ও প্রশস্ত মনে হয়। মূল গম্বুজের সহায়ক দেয়ালগুলোতে অসংখ্য জানালা থাকার কারণেই ভেতরে এত বেশি আলো প্রবেশ করে। সে সময়ের স্থাপত্যে এটি ছিল এক ধরনের পরীক্ষামূলক ও সাহসী প্রয়াস।

অটোমান স্থাপত্যরীতির মতো এই মসজিদও একটি বড় কুল্লিয়ের অংশ। মসজিদকে কেন্দ্র করে এর আঙিনায় একটি মাদরাসা রয়েছে। পাশাপাশি এখানে একটি ছোট বাজার ও কার্যকর একটি হাম্মামও রয়েছে। মসজিদের ভেতরে থাকা সমাধিটি মিহরিমাহ সুলতানের নয়; এটি তার কন্যা আয়শে সুলতানের স্বামী সেমিজ আহমেদ পাশার।

ড. দোগান জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদের অনেক মূল অলংকরণ নষ্ট হয়ে গেছে। বিশেষ করে ১৭৬৬ সালের ভূমিকম্পে আঁকা অলংকরণের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া ধ্রুপদি অটোমান স্থাপনায় সাধারণত যে টাইলসের কারুকাজ দেখা যায়, এই মসজিদে তা তুলনামূলকভাবে কম।

প্রখ্যাত পর্যটক ও ইতিহাসবিদ এভলিয়া চেলেবির ভ্রমণকাহিনিতেও মসজিদটির উল্লেখ রয়েছে। তিনি মসজিদের মিহরাব, মিম্বর ও মাহফিলের অলংকরণকে অত্যন্ত শিল্পসম্মত বলে বর্ণনা করেছেন এবং এটিকে অন্যান্য সাম্রাজ্যিক মসজিদের মধ্যে রাজপ্রাসাদের মতো মর্যাদাসম্পন্ন স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ড. দোগান বলেন, ইস্তাম্বুলে মিহরিমাহ সুলতানের নামে দুটি মসজিদ থাকায় এ নিয়ে নানা লোককথাও প্রচলিত রয়েছে। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, উস্কুদারের মসজিদটি তুলনামূলক অন্ধকার হওয়ায় মিহরিমাহ সুলতান আরও আলোকোজ্জ্বল ও প্রশস্ত একটি মসজিদ নির্মাণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সেই চাহিদা পূরণ করতেই পরে মিমার সিনান এদিরনেকাপিতে এই মসজিদ নির্মাণ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তের কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ, রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ কৃষি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান, এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় সীমান্ত এলাকার ৮০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি জাতের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো অধিক উচ্চতার ফসলের পরিবর্তে ধানসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যে মসজিদকে সাত পাহাড়ের মুকুট বলা হয়

আপডেট সময় : ১০:৪৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের ফাতিহ জেলায় ঐতিহাসিক নগরপ্রাচীরের পাশে অবস্থিত এদিরনেকাপি মিহরিমাহ সুলতান মসজিদ। প্রখ্যাত অটোমান স্থপতি মিমার সিনানের নকশায় নির্মিত এই মসজিদ প্রাকৃতিক আলো ও অনন্য স্থাপত্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

অটোমান সুলতান সুলায়মান দ্য ম্যাগনিফিসেন্টের কন্যা মিহরিমাহ সুলতানের উদ্যোগে এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মিমার সিনানের নকশায় ১৫৬৩ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ১৫৬৬ সালে তা সম্পন্ন হয়। নির্মাণের পর থেকেই এটি নিয়মিত ইবাদতের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

ইস্তাম্বুলের সাতটি পাহাড়ের একটির ওপর উঁচু জায়গায় মসজিদটি নির্মিত। ফলে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে এটি সহজেই চোখে পড়ে। ইস্তাম্বুলের আকাশরেখায় এর একটি বিশেষ স্থান তৈরি হয়েছে।

মসজিদটির নামাজঘর প্রশস্ত এবং একটি বড় গম্বুজের নিচে অবস্থিত। খিলানভিত্তিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই গম্বুজ অটোমান ধ্রুপদি স্থাপত্যের একটি দৃষ্টিনন্দন উদাহরণ। নামাজঘরের দেয়ালে অসংখ্য জানালা রয়েছে, যার মাধ্যমে ভেতরে প্রচুর প্রাকৃতিক আলো প্রবেশ করে।

মসজিদের অভ্যন্তরে মার্বেলের কারুকাজ ও সূক্ষ্ম অলংকরণ এর শিল্পমূল্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মসজিদটিতে একটি মাত্র মিনার রয়েছে। এই কমপ্লেক্সে মাদরাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, সমাধি, হাম্মাম এবং বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা ছিল।

স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য এবং অবস্থানের কারণে এই মসজিদকে ইস্তাম্বুলের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একই সঙ্গে আলো ও স্থান ব্যবহারে মিমার সিনানের দক্ষতারও একটি অনন্য উদাহরণ এটি।

ইস্তাম্বুল মেডেনিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের তুর্কি-ইসলামিক শিল্প ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ড. বেলকিস দোগান বলেন, মসজিদটিতে নির্মাণসংক্রান্ত কোনো শিলালিপি না থাকলেও ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, মিহরিমাহ সুলতানের জন্য এটি নির্মাণ করেছিলেন মিমার সিনান। তিনি মূলত সুলতান সুলায়মান ও তার পরিবারের জন্যই তার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্যকর্মগুলো নির্মাণ করেছিলেন।

তিনি জানান, ইস্তাম্বুলে মিহরিমাহ সুলতানের নামে দুটি মসজিদ রয়েছে। অন্য সুলতানারা সাধারণত রাজধানীর বাইরে স্থাপনা নির্মাণ করলেও মিহরিমাহ সুলতানের নামে রাজধানী শহরেই দুটি মসজিদ নির্মিত হয়েছে, যা তাকে বিশেষভাবে আলাদা করে তুলে।

মসজিদের অবস্থান ও নকশা প্রসঙ্গে ড. দোগান বলেন, নগরপ্রাচীরের ভেতরে ইস্তাম্বুলের সাত পাহাড়ের মধ্যে সবচেয়ে উঁচু স্থানে এটি নির্মিত হয়েছে। ফলে শহরের প্রায় সব দিক থেকেই এটি স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এটি মিমার সিনানের পরবর্তী শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকর্মগুলোর পূর্বসূরি হিসেবেও বিবেচিত হয়।

মসজিদের প্রধান নামাজঘর বর্গাকার হলেও পাশের অংশগুলোতে তিনটি করে ছোট গম্বুজ যুক্ত করে সিনান এটিকে আয়তাকার রূপ দিয়েছেন। প্রায় ২০ মিটার বিস্তৃত প্রধান গম্বুজটি সে সময়ের জন্য বেশ বড় এবং স্থাপত্যগত দৃষ্টিতে এটি ছিল একটি সাহসী উদ্যোগ।

ড. দোগান বলেন, উস্কুদারে অবস্থিত মিহরিমাহ সুলতান মসজিদের তুলনায় এদিরনেকাপির মসজিদটি অনেক বেশি উজ্জ্বল ও প্রশস্ত মনে হয়। মূল গম্বুজের সহায়ক দেয়ালগুলোতে অসংখ্য জানালা থাকার কারণেই ভেতরে এত বেশি আলো প্রবেশ করে। সে সময়ের স্থাপত্যে এটি ছিল এক ধরনের পরীক্ষামূলক ও সাহসী প্রয়াস।

অটোমান স্থাপত্যরীতির মতো এই মসজিদও একটি বড় কুল্লিয়ের অংশ। মসজিদকে কেন্দ্র করে এর আঙিনায় একটি মাদরাসা রয়েছে। পাশাপাশি এখানে একটি ছোট বাজার ও কার্যকর একটি হাম্মামও রয়েছে। মসজিদের ভেতরে থাকা সমাধিটি মিহরিমাহ সুলতানের নয়; এটি তার কন্যা আয়শে সুলতানের স্বামী সেমিজ আহমেদ পাশার।

ড. দোগান জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদের অনেক মূল অলংকরণ নষ্ট হয়ে গেছে। বিশেষ করে ১৭৬৬ সালের ভূমিকম্পে আঁকা অলংকরণের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া ধ্রুপদি অটোমান স্থাপনায় সাধারণত যে টাইলসের কারুকাজ দেখা যায়, এই মসজিদে তা তুলনামূলকভাবে কম।

প্রখ্যাত পর্যটক ও ইতিহাসবিদ এভলিয়া চেলেবির ভ্রমণকাহিনিতেও মসজিদটির উল্লেখ রয়েছে। তিনি মসজিদের মিহরাব, মিম্বর ও মাহফিলের অলংকরণকে অত্যন্ত শিল্পসম্মত বলে বর্ণনা করেছেন এবং এটিকে অন্যান্য সাম্রাজ্যিক মসজিদের মধ্যে রাজপ্রাসাদের মতো মর্যাদাসম্পন্ন স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ড. দোগান বলেন, ইস্তাম্বুলে মিহরিমাহ সুলতানের নামে দুটি মসজিদ থাকায় এ নিয়ে নানা লোককথাও প্রচলিত রয়েছে। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, উস্কুদারের মসজিদটি তুলনামূলক অন্ধকার হওয়ায় মিহরিমাহ সুলতান আরও আলোকোজ্জ্বল ও প্রশস্ত একটি মসজিদ নির্মাণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সেই চাহিদা পূরণ করতেই পরে মিমার সিনান এদিরনেকাপিতে এই মসজিদ নির্মাণ করেন।